১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আগামী সময় কঠিন হলেও উজ্জ্বল ব্রিটেন গড়ব

ইউরোপীয় ইউনিয়নে না থাকলেও ব্রিটেনের জন্য এক উন্নত ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিত করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মে। তাকে এখন দেশটির ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছে। টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি নিজের ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার বিষয়ে আলোচনাকালে দেশটি কঠোর সময় পার করবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। খবর টেলিগ্রাফের।

ব্রিটেনে গত মাসের ২৩ তারিখ অনুষ্ঠিত গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ব্রেক্সিট বা ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় দেয়। এরই প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। অক্টোবরে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। এর আগে তার একজন উত্তরসূরি বাছাই করতে হবে। এক্ষেত্রে দেশটির দীর্ঘ সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার রেকর্ডধারী টেরেসা এবং জুনিয়র জ্বালানিমন্ত্রী আন্ড্রিয়া লিডসাম এই দুজনই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এদের মধ্যে বেশি সংখ্যক এমপির সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন টেরেসা। দুজনের যিনিই প্রধানমন্ত্রী হন না কেন ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের ঐতিহাসিক দায়িত্বটি তাকেই পালন করতে হবে। ব্রিটেন আসলেই ইইউ ছাড়বে কি না তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা বিলম্বিত হওয়ায় অস্বস্তি বাড়ছে ইউনিয়নের মধ্যে। কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, অতি দ্রুত আলোচনা শুরু হওয়া উচিত।

টেরেসা হবেন মার্গারেট থ্যাচারের পর ব্রিটেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থ্যাচার ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৯০ সাল অবধি ক্ষমতায় ছিলেন। রাজনীতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ফ্যাশন সচেতনতার জন্য অনেকেই টেরেসাকে থ্যাচারের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। এ ব্যাপারে টেরেসা বলেন, থ্যাচার ছিলেন একজন অসাধারণ নারী। তবে তিনি একজন ‘নয়া মার্গারেট থ্যাচার’ হবেন না। তাকে যে থ্যাচারের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে এ বিষয়টি তিনি নিজেও অবগত আছেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি কোন নীতি অনুসরণ করবেন তা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন। তিনি আরও বলেন, ব্রিটেনের সাধারণ মানুষ মনে করে তিনি, ইইউর সঙ্গে থেকে যাওয়ার পক্ষপাতী। এ ব্যাপারে টেরেসা বলেন, ভোটাররা যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে তার প্রতি সম্মান দেখানো হবে। ইইউ ছাড়াও ব্রিটেনের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়া সম্ভব।

ইইউ থেকে ব্রিটেনের আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসার সময় দেশের নেতৃত্ব কে দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নিবন্ধিত দেড় লাখ সদস্য সিদ্ধান্ত নেবেন। ইইউ ছাড়ার পর ব্রিটেনের ভবিষ্যত নিয়ে ক্রমে সতর্ক হয়ে উঠছেন টেরেসা। তিনি বলেন, ‘দলে এবং দেশের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রী হলে আমি ব্রেক্সিটের পক্ষে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করব। প্রধানমন্ত্রী হলে যে পাঁচটি প্রতিশ্রুতি টেরেসা দিয়েছেন তার প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী আন্ড্রিয়ার প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে একটি হলো রাজনীতিকে পরিচ্ছন্ন করা। ভিন্ন রাজনৈতিক দল বা তহবিল যোগানদাতাদের সহযোগিতা গ্রহণ না করা।