২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সন্ত্রাসী হামলা ॥ ৫০ আদিবাসী পরিবার এলাকা ছাড়া

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, ৯ জুলাই ॥ ‘নির্যাতন, হত্যার হুমকি কোনভাবেই আর সহ্য করতে পারছি না, তাই ছেলেমেয়ে নিয়ে পাড়া ছেড়ে বান্দরবান শহরে চলে এসেছি, কখন নিজ পাড়ায় ফিরতে পারব জানি না।’ চোখ-মুখে চরম আতঙ্কের ছাপ নিয়ে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়া থেকে জেলা শহরে পালিয়ে আসা পাড়াবাসী কথাগুলো বলছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নে তালুকদারপাড়ায় চাঁদাবাজির অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পাহাড়ের দুই সশস্ত্র গ্রুপ। এ সময় উগ্য চাকমা ও বিমল চাকমা নামের দুই সন্ত্রাসী আহত হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিমল চাকমাকে অস্ত্রসহ আটক করে। সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় আদিবাসীদের দায়ী করে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক পাড়াবাসীকে মারধর করে, পরে দফায় দফায় হত্যার হুমকির কারণে তারা বান্দরবান শহরে আশ্রয় নেয়। বেতছড়ার তালুকদারপাড়ার বাসিন্দা অং থোয়াই প্রু মার্মা বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি, কখন এলাকায় ফিরতে পারব আমরা জানি না। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, শহরের ‘হোটেল অতিথি’র একটি রুমে দু’জনের থাকার জন্য দুটি সিট থাকলেও প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা আদিবাসীরা একেকটি রুমে গাদাগাদি করে আছে আট থেকে দশজন। হোটেলের ১০টি রুমে শিশুসন্তান নিয়ে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিন কাটছে তাদের।

তাদের চোখ-মুখে আতঙ্কের ছাপ। ‘কী ঘটেছে সেদিন’- প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। তাদের সবার একটাই কথা- কিছু বললে ওরা আমাদের মেরে ফেলবে। একপর্যায়ে তারা ভীত কণ্ঠে বলেন, বছরের পর বছর আমরা আছি পাড়ায়, তারা (সশস্ত্র সন্ত্রাসী) এলে ভয়ে আমাদের টাকায় রান্না করে খাওয়াই, তবুও যেন একটু শান্তিতে থাকতে পারি। কিন্তু এখন তারাই প্রতিনিয়ত মারধর করে। আর সহ্য করতে না পেরে হুমকির কারণে চলে আসি। বেতছড়ার কারবারি মং পু মার্মা ও উমে প্রু মার্মা বলেন, কিভাবে দিন পার করছি তা বলে বোঝাতে পারব না, এলাকায় ফিরে যেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

স্থানীয়রা জানায়, শহরের অতিথি হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলে ৭০ জন অবস্থান করলেও আরও অন্তত ১৩০ জন জেলা শহরের বিভিন্ন পরিচিত জনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে। মঙ্গলবার তারা এক কাপড়েই শিশুসন্তানদের নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসেন। শহরে আসার পর তারা সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ফোনে একের পর এক হত্যার হুমকি পেয়ে বলেন, এখন আমরা কোথায় যাব। বেতছড়ার বাসিন্দা উচিং মং মার্মা বলেন, আমরা এলাকা ছেড়ে চলে আসার পর তারা (সন্ত্রাসীরা) মোবাইলে ১৫ পাড়াবাসীকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, একজনকে অস্ত্রসহ ধরা হয়েছে, তিনটি মামলা হয়েছে, স্থানীয়দের নিরাপত্তায় যৌথবাহিনীর সদস্য বাড়ানো হচ্ছে।