২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নজরুলজয়ন্তীর আগাম আয়োজন অনিন্দিতার ঠাকুরদার ঝুলি

নজরুলজয়ন্তীর আগাম আয়োজন অনিন্দিতার ঠাকুরদার ঝুলি
  • সংস্কৃতি সংবাদ

মনোয়ার হোসেন ॥ কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির আলোয় বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যাটি রাঙিয়ে দিলেন অনিন্দিতা কাজী। কখনও নিজেকে ভাসিয়ে দিলেন নজরুলের অবিনাশী বাণীমাখা সুরের ঝরণাধারায়। গানের মাঝেই আবার ছুটে গেলেন কবিতার দোলায়িত ছন্দমাখা পথের পানে। প্রাণবন্ত কণ্ঠে পাঠ করলেন দাদার রচিত কাব্যমালা থেকে। কখনও আবার দাদা ঠাকুর উঠে এলেন তার স্মৃতির অলিন্দে। সব মিলিয়ে এমনই বৈভময় ছিল আয়োজনটি। শিরোনাম ছিল ‘অনিন্দিতার ঠাকুরদার ঝুলি’।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (আইজিসিসি) গুলশান শাখা। জাতীয় কবির ১১৭তম জয়ন্তী উদ্্যাপনের অগ্রিম আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয় গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণে সাজানো হয় সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠান। শ্রোতাদের আলোড়িত করে আয়োজনকে বর্ণময় করে তোলেন কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি অনিন্দিতা কাজী। দাদার বিশাল সৃষ্টিসম্ভারের কিছুটা অংশ উজাড় করে দিলেন শ্রোতা-দর্শকদের নিবেদনে।

বেলী ফুলের মালায় আবৃত নজরুলের প্রতিকৃতির সামনে আসেন অনিন্দিতা। আইজিসিসির পরিচালক জয়শ্রী কুন্ডু এ সময় শিল্পীকে পরিচয় করিয়ে দেন মিলনায়তন পরিপূর্ণ নজরুল অনুরাগীদের সঙ্গে। পরিবেশনার আগে সবার আশীর্বাদ কামনা করে বললেন, ছোটবেলা থেকেই নিজের মনের মাঝে গেরুয়া বর্ণের এক যোগীকে নিয়ে বাস করতেন দাদু। নিজের আলো ছড়িয়ে তিনি অন্যের আঁধার দূর করেছেন। হয়েছিলেন নতুন যুগের মানবতার বাতাবহ সঙ্গী।

কথা শেষ করেই চলে যান গানের অন্তরায়। গেয়ে শোনানÑ আমার গানের মালা আমি করবো কারে দান/ মালার ফুলে জড়িয়ে আছে করুণ অভিমান.../ নাম না জানা সেই তপতী তারি তরে গান/ মালা করব তারে দান।’ প্রথম গানেই জুড়িয়ে দিলেন শ্রোতার প্রাণ, কুড়িয়ে নিলেন করতালি। এরপর গান, কবিতা আর কথাকে যেন মালা গাঁথার মতো জড়িয়ে নিলেন এক সুতোয়। সুরের সঙ্গে বয়ে গেল কবিতার শব্দমালা। সেই সঙ্গে উঠে এলো সাম্যের কবির দুখু থেকে কাজী নজরুল হয়ে ওঠার আখ্যান। কখনও জাতীয় কবির শিক্ষাজীবন, কখনও লেটোর দলে যোগদান, দেশপ্রেমের টানে সৈনিক হওয়া কিংবা উচ্ছল ও চঞ্চল নজরুলের বিনা টিকেটে রেল ও জাহাজে করে ঢাকায় আগমনের কথা। ছিল তার প্রেমের কথাও। সেই সঙ্গে উপস্থাপিত হয় নজরুলের অনবদ্য সব সৃষ্টিকর্মের প্রেক্ষাপট। প্রায় দুই ঘণ্টার আয়োজনটি এগিয়ে চলে একই তালে।

নজরুলের যাপিতজীবন ব্যাখ্যা করে অনিন্দিতা কাজী বলেন, এক সময় তিনি দিনের বেলায় রুটির দোকানে কাজ করেছেন আর রাতের বেলা করেছেন পুঁথিপাঠ। নজরুলের মানবপ্রেমের কাছে সকল ধর্মই হয়ে গিয়েছিল সমান। এভাবেই হয়ে উঠেছিলেন সাম্যের কবি। অন্যদিকে এই মানুষটিই আবার ছিলেন ক্রীড়ামোদী। ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে বন্ধুদের এক করে ফেলতেন। যে দলে ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসুর মতো সাহিত্যিকরা। তুমুল আড্ডাবাজির বিষয়টি ছিল তার স্বভাবজাত। এমন করতে করতে তিনি বিনা টিকেটে ট্রেন আর লঞ্চে চড়ে চলে আসেন ঢাকায়। এমন অসংখ্য গল্প আছে তার আড্ডাবাজির।

রবীন্দ্র-নজরুলের সম্পর্কের কথাও উচ্চারিত হয় অনিন্দিতার কথায়। বলেন, দাদু কবিগুরুর আশীর্বাদ পেয়েছেন সব সময়। তাকে নিয়ে দাদু কবিতাও লিখেছিলেন। তিনি লিখেছিলেনÑ ‘হে কবি, হে ঋষি অন্তর্যামী আমারে করিও ক্ষমা।’ কবিতাটি আবৃত্তি করেও শোনান অনিন্দিতা।

দুই ঘণ্টার আয়োজনে অনিন্দিতা কাজী গেয়ে শোনানÑ ‘প্রজাপতি প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই, এমন রঙিন ডানা’, ‘এই সুন্দর ফুল, এই সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি, খোদা তোমার মেহেরবাণী’, ‘জানি জানি প্রিয় এ জীবনে মিটিবে সাধ’, ‘প্রিয় যাই যাই বলো না’, ‘পথ চলিতে যদি চকিতে কভু দেখা হয় পরাণপ্রিয়’, ‘ওরে নীল যমুনার জল, বল রে মোরে বল’সহ নজরুলের প্রচলিত ও অপ্রচলিত অনেক গান। আবৃত্তি করে শোনান ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান/ মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ’।

শাহীন সামাদের এ্যালবামের প্রকাশনা ॥ প্রকাশিত হলো একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী শাহীন সামাদের সঙ্গীত সংকলন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানম-ির ছায়ানট মিলনায়তনে নন্দিত এই কণ্ঠশিল্পীর ৪টি অডিও এ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ্যালবামগুলো প্রকাশ করেছে প্রযোজনা সংস্থা লেজার ভিশন।

অনুষ্ঠানে শিল্পীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি এ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান, বিশিষ্ট শিল্পী ফেরদৌসী রহমান ও বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীতশিল্পী খালিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেজার ভিশনের চেয়ারম্যান এ কে এম আরিফুর রহমান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিল্পী নিজ কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।

অসীম হালদারের ভাস্কর্য প্রদর্শনী ॥ সৃষ্টির অন্বেষায় ধাবমান এক তরুণ ভাস্কর অসীম হালদার সাগর। তার সেই সৃষ্ট শিল্পকর্ম নিয়ে ধানম-ির গ্যালারি টোয়েন্টিওয়ানে শুরু হলো মুভিং রুটস শীর্ষক সিরামিক্স ভাস্কর্য প্রদর্শনী। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ প্রদর্শনীর সূচনা হয়।

যৌথভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য ও সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থপতি সালাউদ্দিন আহমেদ।

ভাস্কর্যের মাধ্যমে এই শিল্পী একই সঙ্গে মেলে ধরেছেন জীবন ও সময়কে। চলমান ও প্রবহমানতায় উদ্ভাসিত সেই জীবন ও সময়। এছাড়াও অসীম এ সময়ের শিল্পের ও প্রবণতাসমূহের বিষয়ে কৌতূহলী। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেলবন্ধনে ঐতিহ্যবাহী সিরামিক্স গ্লেজ পদ্ধতিতে নির্মাণ করেছেন ভাস্কর্যগুলো। আর শিল্প সৃজনের ক্ষেত্রে শিল্পী প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্মিলন ঘটিয়েছেন। তাই তো তার শিল্পের মূল ভাবনা হিসেবে উঠে এসেছে শান্তিময় পৃথিবী।

প্রদর্শনীতে সব মিলিয়ে ঠাঁই পেয়েছে ৩০টি শিল্পকর্ম। আগামী ৩ জুন পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

‘রাঙাও ভুবন আপন আলোয়’ ॥ ‘উচ্চারিত প্রতিটি কথাই হোক শিল্প’ সেøাগানে বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি একাডেমি। সেই ধারাবকিতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহবাগে সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে পরিবেশিত হলো সংগঠনটির ৪৮তম প্রযোজনা ‘রাঙাও ভুবন আপন আলোয়’। আবৃত্তি একাডেমি ও ঋদ্ধস্বর আবৃত্তি একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এ আবৃত্তিসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। আবৃত্তি একাডেমির পরিচালক দিলশাদ জাহান পিউলীর সভাপতিত্বে অনষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চেতনা মডেল একাডেমির চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ সরকার, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাসকুর-এ সাত্তার কল্লোল প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ শেখানোর মহতী উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে আবৃত্তি একাডেমি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রমিত উচ্চারণের প্রশিক্ষণ কর্মসূচী সম্পন্ন করে প্রশিক্ষণার্থীরা দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ও শীর্ষ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করছে। আশা করি প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগ চলমান থাকবে।

অনুষ্ঠানে ২২টি কবিতা আবৃত্তি করা হয়। এতে আবৃত্তি একাডেমি থেকে অংশ নেন আবৃত্তিশিল্পী দিলশাদ জাহান পিউলী, কামরুল ইসলাম জুয়েল, সারমিন ইসলাম জুঁই, আবুবকর দাউদ তুহিন, মাহবুবুর রহমান, মহাসিনা এনা, ওয়াদুদ ফারুক, রেবেকা সুলতানা, আফসানা খন্দকার, আদনান সিফাত, মামুন আবদুল্লাহ।

এই মাত্রা পাওয়া