২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ লিঁওতে শেষ হাসি কার—রোনালদো না বেল

 আজ লিঁওতে শেষ হাসি কার—রোনালদো না বেল

অনলাইন ডেস্ক॥ রোমান অ্যাম্ফিথিয়েটারটি লিঁও শহরের দুর্দান্ত স্থাপত্য-নিদর্শনগুলোর একটি। প্যারিসের মতো না হলেও এই শহর গর্ব করতে পারে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো নিয়ে। তবে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজনে এই লিঁও’র বড় গর্ব হতে পারে দুর্দান্ত এক দ্বৈরথ নিয়ে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর গ্যারেথ বেল নামের দুই তারকা ফুটবলার যে আজ মুখোমুখি এই শহরেই।

পর্তুগাল বনাম ওয়েলস—ইউরোর প্রথম সেমিফাইনালে দুটি দেশের নাম যতটা উচ্চারিত হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি উচ্চারিত দুই দেশের দুই তারকার নাম— ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর গ্যারেথ বেল। ক্লাব ফুটবলে তাঁরা আবার সতীর্থ। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় দুজন কোথায় দাঁড়িয়ে, সেটা নিয়ে কিন্তু কানাঘুষা একটা আছেই। রিয়ালের ক্লাব টেন্ট, অনুশীলন মাঠ, কিংবা ডাইনিং হলে বেল আর রোনালদোর মধ্যে সব সময়ই একটা ঠান্ডা লড়াই চলে আসছে বলে ধারণা। কিন্তু এসব নিয়ে কখনোই রোনালদো কিংবা বেলের বক্তব্য জানা যায়নি। বেল তো একবার পুরো ব্যাপারটিই অস্বীকার করে বলেছিলেন, রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর সবচেয়ে পুরোনো বন্ধু রোনালদো। টটেনহাম থেকে রিয়ালে আসার পর ইংরেজি ছাড়া আর কিছুই মুখ দিয়ে বেরোতো না তাঁর। তখন রোনালদোই ইংরেজিতে বেলের সঙ্গে গল্প করে তাঁর একাকিত্ব কাটাতেন—এই গল্প বলে বেল সব সময়ই রোনালদোর সঙ্গে নিজের সম্পর্কটা সহজ বলে দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

রোনালদোকে ‘আত্মকেন্দ্রিক’ ফুটবলার বলেন কেউ কেউ। সত্য-মিথ্যা জানা নেই। তবে চলনে-বলনে তিনি যে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ফুটিয়ে তোলেন, এটা তো সবারই জানা। স্ট্রাইকার হিসেবে তাঁর কার্যকারিতা, অনমনীয় ব্যক্তিত্ব—রিয়ালে সবাই যেন তাঁর আধিপত্যই মেনে নেয় নীরবে-নিভৃতে। ভেতরে-ভেতরে তারা কী একটু গুমড়ে মরেন না? ক্ষুব্ধ হন না? বেলও কী এই দলেই পড়েন?

বেল যদি এই দলের অন্যতম হন, তাহলে আজ লিঁও’র রাতটি তাঁর জন্য অন্যরকমই। বেল আজ সরাসরি রোনালদোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন মাঠে। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে যে দলকে কেউ গোনায় ধরেনি, বেলের সেই ওয়েলসই দুর্দান্ত খেলে সেমিফাইনালে! ১৯৯২ ইউরোর ডেনমার্ক কিংবা ২০০৪ সালের গ্রিসের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে তাঁরা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের বুলগেরিয়ার কথাও ভুলে যাওয়ার নয়। বিরানব্বইয়ে মাইকেল লাউড্রপ, পিটার স্মেইক্যাল, ২০০৪ সালে জাগারোকিস কিংবা কারিস্তিয়াসরা যেভাবে তারকা হয়েছিলেন, আজ বেল কী পারবেন তেমন কিছু করতে। একটা দিক দিয়ে বেল কিন্তু এগিয়ে আছেন লাউড্রপ-কারিস্তিয়াসদের চেয়েও। তিনি তারকা হয়েই ইউরো খেলতে এসেছেন। আজ রোনালদোর দলকে হারাতে পারলে তিনি নিজেকে তুলে নেবেন নতুন উচ্চতায়।

এবারের ইউরোয় রোনালদোর তুলনামূলক বেশি উজ্জ্বল বেল। ওয়েলসের প্রতিটি ম্যাচেই বেল ছিলেন বেলের মতো। রোনালদোর কাছে ভক্তকুলের প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি। কিন্তু সে প্রত্যাশাটা তিনি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেননি। তবে শেষ পর্যন্ত কে কাকে ছাড়িয়ে যাবেন, আজই তার নিষ্পত্তি।

কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে জয়ের পর অন্যরকম একটা আত্মবিশ্বাসই পাচ্ছে পর্তুগাল। সেমিফাইনালেও যদি এমন কোনো কিছুর সামনে পড়তে হয়, সেই প্রস্তুতিটাও চলছে তাদের। রোনালদো নিজেই নিজের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে—লক্ষ্যভেদী অনুশীলন। লিঁও’র মাঠে আসল লক্ষ্যভেদটা কে করেন, এখন এটাই দেখার বিষয়। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।