১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্রুইফের কাটছাঁট ৩৬ থেকে কমে ৩০

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইঙ্গিতটা দিয়েছিলেন আগেই। জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব নতুনভাবে নিয়েই জানিয়েছিলেন, কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, আস্থা রাখতে চান পুরনোদের ওপরেই। যেই কথা, সেই কাজ। চার দিন অনুশীলন করানোর পর দলের পরিধি কমাতে কাটছাঁট প্রক্রিয়া শুরু করেছে দলের হেড ও ডাচ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ। ৩৬ জন থেকে পাঁচজনকে বাদ দিয়েছেন। বাদ পড়াদের সবাই নতুন মুখ। এরা হলেন- রহমতগঞ্জের দুই ফরোয়ার্ড নুরুল আবসার, মান্নাফ রাব্বি; চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের মিডফিল্ডার কৌশিক বড়ুয়া, উত্তর বারিধারার মিডফিল্ডার খালেকুজ্জামান সবুজ এবং বিজেএমসির উইঙ্গার সৈকত মাহমুদ। আগেরদিন চোটের কারণে ক্যাম্প ছেড়েছিলেন শেখ রাসেলের ডিফেন্ডার আতিকুর রহমান মিশু। তার মানে ৩৬ থেকে কমে স্কোয়াডে ফুটবলারের সংখ্যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৩০-এ।

এর আগে গত ১১ মে প্রাথমিক ক্যাম্পে ৩৪ জনকে ডেকেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় সোহেল রানা ও মামুনুল ইসলাম যোগ দেন। প্রাথমিক দলে এবার ডাক পেয়েছিলেন ছয় নতুন মুখ। এদের মধ্যে পাঁচজনই বাদ পড়ায় থাকলেন শুধু রহমতগঞ্জের ফরোয়ার্ড সৈয়দ রাশেদ তূর্য।

পাঁচজন বাদ পড়া প্রসঙ্গে ক্রুইফ বলেন, ‘অবশ্যই তারা ভাল খেলোয়াড়। তবে আরও পরিপক্বতা ও সময় প্রয়োজন। তাজিকিস্তানের দুটি ম্যাচের আগে আমি নতুন করে কাউকে বেশি সময় দিতে পারছি না। তবে আমি এদের দুই-তিন জনের মাঝে ভবিষ্যতের দায়িত্বভার নেয়ার মতো গুণাবলী দেখতে পেয়েছি।’

এদিকে জাতীয় দলের তালিকায় না থাকলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে যোগাযোগ করে দুইদিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছিলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সুইডিশ প্রবাসী জোসেফ নূর রহমান। তাকেও বিদায় জানানো হয়েছে। জোসেফ সম্পর্কে ক্রুফের মন্তব্য, ‘আমার বর্তমান পরিকল্পনার সঙ্গে তাকে এখন অন্তর্ভুক্ত করা কঠিন। পরবর্তীতে পুনরায় বিবেচনা করা হবে।’

উল্লেখ্য, আগামী ২ জুন তাজিকিস্তানে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের প্লে-অফ ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ। এ্যাওয়ে ম্যাচ খেলার জন্য ২৯ মে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। মূল স্কোয়াড হবে ২৩ জনের। তার মানে বাদ পড়বেন আরও সাতজন। কে হবেন সেই হতভাগা সাতজন?

এএফসি অনুর্ধ-১৬ মহিলা ফুটবলের স্বাগতিক বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনে (এএফসি) অনুর্ধ-১৬ মহিলা ফুটবল-২০১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্বের ড্র মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার। এতে ২০ দল চার গ্রুপে খেলবে।

বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কিরগিজস্তান, ইরান, চাইনিজ তাইপে ও সিঙ্গাপুর।

বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপের আয়োজক। এই আসরে গত বাছাই পর্বেও নিজেদের গ্রুপের স্বাগতিক ছিল বাংলাদেশ। আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হবে এই প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে চার ভেন্যুতে হবে এই টুর্নামেন্ট।

চার ভেন্যুর চ্যাম্পিয়ন চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। আর গত আসরে চূড়ান্ত পর্বের চার সেমিফাইনালিস্ট সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। ২০১৭ সালে মূলপর্ব হবে থাইল্যান্ডে। থাইল্যান্ড গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে ওই গ্রুপের রানার্সআপ দল চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। একইদিন অনুর্ধ-১৯-এরও ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অবশ্য অনুর্ধ-১৯-এ এন্ট্রি করেনি।

শিক্ষার অভাবই ডোবাচ্ছে পাকিস্তানকে!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পাকিস্তানী ক্রিকেটারদের একাডেমিক শিক্ষায় ঘাটতির কথা অনেকেরই জানা। বিশেষ করে ইংরেজীতে দুর্বলতাটা স্পষ্ট। দলের নৈপুণ্যে এটি বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান। ‘এই মুহূর্তে মিসবাহ-উল হক ছাড়া দলে আর কোন গ্রাজুয়েট (অন্তত সম্মান ডিগ্রিধারী) ক্রিকেটার নেই। দলে শিক্ষিত খেলোয়াড়ের অভাবই সাম্প্রতিক ভরাডুবির প্রাথমিক কারণ। ভবিষ্যতে আমরা দলে শিক্ষিত খেলোয়াড় আনতে এবং দলের খেলোয়াড়দের শিক্ষায় উৎসাহিত করবো।’ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন শাহরিয়ার। ইংরেজীতে পারদর্শিতার অভাবে বিদেশী কোচের সঙ্গে ক্রিকেটারদের ভাববিনিময়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা বলেও মনে করছেন তিনি।

