১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অশুভ মহল পরিকল্পিতভাবে আঘাত হানছে ॥ নাসিম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে সাম্প্রদায়িক একটি অশুভ মহল সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ অসাম্প্রদায়িক শক্তির ওপর আঘাত হানছে। এ ব্যাপারে কঠোরভাবে এই অশুভ শক্তি নির্মূলে আসম্প্রদায়িক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলসহ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এখন থেকে সংখালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা নির্যাতনের বিষয়টি সার্বিক মনিটরিংয়ের জন্য দেশের সকল জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিশোধের একজন করে সদস্য রাখার বিষয়ে উভয়ে একমত পোষন করেন। বৈঠকে দৃঢ়কণ্ঠে বলা হয়, সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক, ১৪ দলীয় জোটের সংখ্যালঘু সেলের প্রধান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে অটুট রয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালন করতে পারছে। দেশের কোথাও সংখ্যালঘু নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটলে দ্রুত ১৪ দলীয় জোটের সংখ্যালঘু সেলের সদস্য মৃণাল কান্তি দাসকে অবহিত করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের সব জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একজন প্রতিনিধি অন্তুর্ভুক্তি করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন মোহাম্মদ নাসিম।

শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সংখ্যালঘু সেলের এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রীর ধানম-ির বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং সংখ্যালঘু সেলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার বন্ধের জন্য বিএনপি-জামায়াত এখনও ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তারা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারের ক্ষমতা থেকে হটাতে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে। এক কথায় একাত্তরের ঘাতকদের রক্ষার জন্য তারা রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠছে। কিন্তু এ বিচার সম্পন্ন করাই আমাদের সামনে এখন জরুরী কাজ। কোন শক্তিই এটা বন্ধ করতে পারবে না। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। আমরা চাই সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালন করুক। ১৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত ৭ বছরে হিন্দু সম্প্রদায় দেশে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপন করেছে। কিন্তু সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার জন্য চিহ্নিত একটি মহল টার্গেট করে বিভিন্ন ঘটনা ঘটাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের বর্তমান সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক ভাল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যে নিজেকে একজন ধর্ম নিরপেক্ষ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের একজন অকৃত্রিম বন্ধু। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক ভারত সফরকালে সেদেশের ক্ষমতাসীন বিজেপি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি বিজেপি সরকারের অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, বর্তমান সরকার অসাম্প্রদায়িক নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু যারা ইতোপূর্বে দেশে আগুন সন্ত্রাস চালিয়েছিল, তারাই এখন নতুন করে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য অপচেষ্টা শুরু করেছে। তবে সাম্প্রতিককালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনা স্থানীয় সমস্যাজনিত কারণে ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোন সম্পর্ক নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোন নির্যাতন-অত্যাচারের অভিযোগ পেলে প্রশাসনিকভাবে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক যে, এক শ্রেণীর লোক প্রতিবেশী দেশে গিয়ে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের চক্রান্ত করছে। তাদের তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে এবং তারা কেউ রেহাই পাবে না।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে রানা দাসগুপ্ত, ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, মৃণাল কান্তি দাস এমপি, মেনিন্দ্র কুমার নাথ, তাপস কুমার পাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বিচ্ছিন্ন কিছু হামলার বর্ণনা দেন এবং এ ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।