১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চর্যাপদ প্রকাশনার শতবর্ষ পূর্তির আয়োজন- চর্যাগানের পুনর্জাগরণ

চর্যাপদ প্রকাশনার শতবর্ষ পূর্তির আয়োজন- চর্যাগানের পুনর্জাগরণ
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শ্বেতবর্ণের পোশাকে অর্ধ বৃত্তাকার হয়ে বসেছেন শিল্পীরা। কারও হাতে একতারা, কেউ বাজাচ্ছেন তবলার বোলম কারও হাতে দোতারা কিংবা খঞ্জনি, কেউবা আবার সুর ধরেছেন হারমোনিয়ামে। মঞ্চের চারপাশজুড়ে স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়েছে সারি করে সাজানো প্রদীপগুলো। শিল্পী গান ধরছেন তবে হাতে নেই মাইক্রোফোন। তাই প্রকৃত কণ্ঠস্বরের স্বাদটুকু অনুভব করছিলেন শ্রোতারা। এমনই ভিন্ন আবহে আবিষ্কারের শত বছর পর সবার সামনে উপস্থাপিত হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’। রূপান্তরিত হয়ে গ্রামবাংলার সহজিয়া সুরে উপস্থাপিত হলো গান। আর এভাবে উপস্থাপনার মাধ্যমে যেন শহুরে সমাজে পুনর্জাগরণ ঘটল চর্যাগানের। চর্যাপদের পদগুলোকে গীতলরূপে উপস্থাপনের এ অনন্য অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে করে ভাবনগর ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। শনিবার বিকেল থেকে রাত অবধি চর্যাগানের পুনর্জাগরণের শীর্ষক অনুষ্ঠাটি হয়ে গেল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে।

বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ। শত বছর আগে নেপালের রাজদরবার থেকে আবিষ্কৃত হয়েছিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম এই নিদর্শন। চর্যাপদ প্রকাশনার শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রাচীন চর্যার ৫০টি পদের সমকালীন বাংলা রূপান্তরিত গীতবাণী সংগীত আকারে উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি ছিল চর্যাসংস্কৃতির ওপর আলোচনা ও চর্যানৃত্য পরিবেশনা। গোটা আয়োজনের পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রাচীন চর্যার সমকালীন বাংলা রূপান্তর ও গ্রন্থনা করেন সাইমন জাকারিয়া।

অনুষ্ঠানের সূচনা চর্যাপদের প্রথম পদ ‘কাআ তরুবর’ গানের পরিবেশনার মাধ্যমে। এ গানটির সুরারোপিত হয়েছে ভাওয়াইয়া গানের ঢঙে। শাহ আলম দেওয়ানের কণ্ঠে দ্বিতীয় পরিবেশনা ছিল ‘নাও বয়ে যায় গঙ্গা-যমুনায় হায়’। তৃতীয় পরিবেশনা ছিল কাহ্নপা রচিত বিবাহ বিষয়ক রূপক পদ ‘জয় জয় ধ্বনি’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন কবি অসীম সাহা, কবি ও রাজনীতিবিদ নূহ-উল-আলম লেনিন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, চর্যাপদের ভাষা অনেকের কাছেই বোধগম্য নয়। তাই চর্যার এসব গানে চিরায়ত বাংলা গানের সুর ব্যবহার করা হয়েছে। চর্যাপদের গানগুলো সহজ ভাষায় অনূদিত হলে এবং অন্তর্নিহিত ভাবটি ঠিক থাকলে শিল্পের এই ধারাটি ছড়িয়ে দেয়া সহজ হবে।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, চর্যাপদের পদগুলোতে আদিতে রাগ-রাগিনীর উল্লেখ ছিল। সেসব রাগের অনেকগুলো এখনও লুপ্ত হয়ে যায়নি। সেসব রাগ অনুযায়ী গানগুলোকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। চর্যাপদের আলাদা উচ্চারণরীতি ছিল, সেই উচ্চারণ রীতিও অনুসরণ করা যেত। এছাড়া পদগুলো সহজ বাংলায় রূপান্তরিত করলেই সবাই যে বুঝতে পারবে তা নয়, কারণ এসব পদ রূপক।

