১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভয়ানক রূপ নিয়ে বিশ্বপরিসরে হাজির হচ্ছে আইএস

ভয়ানক রূপ নিয়ে বিশ্বপরিসরে হাজির হচ্ছে আইএস

অনলাইন ডেস্ক॥ গত অল্প কয়দিনেই ইরাক ও সিরিয়া ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর বিশ্বব্যাপী সম্ভাব্য নতুন ও ভয়ঙ্কর চেহারা দেখা গেল। এমনকি এই ইসলামি সন্ত্রাসবাদি সংগঠনটি আল কায়েদার চেয়েও ভয়ানক রুপ নিয়ে বিশ্বপরিসরে হাজির হতে চলেছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে।

গত ৩ জুলাই প্রকাশিত “অ্যাজ আইএসআইএস লুজেস ল্যান্ড, ইট গেইনস গ্রাউন্ড ইন ওভারসীজ টেরর” শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহেই তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের প্রধান বিমান বন্দরে আইএস এর দিক নির্দেশনায় আত্মঘাতি হামলা চালিয়েছে দেশটির ইসলামি জঙ্গিরা। আর গত শুক্রবার আইএস এর প্রতি আনুগত্য ঘোষণাকারী বাংলাদেশের স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় বর্বর হামলা চালায়। এদিকে রবিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আইএসের বোমা হামলায় নিহত হন ১৪০ জন।

এই তিনটি হামলাকেই যুক্তরাষ্ট্র আইএস এর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশু লক্ষণ হিসেবে গণ্য করছে। ইরাক ও সিরিয়ায় দখলকৃত ভুমি হারাতে থাকায় আইএস এবার আল কায়েদার মতো বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রুপান্তরিত হচ্ছে। এমনকি আল কায়েদার চেয়েও আরো বেশি ভয়ানক রুপ নিয়ে হাজির হচ্ছে সংগঠনটি।

দুই বছর আগে থেকেই আইএস ইউরোপ-আমেরিকায় তাদের সদস্যদের দিয়ে হামলা শুরু করে। আর এ উদ্দেশ্যে আইএস এখন আরো পরিপক্ক এবং শক্তিশালি একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নেটওয়ার্কটি এখন বিশ্বব্যাপী পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তগুলোতে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে বেশি।

বিশেষ করে গত মাসে ইরাকের ফাল্লুজা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর থেকেই আইএস এর তৎপরতায় এই নতুন মোড় নিতে লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ও পরামর্শকদের সহায়তায় ইরাকি বাহিনী ফাল্লুজা থেকে আইএস-কে বিতাড়িত করে।

আইএস বিশ্বব্যাপী এখন যে হামলাগুলো চালাবে এর কিছু হবে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত, আর কিছু হামলা হবে এর সহায়তায় এবং এর প্রতি আনুগত্য ঘোষণাকারী স্থানীয় জঙ্গিদের উদ্যোগে। এমনটাই মত দিয়েছেন, অ্যান্ড্রু এম. লিপম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের (এনসিসি) সাবেক এই উপ পরিচালক বর্তমানে র্যান্ড কর্পোরেশনের সিনিয়র পলিসি এনালিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এর পরিচালক জন ও. বারনানও গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের কাউন্সিল অন ফরেইন রিলেশনস এর এক বৈঠকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “ইরাক ও সিরিয়ায় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আইএস এর সঙ্গে যে লড়াই হয়েছে তার চেয়ে এই লড়াই আরো কঠিন ও জটিল হবে। আইএস এবার বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ এজেন্ডায় নিজের আধিপত্য বজায় রখার জন্য বৈশ্বিক হামলার পরিসর ও তীব্রতা বাড়াবে।”

এদিকে গত ২১ মে এক অডিও বার্তায় আইএস এর মুখপাত্র আবু মোহাম্মদ আল আদনানি জানান, ইরাক ও সিরিয়ায় তারা আগের মতোই গেরিলা বিদ্রোহী রুপে লড়াই করে যাবেন। ইরাক ও সিরিয়ায় নিজেদের শক্তিশালি ঘাঁটিগুলো হাতছাড়া হওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন আল আদনানি। এসময় তিনি বিশ্বব্যাপী তাদের সমর্থকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন, শত্রুদের ওপর যখন যেখানে যে অবস্থায় সম্ভব হামলা চালাতে।

বারাক ওবামাও গত ১৪ জুন এক বিবৃতিতে আইএস এর বিরুদ্ধে নতুন এই লড়াই আগের চেয়ে আরো কঠিন হবে বলেই মত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।

ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস এর বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলায় জঙ্গি সংগঠনটির তেল বিক্রি থেকে আসা আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তথাপি সংগঠনটি এখনো বছরে ১৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। আর এই টাকায় বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলায় রসদের যোগান দেওয়া অসম্ভব কিছু নয় বলেই মনে করেন ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন সেনা মুখপাত্র ক্রিস্টোফার গার্ভার।

আয় কমে যাওয়ায় অবশ্য সিরিয়ার সদর দপ্তর রাক্কার জিহাদিদের বেতন ৫০% কমাতে বাধ্য হয়েছে আইএস।

এছাড়াও, ইরাকের দখলকৃত ৪৭% এবং সিরিয়ার ২০% ভুমির নিয়ন্ত্রণ হরিয়েছে আইএস। এই ভুমি থেকে তেল উত্তোলন ও এর বাসিন্দাদের কাছ থেকে কর আদায়ের মাধ্যমেই আইএস এর আয়ের সিংহভাগ আসতো।

আইএস এর এই রাষ্ট্রটি পুরোপুরি ভেঙ্গে দিতে পারলেই জঙ্গি সংগঠনটির প্রতি আন্তর্জাতিক জিহাদিদের আকর্ষণ কমে আসবে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আইএস ফেরত যোদ্ধারা নিজ দেশে গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন র্যান্ড কর্পোরেশনের মি. লিপম্যান।

গত বছর ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার। এবছর তা কমে ১৮ থেকে ২২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে আরো অন্তত ২০ হাজার জঙ্গি লিবিয়া, মিশর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ বিশ্বের আটটি দেশে সক্রিয় থাকবে। অথচ আল কায়েদার রমরমা সময়েও সংগঠনটির যোদ্ধার সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েকহাজার।

আর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অসাধারণ দক্ষতা আইএসকে আরে ভয়াবহ করে তুলবে। কারণ পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরাও আইএসের অনলাইন যোগাযোগ হ্যাক করতে অপারগতা প্রদর্শন করছেন।

গত সপ্তাহে এক বক্তৃতায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি আফ্রিকার এক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাতে জানিয়েছেন, আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে আইএস ৫ বছর বয়সী বাচ্চাদেরও সন্ত্রাসী হামলার কাজে ব্যবহার করছে।

জন কেরি আরো বলেন, “আইএস ৩০ থেকে ৩৫ বছর মেয়াদি দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। অথচ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের হাতে পাঁচ বছর মেয়াদি কোনো পরিকল্পনাও নেই।” সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

নির্বাচিত সংবাদ