২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ পবিত্র শব-ই- বরাত

আজ পবিত্র শব-ই- বরাত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শব-ই বরাতের রাত আজ। পবিত্র রজনী। ইসলামী বিধান অনুযায়ী হিজরীর শাবান মাসের ১৫তম রাতকে লাইলাতুল বরাত হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। যে কয়টি মাসকে ইসলামে পবিত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে শাবান মাস অন্যতম। আর শাবান মাসের ১৫তম রজনীকে আল্লাহতা’য়ালা বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মুসলমানদের জীবনে আল্লাহ্ যে তিনটি রাতকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন শাবান মাসের শব-ই-বরাত তার মধ্যে একটি। ইসলামী প-িতদের মতে, পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনা বা আত্মসংযমের প্রস্তুতি হিসেবেই রাতটি মুসলমানদের কাছে এসে থাকে। শব-ই-বরাতের রাতে ইবাদত বন্দেগী ও আল্লাহর দরবারে পানাহ চাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রমজানের এ প্রস্তুতি।

অনেকের মতে, এ রাতে বিশ্বের সমস্ত মানুষের এক বছরের জন্য জন্ম-মৃত্যু ছাড়াও ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেন ফেরেস্তারা। এছাড়া এ রাতে ইবাদত করলে অধিক ফজিলত পাওয়া ও গুনাহ থেকে মুক্তি লাভের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এ রাতকে অনেকে ভাগ্য রজনী বলেও অভিহিত করেছেন। পবিত্র এই রাতের গুরুত্ব তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলোও প্রকাশ করেছে বিশেষ নিবন্ধ। রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা অনুষ্ঠানের। শব-ই-বরাত উপলক্ষে আজ রবিবার সংবাদপত্র অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আগামীকাল কোন পত্রিকা প্রকাশিত হবে না। তবে লাইলাতুল বরাত আজ হলেও সরকারী অফিস আদালত আগামীকাল সোমবার বন্ধ থাকবে।

বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর যথাযথ মর্যাদার মধ্য দিয়ে পালিত হবে পবিত্র এ রাতটি। বিশ্বের মুসলমানরা এদিন রাতে আল্লাহ্র নৈকট্য ও করুণা লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকবেন। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা পবিত্র শব-ই বরাতের রাতে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র দরবারে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি এবং মুসলিম উম্মাহ্র বৃহত্তর ঐক্য কামনা করেন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাকে এ উপলক্ষে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান।

যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র শব-ই-বরাত পালনের জন্য বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই রাতে সারাদেশের মসজিদে মসজিদে মিলাদ মাহফিল, জিকির আজকার, ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হবে। সৌভাগ্যের এ রজনীতে রাজধানীসহ সারাদেশের সব বয়সের নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মুসলমানরা কোরান তোলাওয়াত, নফল নামাজ, দোয়া অনুষ্ঠান ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভে এবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকবেন। বাসাবাড়িসহ মসজিদে মসজিদেও চলবে রাতব্যাপী ইবাদতবন্দেগী। এছাড়াও আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য দান খয়রাত ও মৃত স্বজনদের কবর জিয়ারত করবেন অনেকেই। মহিমান্বিত্ব এ রজনী ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে রবিবার বাদ মাগরিব থেকে রাতব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, হামদ্, নাত, নফল ও তাহাজ্জত নামাজ এবং মুসলিম উম্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া অনুষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে শব-ই-বরাতের ফজিলত শিরোনামে ওয়াজ পেশ করবেন ঢাকার মশুরীখোলা আহছানিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু জাফর মোঃ হেলাল উদ্দিন। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে ইবাদত ও দোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করবে জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ এহসানুল হক। ১১টা ৩০ মিনিটে আলোচনা হবে শব-ই-বরাত ও রমজানের গুরুত্ব নিয়ে। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে জিকিরের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে, ১টা ৫৫ মিনিটে তাহাজ্জত নামাজের ফজিলত নিয়ে এবং ফজরের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় আখেরী মুনাজাত।

