১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছেন না সালাউদ্দিন

জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছেন না সালাউদ্দিন
  • এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব প্লে-অফ ম্যাচ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টানা তৃতীয়বার নির্বাচনে জিতে হ্যাটট্রিক করেছেন। আবারও বসেছেন বাংলদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সবচেয়ে বড় পদ সভাপতির আসনে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, কাজী মোঃ সালাউদ্দিনের কথাই বলছি। বহুল আলোচিত বাফুফের নির্বাচনে জেতার পর কয়েকবারই এসেছেন বাফুফে ভবনে, নিজের কার্যালয় কক্ষে। তবে সেটা অফিস করতে নয়, সাংবাদিকদের অনুরোধে, শুভানুধ্যায়ী-ভোটার-কাউন্সিলরদের কাছ থেকে অভিনন্দনে সিক্ত হতে। তারপর ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে চলে যান মেক্সিকোতে। দেশে ফিরে শনিবার বাফুফে ভবনে দুপুরের দিকে আবারও এলেন বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। নির্বাচনে জয়ী হবার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস করলেন তিনি।

গত ২ মে সালাউদ্দিন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন তিনি নতুন মেয়াদে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন তিনটি বিষয়ের ওপর। এগুলো হলো : জেলা ফুটবল, ক্লাব ফুটবল এবং জাতীয় দল। জেলা ফুটবল ও ক্লাব ফুটবলে আপাতত কোন খেলা নেই। তবে জাতীয় ফুটবল দলের খেলা আছে। এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের প্লে অফে আগামী ২ এবং ৭ জুন তাজিকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বর্তমানে এটিই সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় দেশের ফুটবলের। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ম্যাচকে ‘কঠিন চ্যালেঞ্জ’ হিসেবেই দেখছেন সালাউদ্দিন।

শনিবার জাতীয় দলের হেড ও ডাচ্ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফের সঙ্গে দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন বাফুফে বস। আলোচনায় ক্রুইফকে সালাউদ্দিন বলেছেন কঠিন চ্যালেঞ্জটা জিততে হবে। ক্রুইফের সঙ্গে কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে? জানতে চাইলে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘ এটা একটা সৌজন সাক্ষাত ছিল। তিনি বাংলাদেশে এসে গত পাঁচদিন ধরে জাতীয় দলকে অনুশীলন করাচ্ছেন। দলের বর্তমান অবস্থা, ফিটনেস ... এগুলো কোন্ পর্যায়ে আছে, তা জানতে চেয়েছি। দলের পজিশনটা আগের চেয়ে খারাপ হয়ে গেছে, এটাকে আবার মেরামত করতে হবে। ক্রুইফ আমাকে এ বিষয়ে তার মতামতগুলো বিশদভাবে জানিয়েছেন। আমি বলেছি, ম্যাচ দুটিতে জিতে আমাদের বাছাইপর্বে কোয়ালিফাই করতে হবে। তবে এটাও জানি, কাজটা সহজ নয়। আমরা চেষ্টা করতে পারি। দেখা যাক, কি হয়। তারপর এই ম্যাচ দুটি নিয়ে কি পরিকল্পনা আছে, তা নিয়েও কথা বলেছি আমরা।’ কি ধরনের পরিকল্পনা? ‘তাজিকিস্তান যাওয়ার আগে ক্রুইফ একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চেয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে। তবে এই স্বল্প সময়ে ম্যাচ আয়োজন করা কঠিন ব্যাপার। তারপরও সাধারণ সম্পাদক তাদের ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। খুব শীঘ্রই জানা যাবে আমরা ম্যাচটা খেলতে পারবো কি না।’ সালাউদ্দিনের জবাব।

