২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যানজট নিরসনে ঢাকা-চট্টগ্রামে সেতুর দু’পারে রোভার স্কাউট

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যানজট নেই। গাড়ির চাপও কম। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই উৎসবপ্রিয় মানুষ স্বজনদের সাথে ঈদ করতে গ্রামে যাচ্ছেন।

শিমুলিয়া ঘাটে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় খুব বেশী ছিল না। তারপরও আদায় করা হেয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। শুধু অতিরিক্ত ভাড়াই নয় একই সাথে বহন করা হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী। এতে জীবনের ঝুকি নিয়ে যাত্রীরা পদ্মা নদী পারি দিয়েছে সিবোটে। এসব সিবোটে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেটও ছিলনা। বিআইডব্লিউটিসিরি এজিএম খন্দকার খালিদ রাতে জানান, ১৮টি ফেরিই চলাচর করছে। যানবাহনের চাপ থাকলেও দ্রুত পার করা যাচ্ছে, সমস্যা হচ্ছে না। এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও যানজটহীন যানবাহন চলাচল করছে। মুন্সীগঞ্জ ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্য কামরুজ্জামান রাজ জানান, যানবাহনের চাপ অপেক্ষাকৃত বেশী। কিন্তু যানজট নেই। তবে চর লেন না হওয়ায় মেঘনা এবং মেঘনা-গোমতী সেতুতে শৃঙ্খলা বজায় রাখর জন্য রোভার স্কাউট নিয়োগ করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের ৪৬ জন সদস্য মেঘনা-গোমতী সেতুর দু’পাশে কাজ করছে। রোভার স্কাউটের কমিশনার অধ্যাপক সুখেন চন্দ্র ব্যানার্জী জানান, এই কলেজ ছাত্ররা ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদে যাতায়তের জন্য কাজ করছে।

এদিকে শিমুলিয়া ঘাটে ঘরমুখো যাত্রীরা বাসে করে ঢাকা থেকে এসে শিমুলিয়া ঘাটে নামছে। সেখান থেকে লঞ্চ সিবোটে করে পদ্মা পারি দিয়ে ওপারে গিয়ে আবার অন্য কোন যানবহনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছোটছে। তবে এসব ঘরমুখো যাত্রীদের নদী পার হতে প্রথম পছন্দই ছিল সিবোট। অনেক দিন পর আত্মীয় স্বজনদের সাথে স্বাক্ষাত করতে গ্রামের বাড়িতে দ্রুত যেতেই তারা সিবোটকে প্রাধান্য দিয়ে অতি অল্প সময়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এই সুযোগে সিবোট চালকরা ৮ জনের ধারণ ক্ষমতার সিবোটে যাত্রী নিয়েছে ১৩ জন। ১২ জনের ধারণ ক্ষমতার সিবোটে যাত্রী নিয়েছে ১৮ থেকে ২২ জন। টোলসহ দেড় শ’ টাকার সিবোট ভাড়া কাউন্টার থেকেই নেয়া হয়েছে ২ শত টাকা। এর পরেও সিবোটে উঠার আগে চালকরা নিয়েছে আরো ৫০ টাকা। সব মিলিয়ে পদ্মা পারি দিতে একজন যাত্রীকে দুই থেকে আড়াই শ’ টাকা ভাড়া গুনতে হয়েছে।

এছাড়া এসব সিবোটে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটও ছিলনা। কোন কোন সিবোটে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই যাত্রী পারাপার করতে দেখা গেছে। অনেকটা খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ছাড়া নদী পার হতে হয়েছে। এতে জীবণের ঝুকি থাকলেও সংশ্লিষ্ট কাউকে এ বিষয়টি দেখার জন্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শিমুলিয়া বন্দর কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি ঘাট ইজারাদারের উপর চাপিয়ে দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

ঘাট ইজারাদার মো. আশরাফ হোসেন খানের মোবাইলে কয়েক দয়া ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং ঈদে ঘুরমুখো মানুষকে নিরাপদে পারাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।