১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিজস্ব মেধায় যারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পেলেন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নিজস্ব প্রতিভা ও দৃঢ়তায় সফলতার স্মারক হিসেবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পেলেন চার নারী, দুই পুরুষ ও দুটি প্রতিষ্ঠান। পুরস্কারপ্রাপ্তরা প্রত্যেকেই নিজস্ব মেধায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সিটি ফাউন্ডেশন ১১তম সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কারে সহআয়োজক ছিলÑ সাজেদা ফাউন্ডেশন, ক্রেডিট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ), এন এ বাংলাদেশ। প্রতিবছর সারাদেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে তাদের কাজের অনুপ্রেরণা যোগাতে এ পুরস্কার দেয়া হয়ে থাকে।

বছরের শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ॥ বছরের শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পুরস্কার পান গাংনী মেহেরপুরের ইসরাত জাহান। তিনি ফিশ ফিড উৎপাদন করে মেহেরপুর জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেন। শুধু তাই নয়, তার দেখাদেখি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ষোলোটাকা গ্রামে অনেকেই এখন মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। পুরস্কার হিসেবে ইসরাত জাহানের হাতে একটি ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়।

ইসরাত জাহান তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন ছাত্রী। চাকরির পেছনে না দৌড়ে নিজেই কিছু করার স্বপ্ন দেখি। প্রথম স্বল্প পরিসরে ফিশ ফিড উৎপাদন শুরু করি। এরপর স্বামীর সহযোগিতায় কয়েকটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করি। আমি মাছ চাষ ও মাছের খাবার উৎপাদন করে বছরে ২৭ লাখ টাকার মতো আয় করি। আমার খামারে প্রায় ১০০ জন লোক কাজ করছে। গাংনী এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এখন মাছ চাষ করেন।

বছরের শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে রানারআপ হন মেরাদিয়া, খিলগাঁওয়ের হাসিনা ইসলাম। তিনি স্কাইনিড় তৈরি পোশাক করে আত্মনির্ভরশীল হন। পুরস্কার হিসেবে তাকে দেয়া হয় ১ লাখ টাকার চেক।

বছরের শ্রেষ্ঠ কৃষি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ॥ বছরের শ্রেষ্ঠ কৃষি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পুরস্কার পান পুরানবাজার, চাঁদপুরের সোহেল মিয়াজি। তিনি মাছ চাষে আনেন ভিন্নতা। এতদিন পুকুরে বা ডোবায় মাছ চাষের কথা শোনা গেলেও এবার নদীর বহমান জলে মাছ চাষের নজির স্থাপন করে পুরস্কার পেলেন সোহেল মিয়াজি। পুরস্কার হিসেবে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দেয়া হয় তাকে।

এ বিভাগে রানারআপ আলাইপুরের (নাটোর) সেলিম রেজা। ফল ও সবজি উৎপাদন করে তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। পুরস্কার হিসেবে তাকে ১ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়।

বছরের শ্রেষ্ঠ নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ॥ এবার বছরের শ্রেষ্ঠ নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হন বিশ্বাসপুর, মাদারগঞ্জের (ঠাকুরগাঁও) আফিনা বেগম। তিনি জৈবসার উৎপাদন করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি ৪৫ জন নারী ও ৫ জন পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। পুরস্কার হিসেবে তাকে দেয়া হয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ বিভাগে রানারআপ গোয়ালচামট, ফরিদপুরের রিনা বেগম। ব্যাগ তৈরি করে অর্থনীতির চাকা ঘোরাচ্ছেন তিনি। পুরস্কার হিসেবে তাকে দেয়া হয় ১ লাখ টাকার চেক।

এছাড়া বছরের শ্রেষ্ঠ সৃজনশীল ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে পুরস্কার পায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক)। পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয় ৪ লাখ টাকার চেক। এ বিভাগের রানারআপ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)। পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয় ৩ লাখ টাকার চেক।