২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশে ১৪ ক্রিকেটারের বোলিং এ্যাকশন অবৈধ!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টি২০ বিশ্বকাপের মাঝপথে তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির বোলিং এ্যাকশন অবৈধ হওয়ার পর যেন টনক নড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। কিন্তু তাতেও কী কাজ হয়েছে? না শুধরে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগ তো ঠিকই তারা খেললেন। শুধু তাসকিন, আরাফাত কেন; লীগে আরও অনেক বোলারই অবৈধ বোলিং এ্যাকশন নিয়েই বোলিং করে গেছেন। সেই সংখ্যা লীগ শেষে তাসকিন ও আরাফাতকে বাদ দিয়ে ১৩ থেকে ১৪’তে দাঁড়িয়েছে।

এমনই জানিয়েছেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও বোলিং এ্যাকশন রিভিউ কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস। এ বোলারদের নিয়ে ঈদের পর এ্যাকশন শুধরানোর কাজ করা হবে। যদি সেই কাজে সফল হতে পারেন বোলাররা, তাহলে সামনে যে ঘরোয়া লীগ হবে, সেখানে খেলতে দেয়া হবে। আর যদি বোলিং এ্যাকশন শুধরে নিতে না পারে অবৈধ এ্যাকশনে চিহিৃত হওয়া বোলাররা; তাহলে এক বছর নিষিদ্ধ হবেন। জালাল ইউনুসই যেমন বলেছেন, ‘ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে অন্তত ১৩ থেকে ১৪ জন বোলারের এ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঈদের পরেই আমরা তাদের নিয়ে কাজ শুরু করব। সাবেক স্পিনার ওমর খালেদ এবং সাবেক দুই পেসার দিপু রায় চৌধুরী ও গোলাম ফারুক তাদের নিয়ে কাজ করবেন। যদি খালি চোখে বা ক্যামেরাতে তাঁদের এ্যাকশনের ত্রুটি ধরা পড়ে, তাহলে আমাদের সেগুলো শুধরে নিতে হবে। এরপর যদি সেই বোলাররা শুধরে নেয়া এ্যাকশনে ধারাবাহিকভাবে বোলিং করতে পারেন, তাহলে খেলতে পারবেন আগামী বছরের লীগে। আর যদি আবারও তাঁদের এ্যাকশন নিয়ে রিপোর্ট আসে তাহলে নিষিদ্ধ করা হবে এক বছরের জন্য।’

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্রথম সপ্তাহে ছয়জনের বোলিং এ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন আম্পায়াররা। এঁদের মধ্যে ছিলেন নাঈম ইসলাম জুনিয়র, ফয়সাল হোসেন, মমিনুল ইসলাম, রেজাউল করিম, অমিত কুমার ও অফস্পিনার মুস্তাফিজুর রহমান। প্রিমিয়ার লিগের বাকি সময়ে এঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো সাত-আটজনের নাম। অবৈধ বোলিং এ্যাকশন শুধরে নেয়ার কাজে সহায়তার জন্য আবার কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসা হবে বলেও জানিয়েছেন জালাল ইউনুস। প্রযুক্তিগত নানা বিষয়ে আইসিসি থেকেও সহায়তা নেয়া হবে। বোলিং এ্যাকশন শোধরানোর জন্য বাংলাদেশে কোন ল্যাব নেই। বিসিবি এখন ভাবছে সেই ল্যাবটিও করে ফেলতে। মূল সমস্যাটা হলো, বাংলাদেশে বোলিং এ্যাকশন শুধরানো নিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির ব্যবস্থা নেই। একটি ল্যাব করা যেন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। বিসিবির পরিকল্পনাতেও রয়েছে সেই পরিকল্পনা। আপাতত স্বল্প পরিসরেই ল্যাবটি করতে চায় বিসিবি। এমন তথ্যও দিয়েছেন বিসিবির বোলিং এ্যাকশন রিভিউ কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস, ‘প্রযুক্তি অবশ্যই দরকার। এখন আমাদের যা আছে তা নিয়ে কাজ করছি। এরপর আমরা একটি মিনি ল্যাব করারও চিন্তা করছি। যেন পরীক্ষার বিষয়গুলো এ দেশেই করা সম্ভব হয়। একটু সময় লাগবে ল্যাব করতে। তবে আশা করি এই নিয়ে পরিকল্পনার কাজ খুব দ্রুতই শুরু হবে।’

অবৈধ বোলারদের নিয়ে ঈদের পরই কাজ শুরু করে দেবে বিসিবি। তবে এই কাজের আওতায় থাকবেন না তাসকিন ও আরাফাত। তাদের নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করা হবে। কাজ করে আগামী সিরিজের আগে আইসিসি স্বীকৃত কোন বোলিং এ্যাকশন শুধরানোর ল্যাবে পরীক্ষাও দেবেন। জালাল ইউনুস জানালেন, ‘আমাদের কার্যক্রমের আওতায় তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি নেই। জাতীয় দলের ম্যানেজম্যান্ট তাদের নিয়ে কাজ করছে। তাদের প্রিমিয়ার লিগের ভিডিও ফুটেজ দেখে যদি সন্তুষ্ট হওয়া যায়, একই সঙ্গে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় তবে আগামী আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে তারা তাদের দ্বিতীয় পরীক্ষা দিতে যাবে।’ বাংলাদেশের আগামী সিরিজটি হবে অক্টোবরে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। যদি এর আগে বিসিবি কোন সিরিজ আয়োজন করতে পারে, তাহলে তার আগে; নয়ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগে আবার পরীক্ষা দেবেন। তাসকিন ও আরাফাত জাতীয় দলের ক্রিকেটার। তারা দেশের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসবেন। অবৈধ বোলিং এ্যাকশনের দোষে দোষী বাকি বোলাররা দেশেই নিজেদেরকে শুধরে নেবেন।