১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পেট পরিষ্কারে রোবটের ব্যবহার

  • এমডি কামরুল ইসলাম

আমেরিকা ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের একটা যৌথ গবেষক দল অরিগ্যামি রোবট (ঙৎরমধসর জড়নড়ঃ) নামে অতিক্ষুদ্র আকৃতির রোবট উদ্ভাবন করেছেন যা মুখ দিয়ে গিলে ফেলা যাবে এবং পেটের ভিতরে জমে থাকা ময়লা বা জীবাণু পরিষ্কার করা যাবে। সেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাসাচুটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (গওঞ) এবং টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি কর্তৃক আবিষ্কৃত রোবটটি এতই ক্ষুদ্র যে সেটা একটা সাধারণ জেল ক্যাপসুলের সমকক্ষ। রোবটটি পেটের ভিতর যাওয়ার পর অবকাঠামোটা এমনভাবে খুলে যায় যাতে করে চিকিৎসক চুম্বক শক্তির মাধ্যমে শরীরের বাইরে থেকে এটাকে পেটের বিভিন্ন অংশে ঘুরাতে পারে। এটা সনাতনীভাবে প্রস্তুতকৃত রোবটের মতো না। বরং এটা এমন স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ দ্বারা তৈরি যেটা শূকরের শুকনা পরিপাকতত্ত্ব দ্বারা তৈরি পাতলা কাগজের মোড়কের মতো। শরীরের তাপে রোবটের বাইরের দু’স্তর সংকোচিত হয়ে স্যান্ডউইচের মতো একটা উপাদান তৈরি করে। লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ হয় বলে এটা সহজেই সংকোচিত হয় এবং খুব অল্পঅল্প করে পেটের ভিতর এটা সঞ্চালিত হতে পারে। এছাড়া একমাথা আটকে রেখে অপর প্রান্ত স্থানান্তরিত করতে পারে এবং পাশাপাশিও অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। শরীরের উপরে ক্ষুদ্রাকৃতির লোম থাকায় এটা অনায়াশে পেটের ভিতর থাকা তরলের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে। গবেষকরা বিশ্বাস করে যে পেটের ভিতর ঢুকে থাকা যে কোন জিনিস বের করার জন্য রোবটটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে গোলাকৃতির ব্যাটারি যেটা পেটের ভিতর গেলে হজম হয় না এবং কোনভাবে পাকস্থলীর ভিতরের পর্দার সংস্পর্শে আসলে ড্রেন পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত উপাদান নিসৃত করতে পারে যা খুবই ক্ষতিকর। কোন জায়গার সংস্পর্শে আসলে ব্যাটারি পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া ঘটায় এবং মারাত্মক ক্ষতিও করতে পারে। যা ঠিক করার জন্য বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। ম্যাসাচুটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (গওঞ) গবেষক দল বিশ্বাস করে তারা এই রোবট ব্যবহার করে পেটের ভিতর ব্যাটারি কোন ক্ষতি করার পূর্বেই তা বের করে আনতে পারবে। কেননা প্রতি বছর আমেরিকাতে ৩৫০০ জনের বেশি মানুষ ব্যাটারি গলাধঃকরণ করে ফেলে। গবেষকদল আরও আশা করেন যে ভবিষ্যতে রোবট ব্যবহার পেটের অন্যান্য ক্ষত সারানোসহ নির্দিষ্ট জায়গায় ওষুধ প্রয়োগে সাহায্য করবে। এই ধরনের রোবট ম্যাসাচুটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি প্রথম আবিষ্কার করে ২০১০ সালে কিন্তু চিকিৎসাক্ষেত্রে এর ব্যবহার শুরু হয় সম্প্রতি।