২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’

উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’

অনলাইন ডেস্ক ॥ উপকূলে আজ শনিবার দুপুরে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে এমন তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর ফলে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। অনেক জায়গায় ভেঙে পড়েছে গাছের ডাল। বিমানবন্দর ও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে কুতুবদিয়ার চারটি, মহেশখালীর তিনটি, টেকনাফের একটি ও পেকুয়ার তিনটি ইউনিয়ন লন্ডভন্ড হয়েছে। কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরারটেকসহ বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বরগুনায় দেড় লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামসুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু মেঘনা মোহনা, নোয়াখালী, কুতুবদিয়া, সন্দ্বীপ, হাতিয়া ও সীতাকুণ্ড উপকূল হয়ে উত্তর দিকে চলে যাবে। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামীকাল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, উপকূলের কাছাকাছি আসার পর এ ঘূর্ণিঝড় দ্রুত স্থলভাগের দিকে এগোতে শুরু করে।

ঝড়ের পুরো পরিধি স্থলভাগে উঠে আসতে বিকাল পেরিয়ে যেতে পারে বলে জানান তিনি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে বইছে ঝড়ো বাতাস, সেই সঙ্গে চলছে বৃষ্টি। উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বলছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে উপকূলীয় এলাকার ৫ লাখ বাসিন্দাকে।

রোয়ানু’র প্রভাবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমি ধসের আশঙ্কা জানিয়ে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।