এদিকে রাত ব্যাপী ইবাদত বন্দেগীর পাশাপাশি থাকবে ঘরে ঘরে উৎসব পালন হয়ে থাকে। বিশেষ করে প্রতিটি মুসলিম পরিবারে এ উপলক্ষে বিশেষ খাবার হালুয়া রুটির আয়োজন থাকে। আত্মীয়-স্বজনকে এ উপলক্ষে আমন্ত্রণ জানানো হয়। হালুয়া রুটি গরিব মিছকিনদের মধ্যে বিতরণ করতে দেখা যায়। শহর এলাকার কোথাও কোথাও আবার আতশবাজি ফোটাতে দেখা যায়। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ধরনের আতশবাজি ফোটানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলোকসজ্জা করতে দেখা যায়। যদিও ইসলামী চিন্তাবিদরা বলছেন, বাহ্যিক এসব আচার অনুষ্ঠানের সঙ্গে শব-ই-বরাতের পবিত্র রাতের ইবাদতের কোনই সম্পর্ক নেই।

হাদিস শরীফে বলা হয়েছে, আল্লাহ্ শাবান মাসে ১৫তম রাতে রহমাতে দৃষ্টি দেন। তাওবাকারীদের ক্ষমা করে দেন। রহমত প্রার্থীদের প্রতি দয়াবান হন। শুধু তারা ব্যতীত, যারা পরস্পর শত্রুতা পোষণ করে। অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, এ রাতে সমস্ত বান্দার আমলসমূহ আল্লাহ্র কাছে পেশ করা হয়। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা) বলেন, ‘আমার নিকট জিব্রাইল আসল। আর বলল, এটা শাবানুল মুআযযমের ১৫তম রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে ততগুলো লোককে মুক্তি দেন যত লোম বনী কালবের ছাগলগুলোর গায়ে রয়েছে।

অন্যত্র এরশাদ হয়েছে, যখন ১৫ শাবানের রাত আসে তখন এ রাত জেগে ইবাদত কর এবং দিনের বেলায় রোজা রাখ। এ রাত আসলে সূর্যাস্ত থেকেই মহান আল্লাহ্তাআলা নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন। আর বলেন, আছো কেউ ক্ষমা প্রার্থী তাকে ক্ষমা করে দেব। আছো কেউ জীবিকা অনুসন্ধানকারী তাকে জীবিকা দেব। আছো কেউ বিপদগ্রস্ত তাকে বিপদ থেকে মুক্ত করব। আছো কেউ এমন। এটা ততক্ষণ পর্যন্ত বলতে থাকেন যতক্ষণ না পর্যন্ত ফজরের সময় হয়। অন্য এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেছেন আল্লাহ্তাআলা চার রাতে কল্যাণের দরজা খুলে দেন। এর মধ্যে রয়েছে কুরবানীর ঈদের রাত, ঈদ-উল-ফিতরের রাত, ১৫ শাবানের রাত এবং ৯ যিলহজ্জের রাত। বলা হয়ে থাকে এ রাতে মৃত্যুবরণকারীদের নাম, মানুষের রিযিক এবং হজ পালনকারীদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। হাদিস শরীফে এ রাতে ইবাদত বন্দেগী ও দিনের বেলায় রোজা রাখার কথাও বলা হয়েছে।

এ রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানা যায়, ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের এ দিনে মদীনা মনোয়ারার উপকণ্ঠে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) সালাতরত অবস্থায় জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে মুখ ফিরিয়ে মক্কার বায়তুল্লার দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের ওহী লাভ করেন। সেই থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সালাত আদায়ের এ প্রথা কার্যকর রয়েছে। এছাড়া ওই বছরের এদিনেই মাহে রমজানের সিয়াম পালনের বিধান জারি করা হয়।