২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রামে দেড় শ’ কোটি টাকার ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রামে দেড় শ’ কোটি টাকার ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, আনোয়ারা ও সীতাকু- উপজেলায় ৫০ কোটি টাকা সমপরিমাণ ফসলের ক্ষতি ও ১০০ কোটি টাকার গবাদি পশু ও মৎস্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এতে প্রায় আড়াই লাখ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালীতে।

শনিবার দুপুর ১২টায় রোয়ানু আঘাত হানার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নগরীর সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরেন।

জেলা প্রশাসক জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত হানার খবরে গত তিনদিন ধরে মানুষ উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে পার করেছে। ঘূর্ণিঝড়টি ভয়াবহতা নিয়ে আমাদের যে তথ্য দেয়া হয়েছে, আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহর কৃপায় আমরা যেই পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করেছি সেই পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কিন্তু যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটি ভয়াবহ।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে চট্টগ্রাম জেলায় সর্বমোট ১২ জন মারা যান। এর মধ্যে মহানগরের হালিশহর এলাকায় চিংড়ি ঘেরে কাজ করার সময় একই পরিবারের দুই ভাই, আম কুড়ানোর সময় এক শিশু মারা যায়। বাঁশখালী আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে আসা পানির ঢলে ভেসে মারা গেছেন ৭ জন। সীতাকু-ে পাহাড় ধসে মা-ছেলে মারা গেছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সন্দ্বীপে ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এবং বাঁশখালীতে ৩০ কিলোমিটারের মতো বেড়িবাঁধ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন পতেঙ্গা এলাকায় প্রায় ১০০ ঘরবাড়ি দোকান ঝড়ের কবলে আংশিক ও পুরোপুরি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে কি পরিমাণ সড়ক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এ ব্যাপারে তিনি জানাতে পারেননি।

জেলা প্রশাসক বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে আছে। তাই এখনও সড়কের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা যায়নি। দুয়েকদিনের মধ্যে পানি সরে গেলে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে জেলার ৪৭৯টি সাইক্লোন সেন্টারে প্রায় ২ লক্ষাধিক লোক আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের আরও সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।

সন্দ্বীপ উপজেলায় ১ লাখ টাকা ও ১৫ মেট্রিক টন চাল, বাঁশখালীতে ১ লাখ টাকা ও ৫ মেট্রিক টন চাল, আনোয়ারায় ৫০ হাজার টাকা ও ৩ মেট্রিক টন চাল এবং সীতাকু-ে ৪০ হাজার টাকা ত্রাণ সাহায্য বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ ও চাল বরাদ্দ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কাছ হতে চাহিদার ভিত্তিতে তা বিতরণ করা হবে।

পুনর্বাসন সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আজই সরকারের কাছে জানাব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও টিন রয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের, সেই খান থেকে তহবিল এনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।