এছাড়া আর কোন্ বিষয়ে ক্রুইফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে? ক্রুইফ কি তার কোন আইডিয়া শেয়ার করেছেন? সালাউদ্দিনের ভাষ্য, ‘না, এসব বিষয়ে কোন আলাপ হয়নি। আইডিয়া যদি কিছু থাকে, তাহলে সেটা ৭ জুন ম্যাচ খেলার পরে ৯ বা ১০ তারিখের দিকে আমাকে জানাবেন।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে তাজিকিস্তান কঠিন, মানছেন সালাউদ্দিন, ‘কিন্তু তাই বলে তো আমি হারার আগেই হারতে পারি না। আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো ম্যাচ দুটি জিততে। আমাদের পূর্ণ মনযোগ তাজিকিস্তান ম্যাচের দিকে। এরপর ভুটান নিয়ে চিন্তা করবো। তাকে (ক্রুইফ) বলেছি সময় অল্প। চ্যালেঞ্জটা কঠিন। এতে জিততেই হবে।’

এবারের বাফুফে নির্বাচনের আগে সালাউদ্দিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নতুন মৌসুমে নির্দিষ্ট ফুটবল পঞ্জিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী খেলা চলবে। কোনভাবেই লীগ বা টুর্নামেন্ট পেছাবে না। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ফেডারেশন কাপ হয়নি। হয়েছে স্বাধীনতা কাপ, তা কয়েক দফায় সূচী বদল করে। তারপর ঘোষণা এল ১৫ মে থেকে ফেডারেশন কাপ এবং ১৫ জুন থেকে শুরু হবে প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ। কিন্তু এ ঘোষণাও বাস্তবায়িত হয়নি। ফেডারেশন কাপ পিছিয়ে গেছে একমাসের মতো। ফলে অবধারিতভাবেই পেছাচ্ছে লীগ। তাহলে কথার সঙ্গে কাজের মিলটা থাকলো কোথায়? এ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি স্বীকার করছি পেশাদার লীগ কমিটি এই কাজটি ভুল করেছে, কোন কিছু চিন্তা-ভাবনা না করেই তারা এ রকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আজ থেকে আমি কাজ শুরু করেছি। আমাকে মাস দুয়েক সময় দিন, ক’দিন আগে ফিফা থেকে প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। আগামী আগস্টে তারা আবার আসবেন। তাদের সঙ্গে বসে আমরা কিছু পরিকল্পনা করবো। আশাকরি সব ঠিক করে ফেলবো। গত চার বছরে কাজ করে একটা পর্যায়ে এসেছি। এখন সময় এসেছে বাকি চার বছরে কাজ করে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার।’

কথা ছিল মেক্সিকো থেকে ফেরার পর সালাউদ্দিন বাফুফের আগের সব কমিটি নতুন করে গঠন করবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আজ থেকে চলমান প্রক্রিয়ায় চারটি কমিটি বাদে সব উপ-কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হলো। ফিনান্স কমিটি, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি, পেশাদার লীগ কমিটি এবং জাতীয় দল কমিটি এই চারটি আপাতত বহাল থাকবে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে বাকি কমিটিগুলো পুনর্গঠিত করা হবে।’

নির্বাচনে জেতার পর গত ২ মে সালাউদ্দিন বলেছিলেন, ‘যখন আট বছর আগে দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন খেলা হতো না। এখন খেলা হয়। সম্প্রতি জাতীয় দলের পারফর্মেন্সটা ভাল না। সার্বিকভাবে আমরা একটা স্টেজে চলে এসেছি এখন ফাইনাল স্টেজে। আগামী চার বছরে ফুটবল পরবর্তী লেভেলে পৌঁছাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমার স্বপ্ন আগামী চার বছরে বাংলাদেশের ফুটবলে এশীয় মানে চলে যাবে।’ যোগ করেন সালাউদ্দিন। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমি চাই এবার কমিটিগুলো যেন কোন ফাঁকি দিতে না পারে, দিলে অন্য কাউকে আনা হবে। সবার মধ্যে দায়বদ্ধতা থাকবে। এটা যেহেতু আমার শেষ মেয়াদ, তাই আমি চাই এবার যেন কোন ভুল না হয় আমার।’

এখন দেখার বিষয়, আগামী চার বছরে কথার সঙ্গে কাজের সমন্বয় করে দেশের ফুটবলকে উঁচু অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেন কি না সালাউদ্দিন।