১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

অনলাইন ডেস্ক॥ হালকা বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সোমবার রাত থেকেই থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার ভোর থেকে এর তীব্রতা আরো বেড়ে গেছে। গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে চন্দ্রা ত্রিমোর হয়ে টাঙ্গাইল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৫ কিলোমিটার যানজট দেখা দেয়। একদিকে যানজট, অন্যদিকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গগামী গণপরিবহনের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে যানজট কিছু বাড়তে থাকে। এ যানজট মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা/ভোগড়া বাইপাস থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় হয়ে টাঙ্গাইলের সোহাগ পাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৫ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। কালিয়াকৈর থানা পুলিশ, গোড়াই ও সালনা হাইওয়ে পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ ও রোভার স্কাউটরা যানজট নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঈদের আগে সোমবার শেষ কর্মদিবসে শিল্পকারখানার শ্রমিকরা বেতন বোনাস পেয়ে দুপুরের পর থেকে হাজার হাজার শ্রমিক একযোগে বাড়ির পথে রওনা হওয়ায় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

অবশ্য সোমবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে মহাসড়কে তেমন কোন যানজট দেখতে পাননি। মন্ত্রী পরিদর্শন করে চন্দ্রা এলাকা ত্যাগ করার পরই প্রচন্ড বৃষ্টির কারণে যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। পরে বৃষ্টি কমে গেলে যাটজট আর কমেনি। বরং শিল্পকারখানার ছুটি অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের রিজার্ভ করা যানবাহনগুলো মহাসড়কে উঠতেই এ যানজট তীব্র হয়ে যায়।

যানজটের কারণে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তাছাড়া মহাসড়কে কোন লোকাল গাড়ি না থাকায় চন্দ্রা থেকে আসা পাশের স্টেশনের যাত্রীদের পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। চন্দ্রা ত্রিমোর থেকে ৩ শতাধিক বাস কাউন্ডার বন্ধ করে দেয়ায় উত্তরবঙ্গেও যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে। তবু নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে বাসগুলোর ভিতরে ও ছাদে রয়েছে যাত্রী ঠাসা। তাছাড়া ট্রাক, পিকআপ, লেগুনায় চেপেও যাচ্ছেন যাত্রীরা।

যানজট নিরশনে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও মহাসড়কের কালিয়াকৈরের উত্তর হিজলতলী এলাকায় বংশাই ব্রীজের উপর উত্তরবঙ্গ থেকে আাসা একটি যাত্রীবাহী বাস বিকল হয়ে গেলে যানজট অনেকটা বেড়ে যায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশে রেকার এসে মহাসড়ক থেকে বিকল গাড়িটি সড়িয়ে নিলে যানবাহল চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়। রাতভর প্রচণ্ড বৃষ্টি থাকায় গাড়ির চাকা যেন আর ঘুরছে না।

অবশ্য মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর সোমবার বিকেলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়কে যানজট মুক্ত রাখতে এবারও প্রতি বছরের ন্যায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশ ও রোভার স্কাউটরা মহাসড়ককে যানজট মুক্ত রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মহাসড়কে কোন যানজট হওয়ার আশঙ্কা নেই।

চন্দ্রায় দায়িত্বরত কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোতালেব মিয়া বলেছেন, সোমবার সন্ধ্যায় বংশাই ব্রীজের উপর গাড়ী বিকল হওয়ায় এবং রাতে বৃষ্টির কারণে সমান্য যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দুপুরের মধ্যে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।