এছাড়া ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলা এবং ফিটনেস নিয়েও খোলাখুলি মন্তব্য করেন শাহরিয়ার, ‘আহমেদ শেহজাদ ও উমর আকমল শৃঙ্খলাজনিত কারণেই দলে নেই। এটা পরিষ্কার করে দিতে চাই যে ভবিষ্যতে আর শৃঙ্খলা ও ফিটনেস নিয়ে কোনরকম আপোস করা হবে না। এই কারণে নতুন ফিটনেস টেস্ট নিচ্ছি আমরা। দল ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে বুট ক্যাম্প হচ্ছে মিলিটারি ট্রেনারদের অধীনে।’ অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের বিচারে তার এই বক্তব্যের মূল্য অনেক। শিক্ষার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকে। ভিনদেশী কোচের কাছ থেকে চাওয়া পূরণ করা, ফিটনেসের গুরুত্ব বোঝা, এমনকি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও। সবমিলিয়ে তাই শিক্ষাটাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পিসিবির শাহরিয়ার। পাকিস্তানের অধিকাংশ ক্রিকেটারের ফিটনেস ও শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা রয়েছে। প্রতিভার কারণেই তারা বার বার উতড়ে যান। শাহরিয়ার এবার কঠোর।

বিওএ’র সাত

সিদ্ধান্ত

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বৃহস্পতিবার কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোঃ শফিউল হক এনডিসি, পিএসসি’র সভাপতিত্বে বিওএ’র কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাতটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এগুলো হলো : ১. বিওএ’র বর্তমান গঠনতন্ত্রটি আরও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংযোজন এবং সংশোধন প্রস্তাবনা আকারে উপস্থাপনের জন্য বিওএ’র সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন, ২. দ্বাদশ এসএ গেমসে অংশগ্রহণকারী দলসমূহের ফল মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে ভাল ফল অর্জনের লক্ষ্যে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে সে বিষয়ে একটি সুপারিশমালা উপস্থাপনের জন্য বিওএ’র উপ-মহাসচিব বাদল রায়কে সভাপতি করে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠন, ৩. বিওএ’র ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত, ৪. উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দেয়া, যুব সমাজকে খেলাধুলার প্রতি আরও আকৃষ্ট করা এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড় অন্বেষণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো যুব বাংলাদেশ গেমস আয়োজনের বিষয়ে প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এবং বিওএ’র উপ-মহাসচিব কর্তৃক উপস্থাপিত প্রতিবেদনটি সভায় আলোচিত হয়। প্রতিবেদনটি আরও অধিকতর পর্যালোচনা এবং গেমসটি আয়োজনের পদ্ধতি, বাজেট, ডিসিপ্লিন সংখ্যা, আয়োজনের সময় ইত্যাদি বিষয়ে চূড়ান্তকরণের জন্য বিওএ’র কার্যনির্বাহী কমিটির সব সদস্যের মতামতসহ প্রতিবেদনটি পরবর্তী কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত, ৫. আগামী ৩ জুন বিওএ’র উদ্যোগে ঢাকাসহ ৭টি বিভাগীয় শহরে অলিম্পিক ডে ২০১৬ উদযাপন করা হবে। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৪ জুন বিকেলে অলিম্পিক ভবনে স্পোর্টস এ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিষয়ে একটি সেমিনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত, ৬. আগামী ৬-১৭ জুলাই রাশিয়ার ইয়াকুশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য চিলড্রেন অব এশিয়া ইন্টারন্যাশনাল গেমসে আরচারি, শূটিং, তায়কোয়ানদো এবং দাবা খেলায় বাংলাদেশ থেকে দল প্রেরণের সিদ্ধান্ত এবং ৭. আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ভিয়েতনামের ডা নাং শহরে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান বিচ গেমসে বিচ কাবাডি (মহিলা), বিচ ভলিবল (পুরুষ), বিচ হ্যান্ডবল (মহিলা), ৩ গুণিতক ৩ বাস্কেটবল (পুরুষ) এবং বিচ এ্যাথলেটিক্স খেলায় বাংলাদেশ থেকে দল প্রেরণের সিদ্ধান্ত।

বেয়ারস্টোর দুরন্ত সেঞ্চুরি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ হেডিংলি টেস্টে দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ইংল্যান্ডকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করলেন জনি বেয়ারস্টো। শুক্রবার দ্বিতীয়দিনের প্রথম ইনিংসে ২৯৮ রানে (৯০.৩ ওভার) অলআউট হয়েছে স্বাগতিক ইংলিশরা। যেখানে বেয়ারস্টো একাই করেছেন ১৪০ রান। তাও আবার সাত নম্বরে নেমে। অসাধারণ খেলেছেন ইয়র্কশায়ারের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এক পর্যায়ে ৭০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। দলকে আরও বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচান ওপেনার এ্যালেক্স হেলস ও সেঞ্চুরিয়ান বেয়ারস্টো। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৪০.৩ ওভারে ১৪১ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন দু’জনে। ৮৬ রান করে আউট হন ওপেনার হেলস। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলেও ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন বেয়ারস্টো। ১৮৩ বলে ১৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৪০ রান করে দুশমন্থা চামিরার বলে নুয়ান প্রদীপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ২৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে (২০১২-২০১৬) এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। বছরটা দারুণ কাটছে ২৬ বছর বয়সী প্রতিভাবান উইলোবাজের। জানুয়ারিতেই পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। কেপটাউনে প্রতিকূল পরিবেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন অপরাজিত ১৫০ রানের অসাধারণ ইনিংস। হেডিংলিকেও বিশেষভাবে মনে রাখবেন বেয়ারস্টো। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এখানেই ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরির একটি পেয়েছিলেন। এবার ইংল্যান্ডকে উদ্ধার করলেন ভরাডুবি থেকে কঠিন সময়ে। শ্রীলঙ্কার হয়ে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন পেসার দাশুন শানাকা ও দুশমান্থ চামিরা।