১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রংপুর বিভাগের আট জেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

স্টাফ রিপোর্টার,নীলফামারী॥ রংপুর বিভাগের আট জেলার যে কোন স্থানে জঙ্গী হামলার আশংঙ্কা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ফলে রংপুর অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থাও রয়েছে ততপর।

এদিকে ঢাকায় গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্টুরেন্টে জঙ্গিদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনার সুত্র ধরে রংপুর বিভাগের আট জেলায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

সেই সাথে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রতিটি ঈদের জামাতে কড়া নিরাপক্তর ব্যবস্থা করেছে এ বিভাগের স্ব-স্ব আট জেলার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সেই সাথে রংপুর বিভাগের যে সকল স্থানে প্রতিষ্ঠিত বড় বড় মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা উপাসনালয় রয়েছে সেখাসে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের জানিয়েছে কড় নিরাপত্তার ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে এ বিভাগের রংপুর-গাইবান্ধা-লালমনিরহাট-নীলফামারী-ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলাকে। বৃদ্ধি করা হয়েছে পুলিশি টহল।

অপর দিকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের নারী ও গৃহবধুদের জঙ্গী সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়েও সাধারন মানুষজনকে ভাবিয়ে তুলেছে। কারন টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এমন তিন নারী পুলিশের হাতে আটক হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত পহেলা বৈশাখের আগে থেকেই জঙ্গীরা রংপুর বিভাগে নাশকতার পরিকল্পনা করে। তারা বিভিন্ন ছদ্মবেশে বিভাগের ৮ জেলায় ঘুরে বেড়াতে থাকে। নাশকতা চালানোর জন্য বগুড়ায় নিয়ে যায় ১৬টি আর্জেস গ্রেনেড। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গোপন সংবাদ পেয়ে সেখান থেকে ৪টি উদ্ধার করলেও জঙ্গিরা ১২টি গ্রেনেড রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে নিয়ে যায়। সেই তথ্য প্রশাসন জানতে পেরে ততপর হলে জঙ্গিরা সে সময় কোনো নাশকতা চালাতে পারেনি। তবে পহেলা বৈশাখের আগে রাতের আঁধারে পীরগাছা উপজেলার একটি মন্দিরে জঙ্গিরা নাশকতা চালানোর সেখানে অবস্থানরত একজন পুরোহিত বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেয়। ফলে জঙ্গীদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

এদিকে রংপুর ,নীলফামারী ও দিনাজপুর কারাগারে আটক বেশ কিছু জঙ্গি বন্দী থাকায় কারাগার এলাকায় নিরাপত্তাসহ বিশেষ সতকর্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গোটা কারাগারের সীমানা প্রাচীরের দায়িত্ব পালন করছে কারারক্ষীরা।

এদিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জঙ্গী সংগঠনের সুইসাইড স্কোয়াডের উত্তরবঙ্গের তিন নারী সদস্য পুলিশের হাতে আটকের পর উত্তরাঞ্চল জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এই তিন নারী আটক হয়। এরা হলো পঞ্চগেড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ছোবাহার গজপুরী গ্রামের নজরুল ওরফে বাইক নজরুল ওরফে পারভেজ ওরফে হাসানের স্ত্রী সাজিদা আক্তার,গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম রাখবপুর ভূতমারা গ্রামের মোখছেদুল ইসলাম ওরফে মোজাম্মেল ওরফে হারেজের স্ত্রী রোজিনা বেগম ও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাগরা কুসুমদী গ্রামের আবু সাইদ ওরফে সবুজের স্ত্রী জান্নাতীর ওরফে জেমি।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানা ওসি খন্দকার আখেরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান জানায় জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের তিন নারী সদস্যের একটি দল টাঙ্গাইলে অবস্থান করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। এরপর মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার যোকারচর রেলগেটের পাশের একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুইটি চাপাতি, একটি ছুরি, জিহাদি ভিডিও ও বোমা তৈরির কলাকৌশল লেখা একটি খাতা উদ্ধার করা হয়। তিন নারী জেএমবি সদস্য ও তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে উত্তরাঞ্চলের গ্রামের বেশ কিছু নারী বা গৃহবধু জঙ্গীর খাতায় নাম লিখিয়ে বাড়ি ঘর ছেড়েছে এমন তথ্য সংগ্রহে পুলিশ ও গোয়েন্দারা মাঠে নেমেছে।