২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘আমাদের জামাল ভুঁইয়ার মতো আরও খেলোয়াড় দরকার’

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ তাজিকিস্তানের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের প্লে-অফ ম্যাচের আগে একমাসের জন্য পুরনো লোডভিক ডি ক্রুইফকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এর আগেও বাংলাদেশের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাতীয় দল সাফল্য পেলেও (বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে রানার্সআপ, ২০১৫ সালে) বাফুফের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করার কারণে বেশ বিতর্কিত হন এই ডাচ কোচ। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ক্রুইফের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ করার পর তা আর বৃদ্ধি করেনি বাফুফে।

ক্রুইফ এসেছেন গত ১৭ মে। সেদিন থেকেই দলকে অনুশীলন করাচ্ছেন। চারদিন হয়ে গেল। এই সময়টায় দলের খেলোয়াড়দের কেমন দেখছেন? দলকে এর আগে যে পর্যায়ে রেখে গিয়েছিলেন, এখন সেই দলটা কোন্ অবস্থায় আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রুইফ বলেন, ‘যে সময়টাতে আমি বাংলাদেশে ছিলাম না, তখনও আমি এদেশের ফুটবলের খোঁজ-খবর নিয়েছি। বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিনের সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। শাস্তিপ্রাপ্ত চার ফুটবলার নিয়েও কথা বলেছি। দলের স্বার্থে তাদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বুঝিয়েছি। আমি খুশি যে, দেরিতে হলেও তাদের প্রায় সবাই আবারও দলে ফিরেছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক।’

ক্রুইফ আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় না, এই দলটা খুব একটা খারাপ অবস্থায় আছে। কেননা এ সময়টাতে তারা সবাই খেলার মধ্যেই ছিল। এই দল নিয়ে সব সময়ই ভাল কিছু করার সামর্থ্য আগেও ছিল, এখনও আছে।’

নিজের অনুপস্থিতির সময়টায় যে বাংলাদেশে ফুটবলের চরম অবনতি হয়েছিল, সেটা মনে করিয়ে দেন ক্রুইফ, ‘আমি মনে করি গত এক বছরে বাংলাদেশের ফুটবল সঠিক কক্ষপথে ছিল না। সেই খারাপ পরিস্থিতি থেকে এখন আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কিছু অর্জন করা। এজন্য প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে ফুটবলারদের ওপর সবার আস্থা ফিরিয়ে আনা। এজন্য ছেলেরা কঠোর অনুশীলন করছে, তারা দায়বদ্ধ।’

আগামী ২ জুন তাজিকিস্তানের সঙ্গে এ্যাওয়ে ম্যাচ প্রসঙ্গে ক্রুইফের ভাষ্য, ‘গত বছর বিশ^কাপ বাছাইয়ে তাজিকিস্তানের সঙ্গে হোম ম্যাচে আমরা অল্পের জন্য জিততে পারিনি। এক গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ শেষ হবার মাত্র কয়েক মিনিট আগে দুর্ভাগ্যজনকভাবে গোল খেয়ে ড্র করি। আমাদের অবশ্যই সে ম্যাচে জেতা উচিত ছিল। এমন ম্যাচে জিততে না পারার হতাশা থেকেই ছেলেরা একই দলের সঙ্গে এ্যাওয়ে ম্যাচে পাঁচ গোলে হেরে যায়। এবার আমি আশাবাদী ওদের মাটিতে অন্তত আমরা হারবো না এবং নিজের মাটিতে জয়ের আশাই করছি। এ ব্যাপারে আত্মবিশ^াসী।’

বিশে^র বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফুটবলার। ক্রুইফের পরামর্শেই তাদের খুঁজে বের করে বা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাংলাদেশে এনে ট্রায়াল দিয়ে বাছাই করা হয়েছিল। সেই প্রজেক্টেরই সফল ফসল হলেন জামাল ভুঁইয়া। তবে ওই একজনই। অনেককে বাজিয়ে দেখা হলেও জামালের মতো কোয়ালিটি ফুটবলারের সন্ধান আর পায়নি বাফুফে। এবার কি ক্রুইফ আবারও সে রকম কোন প্রজেক্টে হাত দেবেন? এ প্রসঙ্গে ক্রুইফের ভাষ্য, ‘আমি এখানে এসেছি একমাসের চুক্তিতে। হাতে সময় খুবই কম। কাজেই এই সময়ের মধ্যে আয়োজন করে আরেকজন জামাল ভুঁইয়ার মতো ফুটবলারকে খুঁজে বের করা আপাতত সম্ভব নয়। তবে বাস্তবতা হলো, জামালের মতো আরও কয়েকজন ফুটবলারই এখন দরকার আমাদের। যদি আমি আগামীতেও কোচ হিসেবে দলে থাকি, তাহলে অবশ্যই ভবিষ্যতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। এ ব্যাপারে আমার ইতোমধ্যে কথাও হয়েছে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে।’

শাস্তি মওকুফ হওয়াতে দলে ফিরেছেন মামুনুল ও সোহেল রানা। জাহিদ হোসেন ক্ষমা চাইলেও বাবার অসুস্থতার কারণে এখনও দলে যোগ দেননি। ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান এখনও ক্ষমা চাননি। তিনি ইতোমধ্যেই জানিয়েছিলেন, তিনি যেহেতু নিজেকে অপরাধী মনে করেন না, সেহেতু জাতীয় দলে ফিরতে তিনি কখনই বাফুফের কাছে ক্ষমা চাইবেন না। বিশ^কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ৩০টির বেশি গোল হজম করেছে। এখন যদি ইয়াসিনের মতো নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারকে না পায়, তাহলে কি বাংলাদেশের রক্ষণভাগ আরও দুর্বল হয়ে পড়বে না এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের প্লে-অফ ম্যাচে তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে? ‘কোন সন্দেহ নেই ইয়াসিন ভাল ডিফেন্ডার। দলের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। তাজিক ফরোয়ার্ডরা দীর্ঘদেহী। ডেড বলে তারা ভয়ঙ্কর। ওদের মাটিতে খেলতে গেলে অবশ্যই আমাদের রক্ষণে চাপ পড়বে। সেক্ষেত্রে ইয়াসিনের মতো খেলোয়াড়ের দরকার। তবে হোম ম্যাচে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে আমরা অনেক কিছুতে এগিয়ে থাকব। সেক্ষেত্রে ডিফেন্সের ভূমিকা হবে কিছুটা ভিন্ন। এবার ইয়াসিন খেলতে না পারলেও আশা করব আগামীতে সে ঠিকই দলে ফিরবে।’ ক্রুইফের শেষ কথা।

এখন দেখার বিষয়, আগামী ২ জুনের এ্যাওয়ে ম্যাচে ক্রুইফের কথার সঙ্গে কাজের কতটা সমন্বয় ঘটাতে পারে মামুনুলরা।