২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মারণরোগকে জয় করে সফল হয়েছেন যে সেলেবরা

মারণরোগকে জয় করে সফল হয়েছেন যে সেলেবরা

অনলাইন ডেস্ক ॥ মৃত্যুকে তাঁরা দেখেছেন একেবারে কাছ থেকে। কিন্তু তবু হাল ছাড়েননি। ভরপুর প্রাণ প্রাচুর্যে রোগকে জয় করেছেন। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফল ছিলেনই। কিন্তু মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে সকলের চোখে তাঁরাই যেন রিয়েল লাইফ হিরো। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মৃত্যুকে জয় করা এমনই কিছু সেলেবকে।

যুবরাজ সিংহ: ২০১১-এর বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর হঠাৎই তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়ার খবরে শোকস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা দেশ। কিন্তু ফুসফুসের ক্যান্সারকে ছক্কা মেরে স্টেডিয়ামের চৌহদ্দি থেকে

অনেক দূরে পাঠিয়ে ফের বাইজ গজের টানে মাঠে ফিরে এসেছিলেন যুবি।

মণিষা কৈরালা: ২০১২-এর ২৯ নভেম্বর, রিপোর্টে ধরা পড়ে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন নব্বইয়ের দশকের বক্স অফিস কাঁপানো এই নায়িকা। কিন্তু এই মারণরোগও তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ১০ ডিসেম্বর তাঁর অপারেশন হয়। জীবন যুদ্ধে ক্যান্সারকে অনেক পিছনে ফেলে ফের অভিনয় জগতে ফিরে এসেছেন মণিষা।

অনুরাগ বসু: ২০০৪-এই ডাক্তাররা বলেছিলেন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ। কিন্তু হাল ছাড়েননি অনুরাগ। তাঁর ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন লিখেছেন ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’র মতো প্রাণবন্ত জীবনের গল্প। তাঁর পর ফের ফিরে এসেছেন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে।

লিজা রায়: ২০০৯ সালে বোন ম্যারো ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইন্দো-কানাডিয়ান মডেল-অভিনেত্রী লিজা। এক বছর ধরে কেমো চলার পর ২০১০ সালে তিনি নিজেকে ক্যান্সার ফ্রি বলে ঘোষণা করেন। তবে এও জানান, তাঁকে সারা জীবন ওষুধের মধ্যেই থাকতে হবে।

সইফ আলি খান: ২০০৭ সালে তীব্র বুকে ব্যথা নিয়ে লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সইফ। ডাক্তাররা জানান, হার্ট অ্যাটাক হয়েছে তাঁর। আসলে হার্টের সমস্যা রয়্যাল পরিবারের জিনগত। হার্টের সমস্যাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দাপিয়ে অভিনয় করে চলেছেন তিনি।

মুমতাজ: ২০০২ সালে ৫৪ বছর বয়সে ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে মুমতাজের। ৬টা কেমোথেরাপি এবং ৩৫টা রেডিয়েশন নেওয়ার পর একটি সাক্ষাৎকারে মুমতাজ বলেন, ‘‘আমি সহজে হাল ছাড়িনি। মৃত্যুকেও আমার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।’’

শাহরুখ খান: একদিকে যেমন তিনি কিঙ্গ খান, তেমনই তাঁকে বলা হয় কিঙ্গ অব সার্জারিজ। মোট ৮ বার অপারেশন হয়েছে শাহরুখ খানের। কিন্তু রোগকে হাসি মুখে জয় করে আজ তিনি সব অর্থেই বলিউডের বাদশা।

নম্রতা সিংহ গুজরাল: ২০০৮ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে ইন্দো-আমেরিকান অভিনেত্রী নম্রতার। মারণরোগকে জয় করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে আসেন তিনি। পরবর্তী কালে ব্রেস্ট ক্যান্সারের সচেতনতামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।

হৃতিক রোশন: ‘কৃষ ৩’ মুক্তি পাওয়ার এক মাস আগেই ব্রেন ক্লটের জন্য তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু সুপার হিরোর মতোই হৃতিক বলেছিলেন, ‘‘আমার মাথায় একটা গর্ত তৈরি হলেও আমি একদম পারফেক্ট ছিলাম। আমার স্পিরিটও এক ফোঁটা কমেনি।’’

বারবারা মোরি: মাত্র ২৯ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন ‘কাইটস’-খ্যাত মেক্সিকান অভিনেত্রী বারবারা। তবে রোগের কাছে হেরে গিয়ে জীবনের মূলস্রোত থেকে কখনও ছিটকে যাননি তিনি।

সলমন খান: ২০১১ সালে ট্রাইগেমিনাল নিউরালজিয়া (মুখ এবং চোয়ালের পেশীতে তীব্র ব্যথা) নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল ভাইজানকে। কিন্তু কোনও রোগই তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। ট্রিটমেন্ট চলাকালীনই শুটিং ফ্লোরে এসে রীতিমতো দাবাং ম্যাজিক দেখাতেন তিনি।

অমিতাভ বচ্চন: ১৯৮২-তে কুলির শুটিং চলাকালীন গুরুতর জখম হয়েছিলেন বিগ বি। মৃত্যুকে খুব সামনে থেকে দেখতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সুস্থ হয়ে ফের শাহেনশার মতোই বলিউডে ফিরে এসেছিলেন তিনি।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা