১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জার্মানিকে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রান্স

জার্মানিকে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্ক॥ গড়নে ছোটোখাটো। বামানাকৃতি নয়। কিন্তু দীর্ঘাকৃতিরও না। ফ্রান্সের বড় ক্লাবগুলো তাকে কখনো নেয়নি এই উচ্চতার কারণেই। স্পেনে খেলেন। কিন্তু সেই আন্তোইন গ্রিজমানই এবার নিজেকে ও দেশ ফ্রান্সকে নিয়ে গেলেন ভিন্ন উচ্চতায়। বৃহস্পতিবার রাতে তার জোড়া গোলেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইউরো ২০১৬র ফাইনালে উঠে গেছে স্বাগতিক ফ্রান্স। রবিবারের ফাইনালে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের সাথে খেলবে গ্রিজমানের ফ্রান্স।

বড় টুর্নামেন্টে জার্মানির সাথে জেতে না ফ্রান্স। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে শেষবার জিতেছিল। তাই এই কুফা কাটিয়ে স্বদেশের মাটির ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার কঠিন কাজ ছিল ফরাসি খেলোয়াড়দের সামনে। মার্শেইয়ে ৬৫ হাজার দর্শকের সামনে চাপ সামলে ইতিহাসকে নিজেদের দিকে ফিরিয়েছে ফ্রান্স। এবারের আসরে ৬ গোল করা গ্রিজমান যেখানে হিরো। তার সতীর্থ ফরোয়ার্ড অলিভার গিরুদের ঘোষণা, "ও আমাদের মিস্টার লিটল এক্সট্রা।"

প্রথমার্ধের শেষ দিকে বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। গোল করেন গ্রিজমান। প্যাট্রিক এভরাকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে বক্সের মধ্যে হাতে বল লাগান বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার। ইতালিয়ান রেফারি নিকোলা রিজ্জোলি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে জার্মানরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। কিন্তু সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ঠাণ্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করে ফ্রান্সকে উৎসবে মাতান গ্রিজমান।

গোলকিপার ম্যানুয়েল ন্যুয়ার এই আসরে নির্ধারিত সময়ে এর আগে মাত্র ১ গোল হজম করেছেন। বিশ্বের সেরা এই কিপার ম্যাচের আগে গ্রিজমানের ওপর বিশেষ নজর রাখার কথা বলেছিলেন। কিন্তু ওই হিটম্যানই ডোবালো জার্মানদের। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানরা বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। সম্ভাবনাও বাড়ছিল তাদের। কিন্তু ৭২ মিনিটে আতলেতিকো মাদ্রিদ তারকা গ্রিজমানকে আবার ঠেকাতে ব্যর্থ ন্যুয়ার। বাঁ প্রান্ত থেকে করা পল পগবার ক্রস ঠেকালেন ন্যুয়ার। কিন্তু বল গিয়ে পড়ল গ্রিজমানের সামনে। ন্যুয়ারের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দিলেন গ্রিজমান। ওখানেই খুন হয়ে গেল জার্মানি। আর ফেরা হয়নি তাদের।

এবার দুইবারের ইউরো চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের আরেকবার প্যারিস জয়ের পালা। ওই শহরেই এবারের ফাইনাল। আর সেখানেই ১৯৮৪ সালের ইউরোপিয়ান শিরোপা জিতেছিল ফ্রান্স। ওই শহরেই ১৯৯৮ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিতর্ক ও কেলেঙ্কারিতে জড়ানো ফ্রান্সের ফুটবলের জন্য এবারের আসরটি যেন নতুন জীবনের সন্ধানের। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলো হয়তো সেটি পাবে পূর্ণতা।