১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যে কারণে ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘রোয়ানু’

যে কারণে ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘রোয়ানু’

অনলাইন ডেস্ক ॥ উপকূলীয় অঞ্চলের বর্তমান আতঙ্কের নাম 'রোয়ানু'। এটি এখন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। দেশের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু' মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

কিন্তু এই ঘূর্ণিঝড়টির এমন অদ্ভুত নাম কেন? এমন প্রশ্ন আসতেই পারে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আটটি দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলের তালিকা অনুযায়ী এ ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রোয়ানু’। মালদ্বীপ এ নামটি প্রস্তাব করেছিল। 'রোয়ানু' শব্দটিও মালদ্বীপের। এর অর্থ নারিকেলের ছোবড়ার তৈরি দড়ি।

তবে ঘূর্ণিঝড়ের এই নামকরণ বিষয়টি নতুন নয়। প্রথম যে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়েছিল, সেটা ছিল প্রায় তিনশ’ বছর আগে শ্রীলংকার মহাপরাক্রমশালী রাজা মহাসেনের নামে। আর এ ঝড়গুলির নাম প্রবর্তন করে থাকে জাতিসংঘের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আবহাওয়া সংস্থা ‘এস্কেপ’।

সময়ের আবর্তে ঋতু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীতে নানা রকম ঝড় সংঘটিত হয়। তার আবার বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। এর কোনটির উৎপত্তিস্থল সমুদ্র। আবার কোনটির স্থলভাগ। ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়ার কারণও বেশ সহজ। এগুলোর এমন নাম দেয়া হয় যেন বিজ্ঞানী থেকে সাধারণ মানুষ সহজে মনে রাখতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া অফিসগুলো এই নামকরণের দায়িত্ব পালন করে থাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব পায় ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থা। বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড থেকে আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়।

যখনই কোনো ঘূর্ণিঝড় হয়, এই দেশগুলো থেকে নাম প্রস্তাব করা হয়। এর আগেও ফলিন, হুদহুদ, নার্গিস, সিডর, আইলা, মহাসেন, নিলুফার নামেও নামকরণ করা হয়।

আগে ঘূর্ণিঝড়কে ঘিরে নামকরণ করা হতো ঝড়ের উৎপন্ন অবস্থানকে নিয়ে অর্থাৎ অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ ভিত্তিতে।

২০০৭ সালে বাংলাদেশে যে ঝড়টি আঘাত হানে, তার নাম ছিল সিডর অর্থাৎ চোখ। আর এই নামটি দিয়েছিল শ্রীলংকা। এদিকে ২০০৮ সালে নার্গিস নামে যে ঘূর্ণিঝড়টি মিয়ানমার উপকূলে আঘাত হানে, সে নামটি দিয়েছে ভারত। এদিকে তিন বছর আগে ২০০৯ সালে ভয়ঙ্কর যে ঘূর্ণিঝড়টি হয় তাকে 'আইলা' (এর অর্থ হলো ডলফিন বা শুশুক) নাম দেয়া হয়েছিল। আর আইলা নামকরণ করেছিলেন মালদ্বীপের আবহাওয়াবিদরা।