১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নরপশুর নির্যাতনে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এক শিশু

নিয়াজ আহমেদ লাবু ॥ হতভাগী শিশুটি কে? বয়স আনুমানিক ১০ বছর। তার সারা শরীরে জখমের চিহ্ন। নতুন আঘাতের সঙ্গে পুরনো ক্ষত চিহ্নের দগদগে ঘা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেডে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে মেয়ে শিশুটি। সে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। শনিবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হতভাগী এই শিশুটির কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে ভর্তি করে শরীফুল নামের এক যুবক পালিয়ে যান। হাসপাতালের নথিপত্রে সেই শরীফুল লিখেছেন- মেয়েটির নাম হাসিনা। তিনি ‘হাসিনার’ আত্মীয়। মোহাম্মদপুর এলাকার সুনিবিড় হাউজিং সোসাইটির একটি ভবন থেকে শিশুটিকে এনেছেন শরীফুল। তবে হাসপাতালে ভর্তি করেই তিনি গা ঢাকা দেয়ায় সন্দেহ হয়েছে পুলিশের। শরীফুল নামের ওই যুবকের আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছে- শিশুটির ওপর দীর্ঘদিন অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। শনিবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেয়েটির জ্ঞান ফিরেনি। তার পরিচয়ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পলাতক শরীফুলকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর সিদ্দিকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে শরীফুল নামে এক যুবক শিশুটিকে ঢামেকে ভর্তি করে। ২০৬ নম্বর মহিলা ওয়ার্ডে শিশুটি ভর্তি আছেন। হাসপাতালের খাতায় শিশু হাসিনার বাবার নাম মৃত আব্দুল রাজ্জাক। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার পূর্ব শাহাপুর, ফরিদগঞ্জ উল্লেখ করা হয়। তখন শরীফুল জানিয়েছেন, শিশুটিকে তিনি মোহাম্মদপুর এলাকার সুনিবিড় হাউজিং সোসাইটি ভবন থেকে এনেছেন। তিনি নিজে গাজীপুর শ্রীপুরে মুরগির ব্যবসা করেন। পরে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরের টাউন হলের মুরগি ব্যবসায়ী তিনি।

পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, শরীফুল শিশুটিকে ভর্তি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তার মোবাইল ফোনটি রাখা হয়। কিন্তু ভর্তির পর শরীফুল ফোন রেখেই পালিয়ে যান। শরীফুলের উল্লেখিত বাসাটি আদাবর থানা এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি আদাবর থানা পুলিশকে জানানো হয়। রাতে হাসপাতাল ফাঁড়ি পুলিশ থেকে আদাবর থানার ওসি শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা সুনিবির হাউজিং সোসাইটিতে খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু ওই ভবনের বাসিন্দারা বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। শরীফুলের ব্যাপারেও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। আর শিশুটি অচেতন থাকায় কিছু জানা সম্ভব হয়নি। তার জ্ঞান ফিরলে আসল ঠিকানাসহ সবকিছু জানা যাবে।

ঢামেকের মহিলা ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. আসিফ মাহমুদ জানান, শিশুটির সারা শরীরে নতুন ও পুরাতন আঘাতের দগদগে ঘায়ের চিহ্ন রয়েছে। মাথা, মুখমণ্ডলেও জখমের চিহ্ন। শিশুটির রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন স্বজন না থাকায় এসব করা হয়নি। ফলে তার জ্ঞান না ফেরার কারণ ও কি সমস্যা এসব জানা সম্ভব হয়নি। ঢামেকের ক্যাজুয়ালিটি ব্লকের সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ মোস্তফা আল মামুন জানান, শিশুটির জ্ঞান ফিরেনি। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু হয়েছে। মলমসহ বিভিন্ন ওষুধ পথ্য দেয়া হচ্ছে।