২২ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কম্পিউটার স্ক্রিনে আলোর মায়াজাল

  • এ্যানডে পিটারসন

কম্পিউটার স্ক্রিনে কোন কিছু দেখে পাঠ করার সময় আমরা প্রকৃতই যা পাঠ করছি তা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারি না। কারণ আমাদের মস্তিষ্কের দৃষ্টি তখন অর্থের চাইতে খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর নিবব্ধ হয়ে পড়ে। এক নতুন গবেষণায় এটা দেখা গেছে।

কার্নেগী মেলোনের অধ্যাপক জিওফ কক্ষম্যান এবং ডার্টমাউথের অধ্যাপক মেরী ফ্লানাগানের এক গবেষণামূলক নিবন্ধে এই তথ্য পরিবেশন করে বলা হয় যে প্রিন্ট আউটের পরিবর্তে কম্পিউটার স্ক্রিনে কিছু পড়লে লোকে বৃহত্তর ধ্যানধারণার দিকে নয় বরং ছোটখাট বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করে। কক্ষম্যান বলেন, ডিজিটাল স্ক্রিনে বলতে গেলে প্রায় সুরঙ্গের মতো একটা ভিশন তৈরি করে যেখানে আপনার দৃষ্টি ঠিক এই মুহূর্তে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে শুধু তার ওপরই নিবন্ধ হয়- বৃহত্তর পটভূমির ওপর নয়।

নিবন্ধটি বেশ কিছু সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রণীত হয় এসব সমীক্ষায় তিনশরও বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত ছিল। তারা স্ক্রিনে যা দেখেছে তার চেয়ে আরও বিস্তারিত বা বিমূর্ত পরিসরে চিন্তাভাবনা করছে কিনা পরীক্ষা করে দেখার জন্য তাদের কিছু কাজ দেয়া হয়। একটি পরীক্ষায় তারা ডেভিড সেভাবিস রচিত একটি ছোটগল্প পাঠ করে। এরপর তাদের সংক্ষিপ্ত কিছু প্রশ্নমালা দেয়া হয়। যারা প্রিন্ট আউন্টে ওই কাহিনী পড়েছে তারা ল্যাপটপে ওই কাহিনীর পিডিএফ সংস্করণ পাঠ করা ব্যক্তিদের তুলায় সেই প্রশ্নোত্তরে অনেক ভাল নম্বর পেয়েছে। বলাবাহুল্য যে প্রশ্নগুলো করা হয়েছিল তার উত্তর অনুমিতিমূলক। আবার অন্যদিকে ডিজিটাল স্ক্রিনের পাঠকদের পঠিত বিষয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে তারা প্রিন্ট আউটের পাঠকদের তুলনায় বেশি নম্বর পেয়েছিল।

আরেক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের চারটি কাল্পনিক গাড়ি সম্পর্কিত উপান্তের তালিকা পাঠ করতে বলা হয়েছিল। এরপর তাদের দেখা পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সর্বোত্তম গাড়িটি বেছে নিতে বলা হয়। যারা কাগজের প্রিন্ট আউটে বর্ণিত তথ্য দেখেছে তাদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সঠিক উত্তর দিয়েছে। অন্যদিকে একই তথ্য ল্যাপটপে দেখে যারা উত্তর দিয়েছে তাদের ৪৩ শতাংশের উত্তর সঠিক হয়েছে।

কক্ষম্যান বলেন, এসব পরীক্ষার তথ্যগুলো কার্যত অভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে তা আলাদা আলাদা প্লাটফর্মে ডিজিটাল ডিভাইসের সঙ্গে এঁটে পিয়ে আমরা সবাই ক্রমবর্ধমান হারে যে সময় ব্যয় করছি তার পরিপ্রেক্ষিতে এর তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কালক্রমে এ থেকে আমাদের চিন্তার এমন বিবর্তন ঘটতে পারে যে আমরা বৃহত্তর ছবির দিকে তাকাতে কম আগ্রহী হয়ে উঠব।

ডিজিটাল দর্শকরা আরও বৃহত্তর পরিসরে চিন্তাভাবনা করবে এমনটি যারা চান তাদের জন্য এই গবেষণাটি এক নিরাপদ ছবি তুলে ধরছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা ল্যাপটপে কল্পিত গাড়ির তথ্য-উপাত্ত দেখেছে তাদের কয়েকজনকে এমন এক দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল যার উদ্দেশ্য ছিল বিমূর্তভাবে চিন্তা করতে তাদের উৎসাহিত করে তোলা সেই প্রস্তুতি যাদের ছিল না তাদের তুলনায় এদের কাজের ফল ভাল হয়েছিল। কক্ষম্যান বলেন, যদি কোন সংবাদপত্র চায় যে তাদের ডিজিটাল দর্শকরা কোন প্রতিবেদন বা খবরের পিছনের বৃহত্তর দৃশ্যপটটি অনুধাবন করুক তাহলে এর লেখকরা কোন বিষয় সম্পর্কে পাঠকের মনে সমালোচনাধর্মী চিন্তার উদ্রেক ঘটায় এমন অধিকতর প্রসঙ্গ সন্নিবেশিত করে ডিজিটাল স্ক্রিনের প্রভাব নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারবেন।

এর আগের এক গবেষণায় কক্ষম্যান ও ফ্লানাগান লক্ষ্য করেন যে রোগ প্রতিরোধ কৌশল সংক্রান্ত একটি খেলায় যারা আইপ্যাড ভাসন ব্যবহার করেছিল তাদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একই খেলার ফিজিকাল কপি ব্যবহারকারীদের তুলনায় অনেক বেশি বেগ পেতে হয়েছিল এবং প্রায়শই খেলায় হেরে গিয়েছিল।

কক্ষম্যান বলেন, লোকে ডিজিটাল পর্দায় যা দেখে সেই দৃশ্যমান বস্তুর ওপর পর্দার প্রভাব লাঘবে ব্যবহার করার মতো কৌশল হয়ত তাদের রয়েছে। বস্তুত পক্ষে কক্ষম্যান নিজেই তাঁর জীবনে সেইসব কৌশলের কিছু কিছু ইতোমধ্যে প্রয়োগ করতে শুরু করেছেন। যেমন কক্ষম্যান বলেন, যে তিনি প্রতিদিন জাগ্রত অবস্থার সম্ভবত তিন চতুর্থাংশ সময় ডিজিটাল পর্দার পিছনে কাটান। যদি কোন সাময়িকীর নিবন্ধ পিডিএফ’এ দেখতে পান এবং বিস্তারিত পড়তে শুরু করেন সেঙ্গ সঙ্গে তিনি ওটার প্রিন্ট আউটটা বের করে নেন।

অনুবাদ ॥ এনামুল হক ষ ওয়াশিংটন পোস্ট