১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভালোবাসার টানে আবারও ফুটবলে

 ভালোবাসার টানে আবারও ফুটবলে

অনলাইন ডেস্ক॥ নিজের দাতব্য সংস্থার উদ্বোধনের দিনে তাঁর ঘোষণাটা এক মুহূর্তের জন্য অবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছিল। বেশ শান্তভাবেই স্টিলিয়ান পেত্রভ ঘোষণা করলেন, ‘আমি আবারও ফুটবলে ফিরছি। অ্যাস্টন ভিলাকে জানিয়ে দিয়েছি, প্রাক-মৌসুম শুরু করার জন্য আমি তৈরি। অবশ্যই, তাঁরা আগে আমার অবস্থা দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

অ্যাস্টন ভিলা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। এক সপ্তাহ আগেই ক্লাবের অনুশীলন মাঠ বডিমুর হিথে বুট-কিটস পরে দৌড়াতে শুরু করেছেন পেত্রোভ। পেশাদার ক্লাব হয়তো পেশাদারি দৃষ্টিকোণ থেকেই সবকিছু বিবেচনা করেছে, তবে অ্যাস্টন ভিলার সমর্থকদের অত পেশাদারি হিসাব করতে বয়েই গেছে। তাঁদের কাছে তো সিদ্ধান্তটি অনেক বেশি আবেগের, যেন ঘরের প্রিয় ছেলের ঘরে ফেরার মতো। চার বছর আগে লিউকেমিয়ার সঙ্গে লড়বেন বলে যে ছেলে শুধু ক্লাব নয়, সরে গিয়েছিল ফুটবল থেকেই।

দুরূহ সেই রোগ থেকে সেরে উঠেছেন আরও আগে। কিন্তু আবারও ফুটবলে, ভিলায় ফিরে আসার সিদ্ধান্তটা তো শুধুই ক্লাবের প্রয়োজনে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পরিচিত মুখ অ্যাস্টন ভিলা এবার নেমে গেছে চ্যাম্পিয়নশিপে। এই মৌসুমেই আবারও নিজেদের চেনা ঠিকানায় ফিরতে চায় ভিলা, এক মৌসুমের মধ্যেই উঠতে চায় প্রিমিয়ার লিগে। ক্লাবকে সাহায্য করার চাওয়া থেকেই এই ৩৬ বছর বয়সে আবারও ফিরে এসেছেন স্টিলিয়ান পেত্রোভ, ভিলান সমর্থকদের প্রিয় ‘স্ট্যান’।

ফুটবলের রূপকথার গল্পগুলোতে নতুন আরেকটি পাতা যোগ হলো পেত্রোভের এভাবে ফিরে আসায়। ২০১২ সালের মার্চে লিউকেমিয়াতে আক্রান্ত হয়ে মাঠ থেকে সরে গিয়েছিলেন বুলগেরিয়ান এই মিডফিল্ডার। তখনো বয়স মাত্র ৩২, কিন্তু সেই বয়সে ফুটবল মাঠ ছেড়ে আরও অনেক গুরুতর এক যুদ্ধে নামতে হয়েছিল পেত্রোভকে, জীবন বাঁচানোর লড়াই। সেই কঠিন যুদ্ধে মনোনিবেশ করতেই বছর খানেক পর, ২০১৩ সালের ৯ মে ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে দেন।

এরপর অনেক দিন চলেছে তাঁর সেরে ওঠার প্রক্রিয়া, চলেছে কেমোথেরাপি। এই থেরাপির কারণে মাঝে এত মুটিয়ে গিয়েছিলেন যে নিজেই ঘোষণা করেছিলেন, চাইলেও আর কখনো সর্বোচ্চ স্তরের পেশাদার ফুটবলে ফেরা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু নিজের ঘোষণাকে নিজেই মিথ্যে প্রমাণ করে আবারও ফিরে এসেছেন ভিলায়। ফিরবেন নাই–বা কেন? ক্লাবটার সঙ্গে যে তাঁর আত্মার সম্পর্ক। ক্যারিয়ারে ভিলার আগে মন্টানা, সেল্টিক ও সিএসকে সোফিয়াতেও খেলেছিলেন পেত্রোভ। মজার ব্যাপার, সেল্টিকের হয়ে স্কটিশ প্রিমিয়ার লিগ বা সিএসকে সোফিয়ার হয়ে বুলগেরিয়ান লিগ জিতলেও শুধু এই ভিলাতেই কোনো শিরোপা জেতেননি।

কিন্তু শিরোপাই তো আর সবকিছু নয়। ভিলা তো তাঁর কাছে ক্লাবের চেয়ে বিশেষ কিছু। যার প্রমাণ হয়ে ছিল লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর পেত্রোভের প্রতি ভিলানদের সহানুভূতি। প্রাণঘাতী রোগটি প্রিয় ‘স্ট্যানে’র শরীরে বাসা বেঁধেছে—এটি জানার পর থেকেই প্রতি ম্যাচের ১৯ মিনিটে এক মিনিটের জন্য হাততালি দিতেন ভিলা–সমর্থকেরা। পেত্রোভের জার্সি নম্বর যে ছিল ১৯! খেলা ছাড়ার পরও ভিলার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন পেত্রোভ। ২০১৩ সালেই ভিলার ‘হল অব ফেমে’ নাম উঠে গিয়েছিল তাঁর। সে বছরই ক্লাবের অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচ হয়ে কাজ করেছেন কিছুদিন। গত বছর টিম শেরউড কোচ থাকার সময়ে পেত্রোভের ভিলার মূল দলের একজন সহকারী কোচও করে নিয়েছিলেন।

তবে সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেছে পেত্রোভের এমন প্রত্যাবর্তনের গল্পে। দলে বিভেদ, কোচ নিয়োগের ভুল, ক্লাবের অব্যবস্থাপনার পর প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন মিলিয়ে গত মৌসুমটা ভুলে যাওয়ার মতোই কেটেছে অ্যাস্টন ভিলার। সব ভুলতে নতুন শুরুর জন্য ড্রেসিং রুমে এমন প্রেরণাদায়ী এক চরিত্রেরই দরকার ছিল।

অ্যাস্টন ভিলা–সমর্থকদের প্রিয় ‘স্ট্যানে’র আজ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন, স্টিলিয়ান পেত্রোভ! সূত্র: ডেইলি মেইল।