০৩ জুলাই ২০১৬

যশোরে ৭০ বছর পর কালাজ্বর রোগী শনাক্ত

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরে প্রায় সাত দশক পর কালাজ্বর শনাক্ত হয়েছে। কালাজ্বর নিশ্চিত হওয়ার পর গত বুধবার এক রোগীকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কালাজ্বরে আক্রান্ত তাসলিমা খাতুন (৩৫) যশোর সদর উপজেলার নূরপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া রিক্সাচালক নজরুল ইসলাম শেখের স্ত্রী। তাদের গ্রামের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কালীনগর গ্রামে। ১৯৪৭ সালের পর যশোরে কালাজ্বরের রোগী শনাক্ত করা হলো।

যশোরের সিভিল সার্জন ডাঃ আবুল ফজল জানান, কালাজ্বরে আক্রান্ত রোগী তাসলিমার চিকিৎসা চলছে। সরকারের কালাজ্বর নির্মূল প্রকল্পের আওতায় তার চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তা শীঘ্রই যশোরে আসছেন। একই সঙ্গে ময়মনসিংহের কালাজ্বর গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদেরও এই রোগীর বিষয়ে জানানো হয়েছে। তারাও এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সিভিল সার্জন আরও বলেন, যশোরে ১৯৪৭ সালে কালাজ্বরের রোগী শনাক্তের রেকর্ড আছে। এরপর গত সাত দশকে এই রোগে আক্রান্ত কোন রোগীর সন্ধান মেলেনি। এবার তাসমিলা খাতুনের শরীরের কালাজ্বর শনাক্ত করা হয়েছে।

উকিপিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, বেলেমাছির কামড়ের দ্বারা এটি বিস্তর লাভ করে। পরজীবীঘটিত রোগগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রোগ। ১৯৪৭ সালের আগে বাংলাদেশের ৪৬টি জেলায় কালাজ্বর দেখা যায়। এর মধ্যে ময়মনসিংহ, পাবনা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও জামালপুর অঞ্চলে এই রোগটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ গৌতম কুমার আচার্য্য বলেন, কালাজ্বরের জীবাণুর বাহক বেলেমাছি। এই রোগকে ইনফেশন ডিজিজ বলা হয়। পরীক্ষার-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাসলিমার শরীরে কালাজ্বরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কালাজ্বরের প্রাদুর্ভাব ময়মনসিংহ অঞ্চলে দেখা যায়। যশোর অঞ্চলে ১৯৪৭ সালের পর দেখা যায়নি। প্রায় ৭০ বছর পর যশোরে আবার কালাজ্বরের রোগী শনাক্ত হলো। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাসলিমা খাতুন জানান, ৬-৭ মাস আগে তিনি জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।