২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফুটপাথ থেকে ফাইভস্টার সর্বত্র চলবে ভেজাল বিরোধী অভিযান

  • রমজানে মাঠে নামবে র‌্যাব

আজাদ সুলায়মান ॥ ফুটপাথ থেকে ফাইভস্টার, বাদ যাবে না কোন কিছুই। যেখানেই সন্দেহ থাকবে ভেজালের, সেখানেই চলবে অভিযান। যত প্রভাবশালীই হোক, ছাড় দেয়া হবে না কাউকেই। এবারের রমজানে এমন কৌশল নিয়েই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে র‌্যাব। শুধু রাজধানী নয়, দেশের সর্বত্র চলবে এ অভিযান। এর বাইরে যেখানেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাবে- সেখানেই হানা দেবে র‌্যাব পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাব পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, এবার রমজানের প্রস্তুতি আগেভাগেই নেয়া হয়েছে। ভেজাল খাবার ও পণ্য বিক্রি ঠেকানোর পাশাপাশি রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৎপর থাকবে র‌্যাব।

জানা যায়, রাজধানীতে র‌্যাব সদর দফতর ছাড়াও প্রতিটি ব্যাটালিয়নের নিজস্ব উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে। নিজস্ব রুটিনের বাইরেও যদি কোন সোর্স সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারে, তাতেও আকস্মিক সাড়া দেবে এ আদালত।

কতগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকছে- জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, এ রকম কোন সুনির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে বিচার করা হবে না। যখন যেখানে হানা দেয়ার প্রয়োজনÑ সেখানেই চলবে আদালতের অভিযান। সাধারণত দেখা যায়, রমজানে দুপুরের পর থেকে মাগরিবের আজানের আগ পর্যন্ত ফুটপাথ থেকে ফাইভস্টার পর্যন্ত ইফতার কেনার ধুম লেগে থাকে। প্রচ- ভিড় ও ব্যস্ততার সুযোগটাকেই কাজে লাগায় অসৎ ব্যবসায়ীরা। ওজনে কম দেয়া ও ভেজাল পণ্য বিক্রিসহ নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকা-ে লিপ্ত হয় দোকানিরা। পণ্য ভেজাল কিনাÑ তার সঠিকতা নির্ণয় করার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আশ্রয় নেবে র‌্যাব। যেমন আমে ফরমালিন আছে কিনাÑ তা গ্রহণযোগ্য কীটের মাধ্যমেই পরীক্ষা করা হবে। ওজন আছে কিনাÑ তা যাচাই করার জন্য নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল মাপযন্ত্রক সঙ্গে রাখা হবে।

মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পণ্য ঠিক আছে কিন্তু মাপে বা গণনায় ফাঁকির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। যেমন এক শ’ লিচু কিনে বাসায় নিয়ে গুনে দেখা যায় দশটা কম। এমন তো হরহামেশাই হচ্ছে। এবারের রমজানে তো লিচুর বাজার তুঙ্গে থাকবে। রোজাদাররা যেমন লিচুর প্রতি আগ্রহী থাকবেÑ তেমনি অসাধু ব্যবসায়ীরাও এ সুযোগ কাজে লাগাবে। হয় দাম বেশি রাখবে, না হয় গণনায় কম দেবে। র‌্যাবের আদালত যদি লিচুর গণনায়ও কম দেয়ার ঘটনা দেখতে পায়Ñ তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, রমজানের আগেই মাঠপর্যায়ের বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে র‌্যাব। পরিচিত হোটেল রেস্টুরেন্ট ও ফুটপাথ ছাড়াও বেশকিছু অভিজাত এলাকায় বিশেষ তাবু টানিয়ে গড়ে তোলা হয় নামী-দামী ইফতার মার্কেট। বিশেষ করে বেইলী রোড, কাকরাইল, শাহীন মার্কেট, ফার্মগেট কাওরানবাজার, গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন মহল্লায় এ ধরনের ইফতার মার্কেট গড়ে তোলা হয়, যা চলে চাঁদরাত পর্যন্ত। এসব ইফতারের দোকানে বেচাকেনার ধুম লেগে যায়। সুস্বাদু নানান রকমের বাহারি ইফতারের পসরা সাজানো থাকলেও ক্রেতা কখনও পেছনে গিয়ে দেখার সুযোগও প্রয়োজন মনে করে না। তুলনামূলক অন্যদের তুলনায় ক্রেতারা এ ধরনের মাসিক আউটলেটে গিয়ে চড়া দামে ইফতার কিনে আজানের আগেই ঘরে ফেরার ব্যস্ততায় থাকে। অথচ কেউ কখনও একটিবারও প্রশ্ন করেনি এসব খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত। গতবার বেইলী রোডের একটি ইফতারের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, সামনের ডালায় সাজানো বাহারি সব ইফতার আইটেম। কিন্তু একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত যখন ওই দোকানের পেছনে গিয়ে রান্নার উপাদান সরেজমিন পরিদর্শন করলেন, তখন তিনি বিস্মিত হয়ে যান। দেখতে পানÑ যে তেল দিয়ে বেগুনি ভাজা হচ্ছে সেটা চার দিনের পোড়া। বার বার একই তেল পোড়ার পরও তাতে আবারও ইফতার পণ্য ভাজা হচ্ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, এ ধরনের পোড়া তেল বার বার ব্যবহার করা হলে সে খাবার খাওয়াটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ওই একই দোকানে আরও চোখে পড়ে, টেক্সটাইল মিলের কাপড়ে ব্যবহৃত রং দিয়ে ইফতার আইটেম তৈরি হচ্ছে। এ খাবার খেলে ইফতারের পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এটা জেনেও অসাধু দোকানিরা বিষাক্ত রং দিয়েই ইফতার সামগ্রী তৈরি করে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, গত বছর রমজানে যেসব প্রতিষ্ঠান ও মার্কেটে ভেজালের দায়ে শাস্তি দেয়া হয়েছিল, সেগুলোতে এবারও যদি তেমন অপরাধ ধরা পড়ে তাহলে দ্বিগুণ শাস্তি দেয়া হবে। পুরনো তথ্য হাতে নিয়ে এবারও নজরদারিতে রাখা হবে ওইসব প্রতিষ্ঠান।