১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতার মাত্রা বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতার মাত্রা বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক॥ সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

ট্র্যাভেল অ্যালার্ট থেকে এই সতর্কতার মাত্রা এখন উন্নীত হয়েছে ট্র্যাভেল ওয়ার্নিংয়ে।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে একজন মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাংলাদেশের ‘চলমান পরিস্থিতি’ এবং ‘উগ্রপন্থি সহিংসতার আশঙ্কার’ বিষয়ে সতর্ক করেন এবং এই সময়ে ঢাকায় আসার ‘ঝুঁকির’ কথা বলেন।

‘চলমান পরিস্থিত’ শব্দটির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “গত ফেব্রুয়ারিতে যে ট্র্যাভেল অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল, তা বাড়িয়ে এখন ট্র্যাভেল ওয়ার্নিং জারি করা হয়েছে।”

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কোনো দেশের ক্ষেত্রে ‘ট্র্যাভেল অ্যালার্ট’ জারি করার অর্থ হল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ‘খুব সাবধানে’ চলাফেরা করা উচিৎ।

কোনো দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা গৃহযুদ্ধ চললে, উচ্চ অপরাধ প্রবণতা থাকলে কিংবা ঘন ঘন সন্ত্রাসী হামলার মত ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র সে দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘অ্যালার্ট’ জারি করে।

এটি একটি স্বল্পমেয়াদী সতর্কতা এবং যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, সংশ্লিষ্ট দেশ ভ্রমণের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তাদের নাগরিকরা বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে।

কোনো দেশে নির্বাচন সামনে রেখে নিয়মিত মিছিল, সমাবেশ, হরতালের মতো কর্মূসচি বা অস্থিরতা চললে; কোনো দেশের সোয়াইন ফ্লুর মত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে কিংবা সন্ত্রাসী হামলার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ওই ‘অ্যালার্ট’ দিতে পারে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই ‘অ্যালার্ট’ ছাপিয়ে ‘ওয়ার্নিং’ জারি করা হল গুলশানের কূটনেতিক এলাকায় হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জন নিহত হওয়ার পর। নিহতদের মধ্য্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন।

ওই ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় বৃহস্পতিবার ঈদের সকালে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় আবারও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। বোমা হামলায় নিহত হন দুই পুলিশ সদস্য; গোলাগুলিতে প্রাণ যায় এক নারীর।

আইএস এর জঙ্গিরা বাংলাদেশে গুলশানের ঘটনার মত আরও হামলা চালানোর যে হুমকি দিয়েছে- সে প্রসঙ্গে টেনে যুক্তরষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, “আমাদের সরকার মনে করে, হুমকির ওই খবর সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য এবং বাংলাদেশে বিদেশিদের ওপর আরও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।”

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের যেসব নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে তাদের উচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হচ্ছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের ঢাকায় ব্যক্তিগত চলাফেরার ওপর কিছু বিধিনিষেধ দিয়েছে, যার বিস্তারিত বিবরণ তাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মচারী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের পায়ে হেঁটে, বাইসাইকেল, রিকশা বা কোনো উন্মুক্ত যানবাহনে চলাচল না করতে এবং বড় কোনো জনসমাগমস্থলে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সেখানে।

যারা বাংলাদেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের ওই বিধিনিষেধ জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কিরবি।