১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানবসৃষ্ট কারণে বদলাচ্ছে এশিয়ার মৌসুমী জলবায়ু

  • বিশেষজ্ঞদের অভিমত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এশিয়ার পানির উৎসগুলো যেমন উষ্ণ হয়ে উঠছে তেমনি পরিবর্তন হচ্ছে মৌসুমী জলবায়ুর ধারা। বিশেষ করে ভারতে প্রতি বছর তাপমাত্রা যেমন বেড়ে চলেছে তার ফলে বাড়ছে বৃষ্টির জন্য কৃষকের হাহাকার। ইকোনমিক টাইমস।

ভারতে মৌসুমী জলবায়ুর সঠিক পূর্বাভাষ এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১২৫ কোটি লোক অধ্যুষিত দেশটির ৭০ শতাংশ মানুষ এখনও কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। বীজ বপন ও শস্য ফলনের জন্য তাদের আবহাওয়ার পূর্বাভাষের দিকে চেয়ে থাকতে হয়। কিন্তু যথাসময়ে সঠিক পূর্বাভাষটি পাওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ঠিকমতো পূর্বাভাষ করার কাজটি জটিল হয়ে উঠছে বিভিন্ন কারণে। বায়ু ম-ল ও মহাসাগরীয় তাপমাত্রা থেকে শুরু করে, বায়ু প্রবাহ বা এমনকি দক্ষিণ মেরুর বরফও দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমী জলবায়ুর পূর্বাভাষ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বহুবিধ কারণ সংশ্লিষ্ট থাকায় মৌসুমী জলবায়ু ধরনই এখন পাল্টে যাচ্ছে।

মানব-সৃষ্ট কারণগুলোই জলবায়ু পরিবর্তনের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখছে, সায়েন্স এ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পোহাঙ্গ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজির বিশেষজ্ঞরা প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করেন। এশিয়া মহাদেশের কাছাকাছি পুরো নিরক্ষীয় অঞ্চলজুড়ে সাগর মহাসাগরের ওপরের অংশের তাপমাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ভারতের মৌসুমী জলবায়ুসহ আঞ্চলিক বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য বদলে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে মহাসাগরীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যেমন বাড়বে তেমনি তীব্রতর হবে ঘূর্ণিঝড়। এছাড়া আঞ্চলিক প্রাকৃতিক দুর্যোগও বেড়ে চলবে। প্রতিবেদন প্রণয়নকারী গবেষক দলের প্রধান ইভান ওয়েলার বলেন, ‘এশিয়ার একটি বড় এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য বদলে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। মহাদেশের বিশাল সংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বসবাস এই অঞ্চলে। প্রতিবেদনে ইন্দো প্যাসিফিক ওয়ার্মপুল (আইপিডব্লিউপি) নামে পরিচিত ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতম অংশটির দিকেই মূলত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশ্বের উষ্ণতম সামুদ্রিক জলস্রোত এখানে পুঞ্জীভূত হয়েছে। ভারতে মৌসুমী জলবায়ুর ওপর ওয়ার্মপুলর প্রভাব আছে, জলবায়ু বিজ্ঞানীরা তা অনেকদিন ধরেই জানতেন। তারা এটাও জানতেন ওয়ার্মপুল প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে ও ভারতে মহাসাগরের পূর্বদিকে প্রসারিত হচ্ছে। গত প্রায় ৬০ বছরে অ্যারোসল ও অন্যান্য গ্রীন হাউস গ্যাসের নিঃসরণের ফলে আইপিডব্লিউপি শক্তিশালী হয়েছে বলে ওয়েলার ও সহকর্মীদের পর্যবেক্ষণে এটি উঠে এসেছে। তথ্য ও উপাত্তের পাশাপাশি তারা এক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্লাইমেট মডেল ব্যবহার করেছেন। ওয়েলার বলছেন, আইপিডব্লিউপির প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশের চেয়ে ভারতে মহাসাগরীয় অংশটি দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর নির্দিষ্ট কারণ অবশ্য জানা যায়নি। এটি ভবিষ্যতে জানা যাবে বলে ওয়ালার আশা প্রকাশ করেছেন।