চর্যাপদের পদগুলোতে নতুন ভাষা ও সুরারোপ প্রসঙ্গে অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, চর্যার সুরারোপ ও ভাষা আরও মূলানুগ করতে পারলে ভাল ছিল। নেপালের রাজদরবারে চর্যাপদের যে পা-ুলিপি সংরক্ষিত ছিল, এখন সেটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। চর্যাপদের পা-ুলিপি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশেরও উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, আজ শুধু চর্যাপদ আবিষ্কারের শতবর্ষ নয়, বৌদ্ধ পূর্ণিমাও। বৌদ্ধ ধর্মীয় সাধনা যেহেতু বৌদ্ধ ধর্মের মূল উপজীব্য, ফলে আজ এই পরিবেশনা খুব প্রাসঙ্গিক। এই গানগুলোর সুর ও উচ্চারণ যদি মূলানুগ হতো, তবে আরও উপভোগ্য হতো।

চর্যাগানে অংশ নেন শাহ আলম দেওয়ান, অন্তর সরকার, সরদার হীরক রাজা, রবীউল হক, মোবারক হোসেন, জসীম উদ্দীন, সরদার শাহাদাত হোসাইন, ফারজানা আলম লীনা, নাদিরা ইসলাম, ফারুক নূরী ও রাশিদুজ্জামান। অতিথি শিল্পী ছিলেন গবেষক ড. সাইম রানা। তাঁদের পরিবেশিত চর্যা গানগুলোর শিরোনাম ছিলÑ ‘শরীর গাছে পাঁচখানি ডাল’, ‘এ ভব নদী গম্ভীর বেগে’, ‘মোহে কেটে যেই লাগাই তিনটি পাট’, ‘হাওয়া-দমে পথ বন্ধ কেন হয়’, ‘আলিঙ্গন দাও যোগিনী গো তুমি’, ‘কাছিম দুয়ে পাত্রে না ধরা যায়’, ‘সহজ মহাতরু স্ফুরিত এ ত্রিলোক’, ‘শূন্যে শূন্যে যখন মিলিত’, ‘আপনাতে নেই আপনা আমার’সহ চর্যাপদের প্রায় প্রতিটি পদই। অনুষ্ঠানে চর্যানৃত্য পরিবেশন করেন ওয়ার্দা রিহাব।

গ্যোয়টে ইনস্টিটিউটে সাহিত্য আলোচনা ॥ শনিবার সন্ধ্যায় ‘দি ডার্ক শিপ’ শীর্ষক সমকালীন জার্মান সাহিত্য গ্রন্থের ইংরেজী ভাষায় অনূদিত সংস্করণের ওপর প্রাণবন্ত সাহিত্য আলোচনার অনুষ্ঠিত হলো ধানম-ির গ্যোয়টে ইনস্টিটিউটে। দি রিডিং সার্কেলের (টিআরসি) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় এই সাহিত্যসভা।

এই সাহিত্য আলোচনায় সমকালীন জার্মান সাহিত্যিকদের মধ্যে সফল লেখক সেরকো ফাতাহর দি ডার্ক শিপ শীর্ষক গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। গ্রন্থটি একাধারে থ্রিলার ও রাজনৈতিক উপাখ্যান। সেরকো ফাতাহর উপন্যাসটিতে উঠে এসেছে জার্মানি তথা ইউরোপের সমসাময়িক বিষয়। বর্ণিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম ও অভিবাসনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়। রিডিং সার্কেলের পক্ষে গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেন ড. নিয়াজ জামান, সৈয়দ বদরুল হাসান, আসফা হোসেন প্রমুখ।

নাশিদ কামালের এ্যালবামের প্রকাশনা ॥ আসন্ন নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত হলো নাশিদ কামালের সঙ্গীত সংকলন। মূলত কাজী নজরুলের ইসলামের জীবন নিয়ে সংকলিত হয়েছে। কবির জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের গল্প ও গানে সাজানো হয়েছে এ্যালবামটি। গানে গানে নজরুল জীবন শীর্ষক এ্যালবামটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান হলো শনিবার। সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান লেডিস ক্লাবে।

সংকলনটির মোড়ক উন্মোচন করেন নজরুল গবেষক মুস্তাফা জামান আব্বাসী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ও সঙ্গীত শিক্ষক ফেরদৌসী রহমান এবং নজরুলের নাতনি কণ্ঠ ও আবৃত্তিশিল্পী অনিন্দিতা কাজী। মোড়ক উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নাশিদ কামালের সঙ্গীত পরিবেশনা।