১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতার মহেশখাল বাঁধ ভাঙ্গার চেষ্টা

চট্টগ্রামে বিক্ষুব্ধ জনতার মহেশখাল বাঁধ ভাঙ্গার চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ শনিবার ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন রিপাবলিক ক্লাব এলাকা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হওয়ার কারণে স্থানীয় জনতা বাঁধ ভেঙ্গে দেয়ার চেঁষ্টা চালায়। হাজার হাজার মানুষ এতে অংশ নিলে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়। কিন্তু পুলিশের বাধাও উগ্র কিছু মানুষ মানছিল না। ফলে পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি ছুড়ে। জনতার পক্ষ থেকে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। এতে বন্দর থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিমসহ উভয় পক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু চট্টগ্রামসহ উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করার পর বেলা ২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর রিপাবলিক ক্লাব এলাকার পাশে নির্মিত মহেশখাল বাঁধ ভেঙ্গে দিতে যায়। কারণ হিসেবে বলা হয়, গেল বছর এ বাঁধ নির্মিত হওয়ার পর থেকে খালের বিপরীতে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে থাকে। পোর্ট পুরনো মার্কেট, এছহাক ব্রাদার্স কন্টেনার ইয়ার্ড, আদর্শপাড়া, দীঘিরপাড়া, মুন্সীপাড়া, ১ নম্বর সাইটপাড়া, নিশ্চিন্তাপাড়া, ধোপপুল, মাইজপাড়া, ঈশান মিস্ত্রীর হাট, পুরাতন ডাকঘর, হাজী আবদুল আলিমের বাড়িসহ সর্বত্র কোথাও কোমর পানি, কোথাও হাঁটু সমান জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে থাকে। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম হয়েছে আগে থেকেই। কিন্তু মহেশখাল বাঁধ নির্মিত হওয়ার পর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু কপাল পুড়েছে বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের বিপরীতে বিশাল এলাকাজুড়ে জনমানুষের।

শনিবার ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত হানার পর এলাকাজুড়ে পানি বাড়তে থাকে। সর্বত্র সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে মহেশখাল বাঁধ ভেঙ্গে দেয়ার জন্য তৎপর হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্তলে পৌছায় এবং জনতাকে বাধা দেয়। কিন্তু জনতার একটি অংশ ছিল বেপরোয়া। বন্দর থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম জনকণ্ঠকে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে প্রায় ৩৫ রাউন্ড শটগানের গুলি এবং চার রাউন্ড টিয়ার সেল ছোড়ে। উচ্ছৃঙ্খল জনতার ইট-পাটকেলের আঘাতে তিনি নিজেও আহত হন। এছাড়া উভয় পক্ষের আহতের সংখ্যা ১৫ বলে তিনি স্বীকার করেছেন। ঘটনার পর পুলিশ মহেশখাল বাঁধ ঘিরে পাহারা আরোপ করেছে। তবে পরিস্থিতি থমথমে। যে কোন মুহূর্তে আবারও উস্কানিদাতাদের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ বাঁধের যে কোন অংশ কেটে দিতে পারে। অপরদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকাকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে যে বাঁধ দেয়া হয়েছে তাতে হাজার হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ঘটনা মানা যায় না। ফলে মানুষের মাঝে ক্ষোভের জন্ম হয়েছে। শনিবার এ ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে।