১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানুষের স্রোত বিনোদন কেন্দ্রে

  • ঈদ আনন্দ

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ ঈদের দিনের বিকেল থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে বাড়তে থাকে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড়। সব মানুষের পদচারণায় মুখর রাজশাহীর বিনোদন স্পট। ঈদের দুদিন পর শনিবারও সকাল থেকে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে এসব বিনোদন কেন্দ্রে। পুরো শহর ফাঁকা থাকলেও তিল ধারনের ঠাঁই মেলেনি বিনোদন স্পটে। বিশেষ করে সব মানুষের স্রোত এখন রাজশাহীর পদ্মা নদী ঘিরে। এছাড়া শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, রাজশাহী শিশুপার্ক ও বিজিবি পার্ক ঘিরে মানুষের যত ব্যস্ততা ছোটাছুটি।

ঈদের নতুর পোশাক পরে পরিবার পরিজনসহ তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোরসহ সকল শ্রেণীর মানুষ ছুটে এসেছে বিনোদন কেন্দ্রে। শনিবার রাজশাহীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ঘোরা, মোবাইলে ছবি তোলা, হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া, নৌকায় ঘুরে বেড়ানো নিয়ে যেন মেতে উঠেছে সবাই। পানিতে পা ডুবিয়ে কেউ চলেছে পদ্মার নতুন পানিতে নৌকা ভ্রমণে। আবার আদরের ছোট্ট সন্তানটিকে নিয়ে এসেছেন মজার মজার খেলাঘর দেখাতে।

রাজশাহীর প্রধান বিনোদন কেন্দ্র বড়কুঠি পদ্মার পার ও বিজিবি’র সীমান্ত অবকাশ নোঙ্গর এলাকায় দেখা যায় উৎসবপ্রেমীদের ঢল। অনেকদিন ব্যস্ত থাকার পর পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়ানোর সুযোগ পেয়ে আনন্দের অনুভূতি জানালেন তারা।

পদ্মাপারের সীমান্ত অবকাশে বেড়াতে এসে সাইফুল জানান, তার আট বছরের মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। এখন পদ্মায় পানি থাকায় নৌকা ভ্রমণে নেমেছেন। নির্মল বাতাসে গা ভাসাচ্ছেন। ভাল লাগছে। শুধু সাইফুল নয়, এমন হাজারো দর্শকের জমায়েতে মুখরিত পদ্মার বিশাল পার।

এদিকে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় সকাল থেকেই বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দূর-দূরান্ত থেকে বাস, ট্রাক, অটোরিকশা রিজার্ভ করে দলে দলে এসেছে বাঘ-ভাল্লুকের ঘরের সামনে। বিভাগের একমাত্র চিড়িয়াখানায় গ্রামাঞ্চলের মানুষের আগমন বেশি লক্ষ্য করা যায়। নগরীর নওদাপাড়ায় শিশু পার্কেও বিনোদনপ্রেমীদের ভিড়।

বরিশালে ৯৯ পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড়

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল থেকে জানান, ঈদ-উল-ফিতরের তৃতীয় দিনেও প্রকৃতির খোঁজে শহরের কোলাহল ছেড়ে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখর ছিল প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্মিত গৌরনদীর শাহী ৯৯ পার্ক। জেলা শহরের বাইরের একমাত্র এ বিনোদন কেন্দ্রে ঈদের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্য়ন্ত অদ্যাবধি প্রতিদিন সকল বয়সের ভ্রমণপিপাসু কমপক্ষে ৫০ হাজার লোকের সমাগম ঘটেছে।

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়িতে ফেরা শহরের মানুষদের কাছে শাহী ৯৯ পার্কটি বিনোদনের নতুন খোরাক জুগিয়েছে। প্রতিদিন এখানে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার ভ্রমণপিপাসুরা পরিবারসহ ছুটে আসেন প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে। বাদ পড়েননি প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারাও। এ বিনোদন কেন্দ্রে আনন্দ উল্লাস করে ভেসে বেড়াচ্ছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সের দর্শনার্থী। এখানে ঈদের ছুটিকে রঙিন করতে উচ্ছ্বাসের কোন কমতি ছিল না।

ষাটগম্বুজে উপচে পড়া ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট থেকে জানান, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে বাগেরহাটের বিশ^ ঐতিহ্য সুন্দরবন, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ, হযরত খানজাহান (রহ) মাজারসহ বিনোদনের স্থানগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। ঈদের দিন বিকেল থেকে এসব স্থানে বাগেরহাটসহ জেলার বাইরের দর্শনার্থীরা আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদ আনন্দে মেতে ওঠে। সারা বছরের ক্লান্তি দূর করতে পবিত্র ঈদ-উল- ফিতরে এসব স্থানে এসে তারা জড়ো হয়।

রাঙ্গামাটিতে রুপালি জলের হাতছানি

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাঙ্গামাটি থেকে জানান, ঈদের পর রাঙ্গামাটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। বর্ষা ঋতুতে কাপ্তাই হ্রদের অনাবিল সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ঈদের পর দিন হতে দেশের নানা স্থান থেকে দলে দলে পর্যটক হুমড়ি খেয়ে পড়েছে রাঙ্গামাটিতে ।

এবার ঈদে লম্বা সরকারী ছুটি হওয়ায় পর্যটকরা কাপ্তই হ্রদে ঘেরা বিভিন্ন পর্যটন স্পট দেখার জন্য অনেকেই সপরিবারে ছুটে এসেছে। পর্যটকদের ভারে মুখরিত রাঙ্গামাটি শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে তিল ধরার ঠাঁই নেই। হোটেলগুলোতে স্থান না পেয়ে অনেক পর্যটক কাপ্তাই ও চট্টগ্রামে গিয়ে হোটেলে স্থান নিয়েছে। এবার স্থানীয় আঞ্চলিক দল বা বিরোধী দলের কোন ধরনের কর্মসূচী না থাকায় পর্যটকরা আগের তুলনায় অনেক বেশি পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটির দিকে ঝুঁকে পড়েছে । এ ব্যাপারে শহরের বড় আবাসিক হোটেল সৈকতের পরিচালক মঈন উদ্দিন সেলিম জানান, এবার রাঙ্গামাটির পরিবেশ পর্যটকদের অনুকূলে রয়েছে। তা ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি তাই এখানে পর্যটকদের আগমন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

নারায়ণগঞ্জে পর্যটকের ঢল

মোঃ খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, ঈদের ছুটিতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ঈদের ছুটির দিনে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী লোকজন ছুটে আসে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। বিশেষ করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পদচারণায় মুখর ছিল বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঈদের দিন থেকে শনিবারও পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল। শহরের বরফকল এলাকার চৌরঙ্গী পার্ক, ফতুল্লার পঞ্চবটির এ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্র্ক, নারায়ণগঞ্জ শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জের আটি এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নির্মিত বিআইডব্লিউটিএর ওয়াকওয়ে (হাঁটাচলার রাস্তা), সোনারগাঁয়ের বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, বাংলার তাজমহল, ঐতিহাসিক পানাম নগরী, বারদির জ্যোতিবসুর বাড়ি, বৈদ্যেরবাজার নদীর ঘাট, কাইকারটেক ব্রিজ ও বুড়িগঙ্গা নদীরপারসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঈদের দিন থেকে শনিবারও দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড় ছিল লক্ষণীয়।

মুক্তারপুর সেতুতে একই দৃশ্য

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া পদ্মার পার, মাওয়া রিসোর্ট ও পদ্মা রিসোর্টসহ মুক্তারপুর সেতু পর্যটকদের কোলাহলে মুখরিত হয়। পদ্মা আর ধলেশ্বরী নদীর নির্মল পরিবেশ দেখতে নারী-পুরুষ ছুটে আসে। পদ্মা পারের মুক্ত বাতাস আর ধলেশ্বরী নদীর সুউচ্চ এই সেতু থেকে নৌকা, লঞ্চ, চাঁদের আলো এবং সূর্যাস্তের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে কার না ভাল লাগে। তাই তো দূর-দূরান্ত থেকে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ সকল পর্যটন কেন্দ্র।