২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বানে ভেসে গেছে তিস্তা অববাহিকার ৭টি চর গ্রামের ঈদ আনন্দ

 বানে ভেসে গেছে তিস্তা অববাহিকার ৭টি চর গ্রামের  ঈদ আনন্দ

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) তিন সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা অববাহিকার ৭টি চর গ্রামে বানের পানিতে ঈদ আনন্দ ভেসে গেছে। ২৪ ঘন্টায় তিস্তায় ৪৪ মিলিমিটার বৃস্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সকাল থেকে ওই সব এলাকায় থেমে থেমে বৃস্টি হচ্ছিল। চরবাসীদের ঈদের নামাজটি পড়তে হয়েছে দুরের কোন মসজিদে গিয়ে।

তিস্তা নদী ফুঁসে উঠায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়বাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর ওপারে তিনটি ওয়াডের ৭টি গ্রাম যথাক্রমে চরখড়িবাড়ি পূর্বখড়িবাড়ি,টাপুরচর,ঝিঞ্জিরপাড়া,পুরাত টাপুরচর ও মেহেরটারী ও খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের ইউনুছের চরের ঘরবাড়ি দিয়ে বানের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া নদী ভাঙ্গনে ইউনুছের চরের ৪২টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। ওই চরের মানুষজন ঘরের চালা ভেঙ্গে নিরাপদে সরে এসেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোডের বন্যা পুর্বাভাস ও সর্তকী কেন্দ্র সুত্র আজ বৃহস্পতিবার জানায় সকাল ৬টা থেকে তিস্তার পানি বিপদসীমার তিন সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের ঢল অব্যাহত রয়েছে। যে কোন সময় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে তিস্তা। এ জন্য তিস্তা ব্যারাজের সবকটি জলকপাট(৪৪টি) খুলে রাখা হয়েছে।

ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে তিস্তা নদীবেষ্টিত খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের পূর্ব বাইশপুকুর চরের ভেতরের ইউনুছের চর। নদী ঘেরা এই চরের পরিবারগুলো চরের জমিতে ফসল আবাদ ওতিস্তায় মাছ শিকার করে জীবন-জীবিকা চালালেও বন্যায় ভেসে গেছে তাদের ঈদের আনন্দ আর স্বপ্নের সবটুকু। সর্বস্বহারা এসব মানুষ এই ঈদে ছেলে-মেয়েদের নতুন কোনো কাপড়-চোপড় দিতে না পেরে ঈদ আনন্দকে শপে দিয়েছে প্রকৃতির হাতে।

আজ বুহস্পতিবার চরের মন্টু কাজী ও সাহের উদ্দীন বললেন, দুই দফায় গত ২৩ ও ২৫ জুনের বন্যার পর শুরু হয় নদী ভাঙ্গন। নদীর পানি পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার রাত থেকে এই চরেরর ২৫টি পরিবারের বসত ভিটা বিলিন হয়। বাকী পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিরাপদে সরে যেতে হচ্ছে। ঈদের আনন্দ এই চরের মানুষের তিস্তা ভাইসা নিয়ে গেল।

অপর চরবাসী নহর উদ্দীন জানান এক খন্ড জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, বানের পানিত ডুবে থাকায় তাও পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ওই বাদাম ফসলটিই ছিল তার ঈদ খরচের সবকিছু। তাও গ্রাস করেছে তিস্তার বানের পানি।

খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সামশুল হুদা বলেন, চরবাসীকে ত্রাণের ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।

এদিকে একই অবস্থা ডালিয়া ব্যারাজের উজানের টেপাখড়বাড়ি ইউনিয়নের ৬টি চর গ্রামের। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ৬ গ্রামের উপর দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে চরখড়িবাড়ি বিজিবির বিওপি ক্যাম্পটির ভেতর তিস্তার পানি প্রবেশ করছে।

এই চরের বাসিন্দা সাধু ও গোলাম মোস্তফা জানান ঈদ আমাদের তিস্তা বানের পানিতে ভেসে নিয়ে গেছে। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে জীবন রক্ষা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।

তিস্তার পানি ফুলে ফেপে উঠায় চরখড়িবাড়ি বিওপি ক্যাম্পে নদীর পানি প্রবেশ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

টেপাখাড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, ওই সব এলাকার পরিবারগুলোতে ত্রানের ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নগদ টাকাও দেয়া হয় ৫০০ করে। কিন্তু এ দিয়ে কি চলে তাদের। তিস্তার বানের পানি ঈদের সব আনন্দ তিস্তার পানিতে ভেসে যাচ্ছে।