১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড কয়েক জেলা: বাড়ছে নিহতের সংখ্যাও

ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড কয়েক জেলা: বাড়ছে নিহতের সংখ্যাও

অনলাইন ডেস্ক ॥ ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে কয়েক জেলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এখনো পানি বন্দি রয়েছে মানুষ। এমনকি সৃষ্ট ঝড়ে গাছ চাপা, দেয়াল চাপাসহ বিভিন্নভাবে দেশের পাঁচ জেলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে ও আজ শনিবার এসব ঘটনা ঘটে। তবে এই নিহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশংকাও থাকছে। এছড়াও আহস হয়েছে অসংখ্য মানুষ।

বাঁশখালীর প্রতিনিধি জানান, “ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু” শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামের উপকূল অতিক্রম করার ফলে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ বাড়ীঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আর এতে ৬ জন নিহত হয়েছেন।এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় খানখানাবাদ ও গন্ডামারা এলাকায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর থাবায় ৫ জন লোক এখনো নিখোঁজ রয়েছে। উপজেলার উপকূলীয় এলাকা ছনুয়া, গন্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ এলাকা ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ফলে স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে ৫-৬ ফুট উচ্চতায় জ্বলোচ্ছাসে তলিয়ে গেছে। বাড়ী ঘর বিধ্বস্ত, লবণ মাঠ, চিংড়ি ঘের ও গ্রামীন সড়ক গুলো ভেঙে পড়েছে। পুরো উপকূলীয় এলাকা এখন পানির নিচে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২০-৩০ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ। প্রশাসন থেকে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের তালিকা প্রণয়ন সহ কিছু কিছু এলাকায় শুকনো খাবার পৌছানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম: নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন ষোলশহর এলাকায় আজ শনিবার বেলা পৌনে একটার দিকে ঝোড়ো বাতাসে ইটের আঘাতে রাকিব নামের ১১ বছর বয়সী এক পথশিশু মারা গেছে।

সীতাকুণ্ড(চট্টগ্রাম): উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নে জঙ্গল ছলিমপুর গ্রামে ঝড়ে গাছের চাপায় ঘরের চাল ভেঙে মা ও শিশু নিহত হয়েছে। গতকাল দিবাগত রাত তিনটার দিকে ওই গ্রামের লোকমানিয়াঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মায়ের নাম কাজল বেগম (৪৮)। ছেলের নাম মো. বেলাল হোসেন (১০)।

কক্সবাজার: কক্সবাজারে ২ জন নিহত ও কমপক্ষে ৬০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র আঘাতে ৩ শতাধিক বসতগৃহসহ ৩০গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সকাল ৭ টা থেকে ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার অতিক্রম করা শুরু করলে জেলাব্যাপী প্রবল দমকা হাওয়া আরম্ভ হয়। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হল জানিয়েছেন, ওসময় বাতাসের গড় গতিবেগ ছিল ঘন্টায় সর্বোচ্চ গতিবেগ ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। সকাল দশটায় পূর্ণ জোয়ার হওয়ায় এর পরবর্তী সময়ে কক্সবাজার উপকূল এবং এর অদুরবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চল সমূহ প্রায় ৬ ফুট উঁচু জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়েছে। জানা গেছে, বাতাসের তীব্রতা ক্রমশ: বাড়ছে দেখে উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজন নিকটস্থ সাইক্লেন শেল্টারে আশ্রয় নেয়। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় উপকূলীয় এলাকার বহু লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছে। কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং এলাকার আবদুর রহিমের পুত্র মো: ইকবাল (২৫) সাগর উপকূলে মাছধরারত অবস্থায় প্রবল বাতাসে নৌকা উল্টে গেলে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। একই এলাকার উত্তর কৈয়ারবিল গ্রামের ফজলুল হক (৫৫) ঘর বিধ্বস্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি স্থানীয় ফয়েজুর রহমানের পুত্র। এ ছাড়াও জেলার কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও টেকনাফসহ উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২৮কি.মিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। আট উপজেলা প্রশাসন ১৫৮টি সাইক্লোন শেল্টারে ১৭হাজার ৪৩৪ পরিবারের ৮৭হাজার ১৭০জন উপকূলের বাসিন্দাকে আশ্রয় দিয়েছে। সেখানে তাদের শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সবিবুর রহমান জানান, জেলার কুতুবদিয়া, কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া ও টেকনাফ উপজেলায় ২৮ কিলোমিটার বেরিবাঁধ বিধস্ত হয়েছে। এসব এলাকাগুলোতে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ায় অন্তত ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পানিবন্দি হয়েছে অর্ধশতাধিক পরিবার। তিনি আরও জানান, বিধ্বস্ত বেরিবাঁধ মেরামতের জন্য জরুরী অর্থ চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, জেলায় ৬ নং বিপদ সংকেত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ রাখা হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৩ টা থেকে ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯১ মিলিমিটার।

পটুয়াখালী: দশমিনা উপজেলায় গতকাল রাতে ঝড়ে ঘর চাপা পড়ে নয়া বিবি (৫০) নামের এক নারী মারা গেছেন। বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক ঘর।

ভোলা: ভয়াবহ ঘুর্নি ঝড়ে ৩ জন নিহতসহ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শশীগঞ্জ বাজার। চাঁদপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ঘর বাড়ি ভিধ্বস্ত হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ঘর বাড়ি ভেঙ্গে ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে গেছে। তজুমদ্দিনে শুক্রবার রাতে ঘর চাপা পড়ে নিহত শিশু আক্রাম ও রেখা নামে ২ জন। এছাড়াও দৌলতখান উপজেলায় রেনু বিবি (৫৫) নামে আরো এক গৃহবধূ ঘরের চাপা পড়ে নিহত হয়েছে। এদিকে ভোলা জেলা প্রশাসক সেলিম উদ্দিন জানান, ঝড়ে নিহত প্রতি পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়াও জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের পৌনে ৩ লাখ টাকাও ৫৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ করা হয়েছে।

নোয়াখালী: জোয়ারের পানির তোড়ে হাতিয়ায় মা-মেয়েসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন, হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের মিনারা বেগম (৩৫) ও ১০ বছরের মেয়ে মরিয়মনেছা এবং জাহাজমার ইউনিয়নের রিপুলা বেগম (৪৭)। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. মইনুদ্দিন বলেন, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জোয়ার আসতে দেখে আসবাবপত্র রক্ষা করতে ঘরে ঢোকেন তাঁরা। বিধ্বস্ত হয়েছে ৪-৫ শ কাঁচা ঘর।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সারা দেশের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে।