১৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলাপাড়ায় ৩২ গ্রাম পানির নিচে

  • অপরিকল্পিত ক্লোজার

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ৯ জুলাই ॥ গাববাড়িয়া ক্লোজারটি এখন কলাপাড়ার অন্তত ১৫ হাজার কৃষক পরিবারে গলার ফাঁসে পরিণত হয়েছে। সোনাতলা নদীর সঙ্গে শিববাড়িয়া সংযোগ নদীতে ক্লোজারটি নির্মাণের ফলে তিন দিকের তিনটি শাখা ও সংযোগ নদীতে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ক্লোজারটির ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকার বেড়িবাঁধের ভিতরের খালের পানি নামার ১৯টি সøুইসের পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এসব সøুইস থেকে পানি শুধু ভিতরের খালে ওঠে। কিন্তু নামছে না। কৃষকের কোন কাজে আসছে না। ফলে ডালবুগঞ্জ, ধুলাসার, মিঠাগঞ্জ, মহিপুর ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের ১৫ হাজার কৃষক পরিবারের অন্তত ২০ হাজার একর কৃষি জমি কোমর সমান পানির নিচে। এ জলাবদ্ধতা এখন স্থায়ী সুর্যোগে পরিণত হয়েছে। মৌসুম শেষ হয়ে যাচ্ছে অথচ; আমন বীজতলা করতে পারেনি কোন কৃষক। চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে এসব কৃষকের এ বছরের আমন চাষাবাদ। সব পুকুরের মাছ পর্যন্ত ভেসে গেছে। এ দুরবস্থা চোখে না দেখলে বিশ^াস করানো যাবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড সৃষ্ট এমন বিপর্যয় এখন কৃষকের অন্তত ৫০ হাজার টন ধান উৎপাদন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। মাঝারি ও ক্ষুদ্র কিংবা প্রান্তিক কৃষক পরিবারে হাহাকার শুরু হয়েছে। তাদের একটাই দাবি যেভাবে হোক জলাবদ্ধতা দূর করা হোক। গেল বছর এ ক্লোজারটি করার পর কৃষকরা আন্দোলন শুরু করে। কেটে দেয়ার উদ্যোগ নেয়। তখন পাউবোর স্থানীয় অফিস থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় স্লুইস করে দেয়া হবে। কিন্তু স্লুইস আর করা হয়নি। কৃষকসহ সকল শ্রেণীর মানুষের মন্তব্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই নিজেদের এবং ঠিকাদারের স্বার্থে ক্লোজারটি করে তিনটি শাখা নদী ও সংযোগ নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে কৃষকের। সোনাতলা নদী থেকে ওঠা সংযোগ নদীর গাববাড়িয়া পয়েন্টে এ বছর ক্লোজারটি করা হয়। ফলে সোনাতলা নদীর সঙ্গে সাপুড়িয়া থেকে ডালবুগঞ্জ দিয়ে শিববাড়িয়া চ্যানেলের সঙ্গে সংযোগ ও শাখা নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে একই নদীর তেগাছিয়া বাজার থেকে ডালবুগঞ্জ হয়ে শিববাড়িয়া সংযোগ ও শাখা নদী এবং পেয়ারপুর হয়ে শিববাড়িয়া সংযোগ ও শাখা নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। বেড়িবাঁধ ঘেঁষা এ সংযোগ ও শাখা নদীতে বাঁধের অভ্যন্তরের পানি ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত ১৯টি স্লুইসের পানি নামা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে ক’দিনের টানা বৃষ্টিতে পাঁচটি ইউনিয়নের এক তৃতীয়াংশ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আমন আবাদ পড়েছে অনিশ্চয়তায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এমন অপরিকল্পিত ক্লোজার এখন কৃষকের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়াস্থ নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, স্লুইস করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তবে কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তা জানাতে পারেননি।