২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একটি রাজনৈতিক দল জঙ্গীদের মদদ দিচ্ছে ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একটি রাজনৈতিক দল জঙ্গীদের  মদদ দিচ্ছে ॥  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জঙ্গী নিয়ন্ত্রণে নবগঠিত কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। ঢাকায় এ ইউনিটের এক কর্মশালায় দেশী-বিদেশী প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেনÑ এতে কার্যকর সুফল পাওয়া যাবে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া বানচাল করতে নিষ্ক্রিয় জঙ্গীদের সক্রিয় করে দেশের ভেতরে নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। বিভিন্ন মহল বাংলাদেশে জঙ্গীদের উস্কে দিচ্ছে। এদের মধ্যে একটি রাজনৈতিক দল জঙ্গীদের মদদ দিচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর রাজারবাগ ডিএমপি ট্রেনিং সেন্টারে ‘টেরোরিস্ট থ্রেট এ্যান্ড রেসপন্স’ বিষয়ক সপ্তাহব্যাপী এ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি আয়োজন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রেনিং একাডেমি এবং সিঙ্গাপুরের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স এ্যান্ড টেররিজম রিসার্চ সংস্থা।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, বিভিন্ন মহল জঙ্গীদের উস্কে দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে একটি দলও জঙ্গীদের মদদ দিচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে দেশে জঙ্গী মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশের বিশেষ এ ইউনিটকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ জঙ্গীবাদের সমস্যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বে। সিটি ইউনিটে সক্ষমতা বাড়াতে আমরা কাজ করছি। এ ইউনিটকে শক্তিশালী করতে যত প্রকার প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা প্রয়োজন তার ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশে থাকা জঙ্গী সদস্যরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে ও দমন করতে সিটি ইউনিটের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম টিমও কাজ করছে। এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতে সিঙ্গাপুরের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স এ্যান্ড টেররিজম রিসার্চের (আইসিপিভিটিআর) গবেষক ড. রুহান গুনারতœ বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি সিঙ্গাপুরের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান। কর্মশালায় পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি ও সিআইডি’র ৫৬ সদস্য অংশ নেন।

ড. রুহান গুনারতœ বলেন, শুধু জঙ্গীদের গ্রেফতার করলেই হবে না, তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হবে। ইন্টারনেট ও সাইবার টেকনোলোজির মাধ্যমে জঙ্গীরা বেশি যোগাযোগ করে। তারা সাইবারের মাধ্যমে নানাভাবে সদস্য সংগ্রহ করছে। সহজেই তারা নাশকতামূলক নির্দেশনা দিতে সক্ষম হচ্ছে। এতে তারা সংগঠিত হয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। দেশের জঙ্গীবাদ দমন করতে হলে ইন্টারনেট ও সাইবার মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তা না হলে জঙ্গীবাদ কোনভাবেই দমন করা সম্ভব নয়। এছাড়া জঙ্গীবাদ ইসলামের সঙ্গে কোনভাবেই সম্পৃক্ত নয়। তারা কোন ধর্মের জন্য নয়, তারা মূলত সন্ত্রাসী। তারা নানাভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে থাকে। জঙ্গীরা যে কোন ধর্মের অনুসারী হতে পারে।

সিটি ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটি) পুলিশের একটি নতুন ইউনিট। ইউনিটের নানাবিধ কার্যক্রম সম্পর্কে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এ কর্মশালায় আলোচনার বিষয়গুলো ধারণ করে সবাই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে আমি আশা করছি। এতে দেশের জঙ্গীবাদ দমনে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেনÑ র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সিটি ইউনিটের প্রধান মোঃ মনিরুল ইসলাম, সিঙ্গাপুরের আইসিপিভিটিআর’র প্রধান ড. রোহান গুনারতœ, ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মারুফ হোসেন সরদার ও গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম।