২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপির চক্রান্তে মোসাদ, না মোসাদের চক্রান্তে বিএনপি

  • একে মোহাম্মাদ আলী শিকদার

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার জন্য ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মকর্তা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর বৈঠক ও ষড়যন্ত্রের ঘটনা গত দুই সপ্তাহ ধরে টক অব দ্য কান্ট্রি। বিদেশের অনেক সংবাদ মাধ্যমেও খবরটি গুরুত্বসহকারে ছাপা হয়েছে। ১৫ মে রবিবার আসলাম চৌধুরীকে পুলিশ গ্রেফতার করে সাত দিনের রিমান্ডে এনেছে। গ্রেফতারের পূর্বে মিডিয়ার কাছে তিনি স্বীকার করেছেন মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে জানা গেছে লন্ডনে বিএনপির একজন টপ লিডারের সঙ্গে সাফাদির একটি বৈঠক হয়েছে। সেই লিডারের সঠিক পরিচয় জানা না গেলেও বলা হয়েছে তার নাম মিস্টার রহমান। ইতোমধ্যে সাফাদি বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকার আসলাম চৌধুরীকে হেনস্থা করছে। তবে বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ জানে সংখ্যালঘুদের পক্ষে এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে আসলাম চৌধুরী কোন দিন একটি সামান্য কথাও বলেনি। এই ঘটনার আগে আসলাম চৌধুরীর নামও কেউ শোনেনি। এমন একটি ডাহা মিথ্যা অজুহাতে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে সাফাদি যেভাবে সাফাই গাইছেন তাতে স্পষ্টত প্রমাণ হয় এখানে অবশ্যই কোন অসৎ মিত্রতা (ঁহযড়ষু অষষধরহপব) রয়েছে। সুতরাং এ পর্যন্ত যতটুক প্রকাশিত হয়েছে তাতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত বলা যায়। গুপ্তহত্যায় পারদর্শী মোসাদের মতো একটা ভয়ঙ্কর গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের বড় একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা বা নেতাদের এখন এই সময়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের খবর বাংলাদেশের রাষ্ট্র্রীয় নিরাপত্তার জন্য সাংঘাতিক হুমকির কথা। বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে নিয়মতান্ত্রিক গণআন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার মতো কোন সুযোগ আপাতত নেই। এটি একমাত্র সম্ভব যদি শেখ হাসিনাকে হত্যা করা যায়। সুতরাং সঙ্গত কারণেই এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে মোসাদের সংশ্লিষ্টতার খবর বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভয়ানক দুঃসংবাদ এবং উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয়। জানা গেছে, উল্লিখিত বৈঠকে বাংলাদেশের মোসাদের এজেন্ট সিপান কুমার বসু ও আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। আসলাম চৌধুরী ও সঞ্জীব চৌধুরী দুজনেই চট্টগ্রামের মানুষ এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর খুব ঘনিষ্ঠজন। মূলত সাকার পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের স্ব-স্ব ক্ষেত্রে উত্থান ঘটেছে। ভয়ঙ্কর ঘাতক বাহিনী ও নিষিদ্ধ হরকত-উল-জিহাদ (হুজি) ছদ্মনামে অর্থাৎ ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি) হিসেবে ২০০৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মাওলানা আব্দুস ছালামের নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যখন নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করে, তখন সঞ্জীব চৌধুরী ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পিডিপির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। এই হুজি ওরফে আইডিপি শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছে, যা এখন সকলেই জানেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের ঘটনা নতুন নয়। সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্রের ফলে নিহত হন বঙ্গবন্ধু। তবে বর্তমান ষড়যন্ত্রের যে স্বরূপ দেখা যাচ্ছে তার বীজ রোপিত হয় ১৯৭৮ সালে প্রথম সামরিক প্রশাসক জিয়াউর রহমান কর্তৃক সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ বাতিল ও ৩৮ অনুচ্ছেদের শর্তগুলো বিলোপের মধ্য দিয়ে। এর ফলে জামায়াতসহ উপ-ইসলামিস্ট দলগুলোর বিশাল উত্থান ঘটে। প্রবর্তিত হয় পাকিস্তানপন্থী মোল্লা ও মিলিটারির রাজনীতি, যা আজকে এসে বিষবৃক্ষের মহীরুহ হয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশে যত জঙ্গী গোষ্ঠী রয়েছে তার মূলে আছে জামায়াত ও তাদের রাজনীতি। এই জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো এবং বাংলাদেশের ভেতরে তাদের তৎপরতাই মূলত আজ বহুমুখী সঙ্কটের সৃষ্টি করছে। এদের এখন নানা ভঙ্গিমায় তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে বা করতে চাইছে দেশী-বিদেশী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী। তারাই বলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশে আইএস আছে। চরম ডানপন্থী ও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী বৈদেশিক নীতির সমর্থক এবং প্রমোটার ওয়াশিংটনের একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন বলার সুযোগ পাচ্ছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জঙ্গী দমনে জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে নামা উচিত। মে মাসের তিন তারিখে ওয়াশিংটনে একটা সেমিনারে এ রকমই মতামত প্রকাশ করেছে হেরিটেজ ফাউন্ডেশন। সেখানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দুয়েকজন অধ্যাপকও হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সুর মিলিয়েছেন। সাতচল্লিশের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক পক্ষ নামে-বেনামে জোটবদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় তারা এখন বাংলাদেশে অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক পক্ষ। সুতরাং ১৯৭৫-এর পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষ হিসেবে রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গনে বিরাজমান রয়েছে চরম বিভাজন। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিসহ অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিও সম্পূর্ণ উল্টে যাওয়ার কারণে উন্নয়ন, অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কখনও বা মুখথুবড়ে পড়ছে। কখনও এক কদম এগোই তো আবার দুই কদম পিছিয়ে পড়ি। এ কথার বাস্তব প্রতিফলন বিগত সময়ে দেখা গেছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষের মতাদর্শের বাস্তব প্রতিফলন এতটাই বিপরীতমুখী ও সাংঘর্ষিক যে, দুই পক্ষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রায় অসম্ভব। আর এ কারণে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঘটেছে। কিন্তু ২০১৬ সালে এসে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিকতার সহজাত চাহিদায় অসাম্প্রদায়িকতা, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র, নারী-পুরুষের সমান অধিকার, যা প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মতাদর্শ, সেটি এখন সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি বিগত দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় সময়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কৌশল ও নীতি গ্রহণের ফলে তারা আজ আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বড় খেলোয়াড়দের বিরাগভাজন হয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও একটার পর একটা পর্বতসম ভুল ও হটকারী কর্মকা-ের জন্য তারা আরও কোণঠাসা ও বেকায়দায় পড়েছে। রাজনীতির স্বাভাবিক ফর্মুলায় এর সুবিধা পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি। একই সঙ্গে এক নাগাড়ে সাত বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া শেখ হাসিনা এখন বিশ্ব নেতৃত্বের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, দেশের শতকরা ৬৭ ভাগ মানুষ শেখ হাসিনাকে সমর্থন করে। উপরোক্ত বাস্তবতার আলোকে জামায়াতসহ ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরা স্বাভাবিক এবং নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েও শঙ্কায় পড়া অস্বাভাবিক নয়। তারা এখন রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে। সুতরাং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের মতো রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে উৎখাত বা ধ্বংস করা তাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। সুতরাং তাদের ট্র্যাক রেকর্ডের দিকে তাকালে এমন অস্তিত্বের আশঙ্কায় সরকার উৎখাতে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়া ও জড়িয়ে পড়ার খবর রাষ্ট্রের নিরাপত্তার খাতিরে হাল্কাভাবে দেখার সুযোগ রেখেই সম্প্রতি ফাঁস হওয়া মোসাদ-আসলাম চৌধুরীর ষড়যন্ত্রের খবরকে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। যড়যন্ত্রকারীরা তাদের লক্ষ্য অর্জনে কিছু করতে পারে। এটা আমরা দেখেছি ১৯৭৫ সালে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে, ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্রের চোরাচালান ধরা পড়ার মাধ্যমে এবং ২০১৩ সালে ৫ মে হেফাজতের জ্বালাও পোড়াও ও তা-বের সময়ে। স্মরণ রাখতে হবে, মোসাদের মতো পেশাদার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বিএনপি বা আসলাম চৌধুরী নিজে খুব সহজে ও স্বল্প সময়ের মধ্যে যোগাযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ সভা করতে পেরেছেন তেমনটি ভাবার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। অবশ্যই দীর্ঘ দিন ধরে যোগাযোগে ও পারস্পরিক একটা আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আর এসব কাজে সাধারণত দলের টপ লেভেলের নেতাদের জড়িত করা হয় না। আবার একেবারে নিচের স্তরের নেতাদের দ্বারাও এসব কাজ হয় না। মধ্যম সারির নেতাদের দ্বারা করানো হয়, যাতে প্রতিপক্ষ গুরুত্ব দেয় এবং বিপদ দেখলে মূল দলের পক্ষ থেকে সহজে অস্বীকার করা যায়, প্রয়োজন হলে দলের স্বার্থে ওই মধ্যম সারির নেতাকে বলির পাঁঠা বানিয়ে কোরবানিও দেয়া যায়। মোসাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে এখন এই সময়ে বৈঠক, দলের নিচু স্তর থেকে আসলাম চৌধুরীকে এক লাফে মধ্যম স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনয়ন এবং দলের সুপ্রিমোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের যৌক্তিকতায় এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা যায় না। আর আসলাম চৌধুরীর মতো একজন চতুর খেলোয়াড় নিজ দায়িত্বে, পরিকল্পনায় ও স্ব-উদ্যোগে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের এতবড় ঝুঁকি নিবেনÑ তা কতখানি যৌক্তিক বলে মনে হয়? আর মোসাদের মতো পেশাদারী গোয়েন্দা সংস্থা শুধু আসলাম চৌধুরীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাড়া দিয়ে একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পাকানোর জন্য একেবারে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবে, তা-ই বা কতখানি যুক্তিসঙ্গত। রহস্যজনক ঘটনা হলো ইসরাইলের মোসাদ কেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ রকম ঘটনার সঙ্গে জড়িত হতে যাবে। বাংলাদেশকে ঘিরে ইসরাইলের নিজস্ব কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ও কর্পোরেট স্বার্থ নেই। হতে পারে বিশাল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মোসাদ এ ষড়যন্ত্রে জড়িয়েছে। অথবা কান টানলে মাথা আসার ফর্মুলায় ইসরাইলের গ্রেট প্রোটেক্টর ও গ্রেট ফ্রেন্ডের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধার ও খেলার অংশ হিসেবে তারাও মাঠে নেমেছে। সম্প্রতি কিছু গুপ্ত হত্যাকা-ের জের ধরে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মুভমেন্ট ও বক্তব্য, সেক্রেটারি অব স্টেট জন কেরির টেলিফোন, এর দুই দিনের মাথায় নিশা দিশাইয়ের ঢাকায় ছুটে আসা ইত্যাদি ঘটনার বিশ্লেষণে কি এটাই মনে হয় না যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের সম্পৃক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অতীব আগ্রহী। ওয়াশিংটনভিত্তিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সেমিনারের বক্তব্য কি এর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে না, যেটি লেখার প্রথমদিকে উল্লেখ করেছি। এই ঘটনার সঙ্গে দেশী-বিদেশী কোন্ পক্ষ কতটুকু জড়িত তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। কিন্তু একটা বড় প্রশ্ন হলোÑ এটা কি মূলত মোসাদের ষড়যন্ত্র যেখানে বিএনপি জড়িয়েছে, নাকি বিএনপির যড়যন্ত্রে মোসাদ জড়িয়েছে। দুটোর যে কোনটাই হতে পারে। তবে এ মুহূর্তে তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। গত এক বছর ধরে ইহুদী প্রভাবিত সাইট ইন্টেলিজেন্সের ভূমিকা, আইএসের উপস্থিতি প্রমাণের চেষ্টা, বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক আকাক্সক্ষা, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনার অস্বাভাবিক মুভমেন্ট, মোসাদ ও সিআইয়ের সম্পর্ক, সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য জামায়াত-বিএনপি কর্তৃক পশ্চিমা বিশ্বে লবিস্ট নিয়োগ এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রের ট্র্যাক রেকর্ড ইত্যাদি ঘটনা কোন না কোনভাবে একটার সঙ্গে আরেকটি সম্পর্কিত।

লেখক : ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক