১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শোলাকিয়া ঈদগাহের হামলায় নিহেতের সংখ্যা বেড়ে ৪

শোলাকিয়া ঈদগাহের হামলায় নিহেতের সংখ্যা বেড়ে ৪

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ ॥ কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের পাশে আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ককটেল হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুর্বৃত্তদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় হয়। এতে জহিরুল ইসলাম (৩০) ও আনসারুল্লাহ (৩২) নামে দুই পুলিশ কনস্টেবল, ঝর্ণা রাণী ভৌমিক (৩৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া অজ্ঞাত হামলাকারী সন্ত্রাসী একজন নিহতের খবর জানা গেছে। হামলার ঘটনায় অন্তত আরো ১০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর ৬ জন পুলিশ কনস্টেবলকে দুপুরে জেলা হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তাদের উন্নতর চিকিৎসার জন্য সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকী আহতদের জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে হামলার পর ঘটনাস্থল আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও আশপাশ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক তল্লাশী অভিযান চালাচ্ছে। দুপুরে অভিযান চালিয়ে সাদিউল ইসলাম মুকিত (১৯) নামে এক হামলাকারীকে একটি বিদেশী পিস্তুলসহ আটক করা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শোলাকিয়া মাঠ থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় শোলাকিয়া মাঠে জামাতে অংশ নিতে জড়ো হওয়া লাখো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে অবশ্য সকাল ১০টায় শোলাকিয়া ময়দানে নির্ধারিত সময়েই দেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত নির্বেঘেœ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর ১৮৯তম ঈদুল ফিতরের জামাতে ইমামতি ইমামতি করেন স্থানীয় জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শোয়াইব।

এদিকে হামলার ঘটনার পর জামাত শেষে শোলাকিয়া মাঠে উপস্থিত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খানসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।

হাসপাতালে আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আহতদের মধ্যে ৬ পুলিশ সদস্যকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সেখানে উপস্থিত ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্থানীয় আজিম উদ্দিন স্কুলের পাশের একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সেখান থেকেই হামলা চালানো হয়েছে। আত্মরক্ষার্থে সে সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে।

বুধবার কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন, মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে। মাঠের ভেতরে ও বাইরে ৪৫টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ঈদগাহে প্রবেশের বিভিন্ন পথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের দেহ তল্লাাশি করা হবে। আর জামাত শুরুর আগে পুরো মাঠ মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সুইপিং করা হবে।

এ মাসের শুরুতেই রাজধানীর গুলশানে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ঈদের জামাত নিয়ে বাড়তি সতর্কতা ছিল। ব্যাগসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।