১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিন রাইফেল ও ৫ পিস্তল ব্যবহার করে জঙ্গিরা

 তিন রাইফেল ও ৫ পিস্তল ব্যবহার করে জঙ্গিরা

অনলাইন রিপোর্টার ॥ গুলশানের ক্যাফেতে হামলায় জঙ্গিরা পাঁচটি পিস্তল এবং তিনটি একে-২২ রাইফেল ব্যবহার করেছিল বলে পুলিশের তথ্য।

ঘটনাস্থলে নয়টি গ্রেনেডের সেইফটি পিন মেলায় সেগুলো জঙ্গিদের ব্যবহার করা বলেও ধারণা করছে পুলিশ।

গত ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিদের হামলায় অন্তত ২২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় গুলশান থানায় পুলিশ যে মামলা দায়ের করেছে, তার এজাহারে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ছোরা, একটি চাপাতি, একটি সাদা রঙের রুমাল এবং বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রের প্রায় তিনশ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

যে সব অস্ত্র, গ্রেনেডের সেইফটি পিন এবং গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে তার সবগুলোই জঙ্গিদের ব্যবহার করা বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

জানা যায় , “একটি রক্তাক্ত মৃতদেহের উপর ওই রুমালটি পড়ে ছিল। রুমালে কালো কালি দিয়ে কিছু একটা লেখা ছিল।”

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে জঙ্গিরা ওই ক্যাফেতে হামলা চালানোর পর থেকে পরদিন সকালে কমান্ডো অভিযানে মোট ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়।

এদের মধ্যে অভিযানের সময় ১৩ জন এবং তার আগে ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি।

তারা বলছেন, এই ৩২ জনের মধ্যে পাঁচজন বিদেশি। তাদের মধ্যে দুই জন শ্রীলঙ্কান, আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত একজনসহ দুইজন ইতালিয়ান এবং একজন জাপানি নাগরিক। বাকিরা সবাই বাংলাদেশি।

উদ্ধার বাংলাদেশিরা হলেন- মিরাজ হোসেন (২৯), দেলোয়ার হোসেন (২৪), আকাশ খান (২০), শিশির সরকার (৩২), দ্বীন ইসলাম রাকিব (২২), মো. সুহিন (২৮), শাহরিয়ার আহমেদ (২৪), কেএম রেজাউল ইসলাম (২২), আরিফ মাহমুদ শাওন (২৩), মো. সবুজ হোসেন (৩২), রেন্টু কীর্তনিয়া (১৬), নিয়ামুল মুন্সী (৩৯), মো. লিটন ইসলাম (২৪), সমীর বাড়ই (৩০), ইমাম হোসেন সবুজ (২৯), আবদুল মোমিন (৩০), শিশির বৈরাগী(৩২), মো. বাচ্চু (৩২), মো. শাহীন (২৪), শেফা করিম (১৩), রায়হান করিম (৮), সত্য প্রকাশ (৩৮), ফাইরোজ মাহিন (২১), তাহানা তাসমিয়া (২১), তাহমিদ হাসিব খান (২২), শারমিনা করিম (৩৩), আবুল হাসনাত রেজাউল করিম( ৪৭) ।

উদ্ধার পাঁচ বিদেশি হলেন- শ্রীলঙ্কান পেপেথা শায়ামা বিজেসেকেরা ও হারিকেশা বিজেসেকেরা, ডিয়াগো রোসিনি, জিয়ান জালেহো বোসেনি ও ওয়াতানাবে তামোকে।

ওই ক্যাফে থেকে ২০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের ১৭ জন বিদেশি নাগরিক। এছাড়া হামলার পর পর পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জঙ্গিদের গুলি-বোমায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।

কমান্ডো অভিযানে ছয়জন নিহত হন, যাদের পাঁচজন জঙ্গি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।