১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

‘ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র ফলে লন্ডভন্ড বাঁশখালীর উপকূল! নিহত ৬

‘ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র ফলে লন্ডভন্ড বাঁশখালীর উপকূল! নিহত ৬

জোবাইর চৌধুরী, নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী ॥ “ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু” শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামের উপকূল অতিক্রম করার ফলে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ বাড়ীঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তাছাড়া গাছপালা উপড়ে গেছে। ভেঙে গেছে গ্রামীন সড়ক। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে প্রত্যন্ত এলাকায় আহত হয়েছে অন্তত ২-৩ শতাধিক মানুষ। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সর্বোপরি বাঁশখালীর উপকূলে নেমে এসেছে মানবতার বিপর্যয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রশাসন থেকে ছনুয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের হারুনের স্ত্রী তাহেরা বেগম (৩৫) সহ ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও বাকীদের কোন হদিছ পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় খানখানাবাদ ও গন্ডামারা এলাকায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর থাবায় ৫ জন লোক এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উপকূলীয় এলাকা ছনুয়া, গন্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ এলাকা ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ফলে স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে ৫-৬ ফুট উচ্চতায় জ্বলোচ্ছাসে তলিয়ে গেছে। বাড়ী ঘর বিধ্বস্ত, লবণ মাঠ, চিংড়ি ঘের ও গ্রামীন সড়ক গুলো ভেঙে পড়েছে। পুরো উপকূলীয় এলাকা এখন পানির নিচে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২০-৩০ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ। তবে উপজেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন এলাকায় ৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যায়। এদিকে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ফলে উপকূল ছাড়াও বাঁশখালীর সর্বত্র তান্ডবের দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় প্র“ধান সড়কের উপর বড় বড় গাছ পড়ে থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ফলে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি ক্ষেত সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কৃষকরা। প্রশাসন থেকে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের তালিকা প্রণয়ন সহ কিছু কিছু এলাকায় শুকনো খাবার পৌছানো হয়েছে।

শনিবার বিকালে উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নে সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সিকদার তার লোকজন নিয়ে উপকূল থেকে আসা লোকজনদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে প্রাথমিক ভাবে দেয়া হচ্ছে শুকনো খাবার ও আর্থিক অনুদান। তাছাড়া ওই এলাকার নোয়াঘোনা, হেডট্যাক, সিবাখাল ও মৌলভী আবু বক্কর মাদ্রাসা সংলগ্ন জলকদর খালের বেড়িবাঁধ ভাঙনে জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য শতাধিক লোক বাঁধ নির্মাণ কাজে নিয়োজিত করেছে। এদিকে উপকূলীয় এলাকা গন্ডামারায় চলছে মানবিক বিপর্যয়। পুলিশী গ্রেফতার আতংকে ওই এলাকার লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া ওই এলাকা সাগর উপকূলীয় হওয়ায় পানির নিচে রয়েছে বর্তমানে। জলোচ্ছাসের কারণে কয়েকজন নিখোঁজেরও খবর পাওয়া যায়। পুলিশী ভয়ে আহতদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসতে পারছেনা বলেও জানা যায়। তবে প্রশাসন থেকে ওই এলাকায় কোন ধরনের ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর সতর্ক বার্তা সহ ত্রাণ ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়-ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামসুজ্জামান জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ফলে বিভিন্ন এলাকায় ৬ জন নিহত হয়েছে। এখনো নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে নিহত ও আহতসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা প্রণয়ন চলছে। পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় শুকনো পৌছানো হয়েছে।