২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চীনা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করছে বাপেক্স

চীনা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করছে বাপেক্স
  • উভয় পক্ষই ব্যয় করবে ও গ্যাসের মালিকানা পাবে

রশিদ মামুন ॥ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় এবার গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য যৌথভাবে চীনের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। বিগত ২০১১ সাল থেকে বাপেক্স পাহাড়ী এলাকায় তেল গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু পাঁচ বছরে কয়েকটি কোম্পানির নাম বললেও এখনও চূড়ান্ত চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার জ্বালানি বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছে, চীনের কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বাপেক্স সূত্র জানায় চীনের জিও জাদি পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং লংহুড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির (বেজিং) সঙ্গে চুক্তিটি হবে। তবে প্রডাকশন শেয়ারিং (পিএসসি) এর মতো এই চুক্তি হবে না। এখানে বাপেক্স ও চীনা কোম্পানি উভয়ই অনুসন্ধান উত্তোলনে ব্যয় করবে। উভয়ই রাষ্ট্রীয় হিস্যাবাদে গ্যাসের মালিকানা অর্জন করবে।

জানতে চাইলে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুজ্জামান জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা চুক্তির সব দিক আলোচনা করে চূড়ান্ত করেছি। এখন সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছি। সরকার অনুমোদন দিলেই চুক্তিটি স্বাক্ষর হবে। এর মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় তেল গ্যাস অনুসন্ধানে ফের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতদিন চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটির বিস্তীর্ণ এলাকা তেল গ্যাস অনুসন্ধানের বাইরে ছিল।

পাহাড়ী এলাকায় তেল গ্যাস অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা না থাকায় বাপেক্স তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞ কোন কোম্পানিকে নিয়ে এই এলাকায় কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। এক্ষেত্রে পুরোপুরি এই ব্লকগুলো আন্তর্জাতিক তেল গ্যাস কোম্পানির (আইওসি) হাতে ছেড়ে না দিয়ে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০১১ সালে প্রথম আগ্রহপত্র চাওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় তেল গ্যাস কোম্পানির মালিকানা ব্লকগুলোতে বজায় থাকবে। একই সঙ্গে দেশের পাহাড়ী এলাকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা হবে।

যার ভিত্তিতে দেশের অন্য পাহাড়ী এলাকায় কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাপেক্স বলছে, তেল গ্যাস অনুসন্ধান চালানো হবে পটিয়া, জলদি, কাছালং এবং সিতা পাহাড় এলাকায়। এর আগে বাপেক্স চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই এলাকায় যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেয় ২০১১ সালের দিকে। কিন্তু পরবর্তীতে বিষয়টি আর আগায়নি।

বাপেক্স বলছে, ৫০ দশকের গোড়ার দিকে পটিয়াতে একটি বিদেশী কোম্পানি গ্যাসকূপ খনন করার কাজ শুরু করে। কিন্তু তখন ওই এলাকা দুর্গম এবং নিরাপত্তাহীন হওয়ার পাশাপাশি গ্যাসের বাজার তৈরি না হওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেয় তারা।

পরবর্তীতে ৬০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে জালদি এবং ৮০ দশকে সিতা পাহাড়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। একটি আইওসি কাছালংয়ে কাজ করার জন্য প্রস্তুত ছিল। বাপেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, এই এলাকায় অতীতে যে জরিপ করা হয়েছে তার তথ্য-উপাত্ত আমাদের কাছে রয়েছে। এর ভিত্তিতে জায়গাগুলোকে সম্ভাবনাময় বলে ধারণা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম এলাকায় গ্যাসের ব্যাপক ঘটতি রয়েছে। এসব এলাকায় গ্যাস পাওয়া গেলে সে সঙ্কট দূর হবে।

সাঙ্গু বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বন্দরনগরীতে গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। দেশের অন্য এলাকা থেকে গ্যাস নিয়ে সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এরপরও চট্টগ্রাম এলাকায় গ্যাসের বিপুল ঘাটতি শিল্প এবং বাণিজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বাপেক্স

এর আগে যৌথভাবে কাজ করার জন্য রাশিয়া, চীন, ভারত, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের আটটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আগ্রহপত্র চায়। এর মধ্যে ভারতের ওএনজিসি এবং চীনের সিনোপ্যাক প্রস্তাব জমা দেয়। কিন্তু ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব অসম্পূর্ণ হওয়ায় তা বাতিল করা হয়। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং রাশিয়ান কোম্পানিগুলো জয়েন্টভেঞ্চার এগ্রিমেন্টে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়নি।