১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাজেটে নৌ খাত উপেক্ষিত

বাজেটে নৌ খাত উপেক্ষিত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এক সময়ের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম নৌ খাত বাজেটে কয়েক দশক ধরেই উপেক্ষিত। তবে এও ঠিক, অর্থবছরে যে পরিমাণ বরাদ্দ এ খাতে দেয়া হয়, তা খরচের সক্ষমতাও নেই এ বিভাগের। কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ খাতের বিকাশ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় এ দৈন্যদশা। তাই আসছে বাজেটে নৌ-পরিবহন খাতে আধুনিক নৌযান প্রচলন, সুষম বরাদ্দ ও ঢেলে সাজানোর মতো পরিকল্পনা ও নির্দেশনা চান বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপদ ও কম খরচের যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত নৌপথ। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মোট যোগাযোগ ব্যবস্থার ৩০ ভাগেরও বেশি নৌপথে পরিচালিত হয়। তারপরও সরকারীভাবে এ খাত পায়নি তেমন পৃষ্ঠপোষকতা। বরং গেল কয়েক দশকে এ পথ ক্রমেই পিছিয়েছে। নৌ যোগাযোগের পরিকল্পিত অবকাঠামো যেমন গড়ে ওঠেনি, তেমনি এ খাতে হয়নি উল্লেখযোগ্য কোন বেসরকারী বিনিয়োগও।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, নৌ খাতে বার্ষিক উন্নয়নে বাজেট প্রায় শূন্যের কোটায়। এতে অবশ্যই ফিরে তাকাতে হবে। নৌ খাতকে অবহেলা করে কোনভাবেই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব নয়।

গেল কয়েক বছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বরাদ্দে যেমন অপ্রতুলতা আছে, তেমনি বরাদ্দকৃত পুরো অর্থ খরচের সক্ষমতাও নেই নৌ বিভাগের। এর কারণ হিসেবে এ খাতের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, জ্ঞান ও গবেষণার অভাবই দায়ী বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা।

নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ মানোয়ার হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ দিনের বঞ্চনা ও অবহেলার কারণে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন খাতের সরকারী প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা এত নিম্নপর্যায়ে চলে গেছে যে, উন্নয়ন বরাদ্দ সৎ ব্যবহারের সক্ষমতা তাদের নেই। সুস্পষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে কোথায় কতটুকু এবং অগ্রাধিকার দিয়ে সেভাবে যদি বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করা হতো তাহলে উন্নয়ন সম্ভব।’

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো নৌ খাতে নেই। আর কেন্দ্রীয়ভাব আমাদের একটা পরিকল্পনার প্রতিষ্ঠান দরকারÑ সেটারও অনুপস্থিতি।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক ও রেল পথের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। সেই সঙ্গে বাজেটে খাতভিত্তিক খরচের ব্যাপারেও নির্দেশনা চান তারা।

বিআইডিএস’র অর্থনীতিবিদ কেএস মুর্শিদ বলেন, ‘অতীতের গৌরব হয়ত ফিরে আসবে না। তারপরও যে সুযোগটা আছে, আধুনিকায়ন করা, আধুনিক যানবাহন নিয়ে আসা, এ খাতে প্রচুর সম্ভাবনা আছে।’ সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আধুনিক নৌযান প্রচলন এবং সড়ক ও রেলপথের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বরাদ্দ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তারা।