১৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেপথ্যে সন্ত্রাসীরা! ॥ মিসরীয় বিমান বিধ্বস্ত

  • ধ্বংসাবশেষের খোঁজে ভূমধ্যসাগরে ব্যাপক তল্লাশি

ভূমধ্যসাগরে বৃহস্পতিবার বিধ্বস্ত মিসরীয় বিমানটি সন্ত্রাসীরা ভূপাতিত করে থাকতে পারে বলে মিসরীয় ও রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিমান সংস্থা ইজিপ্ট এয়ারের ওই বিমানটিতে ৬৬ জন আরোহী ছিল এবং তাদের কারও বেঁচে থাকার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। প্যারিস থেকে কায়রোগামী ওই বিমানটির খোঁজে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাপক তল্লাশি চলতে থাকে গ্রীসের কারপাথস দ্বীপের কাছে চলমান তল্লাশি অভিযানে গ্রীক, মিসরীয়, ফরাসী ও ব্রিটিশ সামরিক ইউনিটগুলো যোগ দিয়েছে। গ্রীস জানায়, এয়ারবাসটি দু’বার দ্রুত গতিপথ পাল্টায় এবং ২৫ হাজারেরও বেশি ফুট ওপর থেকে সাগরে পড়ে বলে রাডারে দেখা যায়। বিমানের আরোহীদের বেশির ভাগই ছিল মিসর ও ফ্রান্সের নাগরিক। এখনও পর্যন্ত বিমানের কোন ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়নি। খবর বিবিসি ও ইয়াহুনিউজের।

মিসরের বিমান চলাচল মন্ত্রী শরীফ ফাথি সতর্ক করে দেন যে, ওই বিপর্যয়কর ঘটনা নিয়ে এখনও তদন্ত চললেও এটি কোন কারিগরি ব্যর্থতার চেয়ে বরং এক সন্ত্রাসী হামলা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

রাশিয়ার শীর্ষ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলেকজান্ডার বর্তনিকভ বলেন, এটির এক সন্ত্রাসী হামলা হওয়া ছাড়া আর কোন সম্ভাবনা দেখা যায় না।

জঙ্গীরা বিমানটি ভূপাতিত করেছে বলে তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দাবি করা হয়নি।

যদি এটি সন্ত্রাসী কাজ হয়ে থাকে, তবে এটি হবে সাত মাসের মধ্যে মিসরীয় বিমান চলাচল শিল্পকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় মারাত্মক হামলা।

গত অক্টোবরে একটি রুশ যাত্রীবাহী বিমান মিসরের লোহিত সাগরীয় এক অবকাশ কেন্দ্র থেকে আকাশে উড়ার পর সিনাইতে বিধ্বস্ত হলে এর ২২৪ আরোহীর সবাই নিহত হয়। এটি এক বোমা বিস্ফোরণে ভূপাতিত হয় বলে রাশিয়া জানায়। জঙ্গী দল ইসলামিক স্টেটের এক স্থানীয় শাখা এর দায়িত্ব স্বীকার করে।

বৃহস্পতিবারের বিপর্যয় বর্তমান সময়ে দ্য গল বিমান বন্দরের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। অথচ এ সময়ে প্যারিস ও ব্রাসেলস বিমানবন্দর এবং সানওয়েতে গত ছয় মাসে ইসলামী চরমপন্থীদের চালানো ভয়াবহ হামলাগুলোর প্রেক্ষিতে পশ্চিম ইউরোপ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ মার্ক আয়রনাত বলেন, ফ্রান্সে আগামীতে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্সশিপ খেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে ওই ঘটনার আগেই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়।

মিসরীয় সেনাবাহিনী বিধ্বস্ত বিমানটি থেকে কোন বিপদসঙ্কেত পায়নি বলে জানায়। পাইলট এরূপ কোন সঙ্কেত পাঠাননি বলে বিমানবন্দরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সরকারী দৈনিক আল আহরাম জানায়। এ থেকে মনে হয়, যে কারণেই বিমানটি সাগরে পড়েছিল না কেন, তা অকস্মাতই ঘটেছিল।

বিমানটির এদিক-ওদিক ঘুরপাক খাওয়া থেকে কতগুলো সম্ভাবনা অনুমিত হয়, যেমন- যন্ত্রপাতি মারাত্মকভাবে বিকল হয়ে যাওয়া, কোন বোমা বিস্ফোরণ বা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ককপিটে কোন ছিনতাইকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি।

মিসরের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেন, চরমপন্থীদের সঙ্গে কোন যাত্রীর যোগাযোগ ছিল কিনা, তা দেখতে তারা যাত্রীদের অতীত বৃত্তান্ত পরীক্ষা করে দেখছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার তদন্ত কাজে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এফবিআইয়ের ডিরেক্টর জেমস কামি বলেন, বিমানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভূপাতিত করা হয়েছিল বলে সংস্থার হাতে এখনও কোন প্রমাণ নেই।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেন, যখন আমরা সত্যিকারের ঘটনা জানতে পারব, তখন আমরা সেটি দুর্ঘটনা ছিল, না সন্ত্রাসী কাজ ছিল, সেই সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্র্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পরপরই টুইটারে বলেন, এটি আরও একটি সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে হয়। কখন আমরা কঠোর, বুদ্ধিমান ও সতর্ক হব?

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অগ্রগামী মনোনয়নপ্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে বলেন, এটি এক সন্ত্রাসীকাজ বলে অবশ্যই মনে হয়। ঠিক কিভাবে তা ঘটেছিল, সেটি তদন্ত থেকেই জানা যাবে। কিন্তু এটি আমরা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দলগুলোর কাছ থেকে যে হুমকির মুখে রয়েছি, তা আবারও খুবই স্পষ্ট করে তুলে ধরে।