২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দূরপাল্লার বাস ভাড়া কমেনি, যাত্রীদের ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একদফা পিছিয়েও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি দূরপাল্লার বাসভাড়া। শুক্রবার বেশিরভাগ পরিবহন আগের ভাড়া আদায় করেছে যাত্রীদের কাছ থেকে। তাছাড়া কাউন্টারে নতুন ভাড়ার তালিকাও টানানো হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তবে পরিবহন মালিকরা বলছেন, কিছু-কিছু রুটে ইতোমধ্যে নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব রুটেই সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করার কথা জানিয়েছেন তারা। গত ৩ মে ডিজেলে চালিত দূরপাল্লার পরিবহনের ভাড়া ৩ পয়সা কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরী ছাড়া আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১ টাকা ৪২ পয়সা করা হলো। যা ১৫ মে থেকে কার্যকরের নির্দেশও দেয়া হয়।

কিন্তু বাসমালিক সমিতি তা কার্যকর করেনি। দ্বিতীয় দফায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচদিন সময় বাড়িয়ে শুক্রবার থেকে ভাড়া কমানোর নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়। সরকার দ্বিতীয় পর্বে ভাড়া কমানোর দিন-ক্ষণ ঠিক করে দিলেও বাস্তবে ঘটছে উল্টো চিত্র। আগের ভাড়াই রাখা হয় যাত্রীদের কাছ থেকে।

গত ১৫ মে বাসভাড়া কার্যকরের প্রথম দিন বেলা ১১টায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেন। তিনি যাত্রী ও বাস মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মন্ত্রী বুঝে ফেলেন আগের ভাড়াই রাখা হচ্ছে। এতে তাৎক্ষণিক ক্ষোভও দেখান সড়কমন্ত্রী। পরে বাস মালিক সমিতির অনুরোধে আরও পাঁচদিন সময় দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘আগামী ২০ মে থেকে ডিজেলচালিত পুনঃনির্ধারিত বাসভাড়া কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। কেউ এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সেতুমন্ত্রী মালিকদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

শুক্রবার রাজধানীর কমলাপুর, কল্যাণপুর, গাবতলীতে গিয়ে দেখা গেছে সব ডিজেলচালিত দূরপাল্লার কাউন্টারে আগের ভাড়াই রাখা হচ্ছে। কোন কাউন্টারেই কোন ভাড়ার তালিকা টানানো হয়নি। দিনাজপুর হিলির যাত্রী জুয়েল রানা। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার হিলি থেকে ৪৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে ঢাকায় এসেছেন। শুক্রবার সকাল সোয়া ৯টায় কল্যাণপুর এস আর প্লাস পরিবহনে তার কাছে ৪৫০ টাকাই রাখা হয়েছে। এসআর প্লাসের টিকিট মাস্টার জয়নাল মিয়া জানান, দূরত্ব অনুযায়ী এমনিতেই ভাড়া কম রাখা হয়। এছাড়া মালিক পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তাই আগের ভাড়া রাখা হচ্ছে।

গাবতলী বাসটার্মিনাল থেকে আন্তঃজেলা শহরে চলাচলকারী বিভিন্ন গণপরিবহনেও আগের ভাড়া রাখা হচ্ছে। মানিকগঞ্জের বালিরটেক যাত্রী মো. বাদল মিয়া। তিনি জানান, গাবতলী থেকে বালিরটেক ভাড়া আগে ছিল ৭০ টাকা। আজও শক্রবার যাত্রীপ্রতি ৭০টাকা রাখা হচ্ছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ জনকণ্ঠকে বলেন, আমি যতদূর খবর পেয়েছি কিছু কিছু রুটে সরকার নির্ধারিত বাসভাড়া কার্যকর হয়েছে। আশা করি পর্যায়ক্রমে সব রুটেই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।

মহাখালী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জনকণ্ঠকে বলেন, মহাখালী থেকে সব রুটের বাসভাড়া কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই নতুন ভাড়ায় যাত্রীরা যাতায়াত করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো মহাখালীর কোন কাউন্টারেই নতুন ভাড়ার তালিকা দেখা যায়নি। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে পুরনো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ মিলেছে। সন্ধ্যায় মহাখালী বাস টার্মিনালের নেত্রকোনার শাহজালাল কাউন্টারে-০১৭১৭০৫৮১৫১ এই নম্বরে ফোন করা হলে জানানো হয় পুরনো ভাড়া ২৫০ টাকাই রাখা হচ্ছে।

আজ শনিবার বেলা ১১টায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মহাখালী টার্মিনাল পরিদর্শনে যাবেন। দূরপাল্লার বাসভাড়া সম্পর্কে সরেজমিনে খোঁজ নেবেন তিনি। বিআরটিএ চেয়ারম্যানের মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সেই পুরনো কথাই জানালেন। বললেন, ‘আমাদের মনিটরিং টিম আছে। তারা পর্যবেক্ষণ করছে। পুনঃনির্ধারিত ভাড়ার হার অনুযায়ী রুটভিত্তিক যাত্রীপ্রতি ভাড়া নির্ধারণপূর্বক ভাড়ার তালিকা পরিবহন মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সরবরাহ করা হয়েছে।’

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকার মালিক পক্ষের কাছে হেরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোপূর্বেও সরকার সারাদেশের মহাসড়কে অযান্ত্রিক যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আইন করা হয়। কোন অবস্থায়ই মহাসড়কে অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করা যাবে না। এটা বন্ধ হয়নি বরং বেড়েছে। তেমনি ডিজেলচালিত দূরপাল্লার গণপরিবহনের ভাড়া কমানো কার্যকর করতে পারবে কী না তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।