১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গুলশানে নিহতদের শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় স্মরণ করল জাপান

 গুলশানে নিহতদের শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় স্মরণ করল জাপান

অনলাইন ডেস্ক॥ ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত জাপানিদের গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় স্মরণ করেছে জাপান। শোক প্রস্তাব করা হয়েছে দেশটির মন্ত্রিপরিষদে।

আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সকাল ৫ টা ৫০ মিনিটে হানেদা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে লাশবাহী বিশেষ বিমানটি অবতরণ করার পর সেখানেই জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, ডেপুটি মুখ্য সচিব কচি হাজিদা, জাইকার প্রধান শিনিচি কিতাওয়াকা ও টোকিওস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রুবাব ফাতেমা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর তারা এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।

গেল শুক্রবার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে বন্দুকধারীরা। পরদিন সকালে কমান্ডো অভিযানে ওই ক্যাফের নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তা বাহিনী।

সেখান থেকে ২০ জন জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও তিনজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

হামলায় জাপানের সাত নাগরিক ছাড়াও ইতালির নয়জন এবং ভারতের এক নাগরিক নিহত হন।

সকালে শ্রদ্ধা জানাতে এসে বিমানবন্ধরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রাণগুলো অনেক মূল্যবান ছিল। তাদের আত্মদান আমরা গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি। এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় আমার খুব কষ্ট পেয়েছি যা অকল্পনীয়।

আজ এই নিহতদের পরিবারের সদস্যেদের মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমরা তাদেরকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলেও তা কাজে দিচ্ছে না। সরকার তাদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেবে।

নিহত জাপানিদের প্রতি টোকিওস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রুবাব ফাতেমাফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

একই সাথে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদও শোক প্রস্তাব করে নিরবতা পালন করে। সকাল সাড়ে ১০ টায় এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, “আমরা সন্ত্রাসীদের ছাড় দেবো না। আমাদের সরকার সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক মহলকে সহায়তা দিয়ে আসছে, যাবে।”

তিনি আরো বলেন, “আমি নিহদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে তাদের পরিবারকে দেখাশোনার দায়িত্ব সরকার নেবে।”

জাপানে এই ধরনের কোন সন্ত্রাসীর স্থান নেই উল্লেখ করে আবে বলেন, সরকার দেশের ভিতরে ও বাহিরে জাপানিদের নিরাপত্তার জন্য সকল ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

এর আগে এক বিবৃতিতে শিনজো আবে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদ বিশ্বব্যাপী সমস্যা আর আমরা ইতিমধ্যে জাতিসংঘের সাথে এই বিষয়ে কথা বলেছি। জঙ্গিগোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে সব রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানান আবে। একই সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসার আশা ব্যক্ত করেন।