১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শোলাকিয়ায় হামলায় নিহত গৃহবধূ ঝর্ণার বাড়িতে শোকের মাতম

শোলাকিয়ায় হামলায় নিহত গৃহবধূ ঝর্ণার বাড়িতে শোকের মাতম

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ ॥ ঈদের দিন সকালে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার অদূরে আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে মুসল্লিবেশে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। পুলিশ-দুর্বৃত্তদের সঙ্গে সংঘর্ষকালে ঘটনাস্থলের পাশের একটি বাড়িতে ঝর্ণা রানী ভৌমিক (৪৫) নামে এক গৃহবধূ রান্না করছিলেন। এমন সময় চারদিকে গোলাগুলির শব্দের এক পর্যায়ে তিনি রান্না ঘর থেকে বের হয়ে শোয়ার ঘরে যাওয়া মাত্রই জানালা দিয়ে একটা গুলি এসে ঠিক মাথায় লাগে তাঁর। এতে ঘরের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। মেঝে ভেসে যায় রক্তে। পরিবারের সদস্যদের তখন তাকিয়ে তাকিয়ে চোখের জলে তাঁর চলে যাওয়া দৃশ্য দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। নিহত গৃহবধূ ওই এলাকার ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী। এদিকে ঘটনার পর থেকে ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

সরেজমিনে উপেন্দ্র ভৌমিক নামে নিহতের এক নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘রুটি বেলবে বলে আটা মাখছে। পোলায় লুঙ্গি চাইছিল। ঝর্ণা রান্নাঘর থেকে সেটা দিতে ঘরে যাওয়া মাত্রই জানালা দিয়া গুলি আইলো। আমরা সবাই তখন মেঝেতে শুইয়া আছিলাম। ক্যামনে কী হইয়া গেল।’

নিহত ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাতেই স্থানীয় সাহাপাড়া শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠের অনতিদূরে চর শোলাকিয়ার সবুজবাগ মহল্লায় ঝর্ণার বাড়িতে এখন চলছে মাতম আর আহাজারি।

এদিকে শনিবার দুপুরে পুলিশের মহাপরির্দক (আইজিপি) শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে হামলায় নিহত ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের বাড়িতে যান। এ সময় আইজিপি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।

অপরদিকে শুক্রবার সকালে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, কিশোরগঞ্জের তিন সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, রাষ্ট্রপতিপুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ও এ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে তারা নিহত গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের বাড়ি গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। এ সময় তাঁদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিহত গৃহবধূর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের জন্য এক লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন।

এর আগে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমদ, জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাসসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ শেষে নিহত গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের পরিবারকে সৎকারের জন্য ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।