২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গী হামলায় চলমান তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ আস্থা রয়েছে

  • মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে প্রেসব্রিফিং

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে ॥ ঢাকার গুলশান রেস্তরাঁ এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের কাছাকাছি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের চলমান তদন্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, ওই তদন্তের পরই স্পষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে, জঙ্গীরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র আলকায়েদা অথবা আইএসের লোক কিনা। আমরা মনে করছি, বাংলাদেশকে তদন্ত শেষ করা পর্যন্ত সময় দেয়া উচিত। আমরা তদন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে দেয়ার পক্ষে। তার আগে কোন মন্তব্য করতে চাই না।

৮ জুলাই শুক্রবার পর্যন্ত টানা ৩দিনের প্রেস ব্রিফিংয়েই উল্লেখযোগ্য সময় অতিবাহিত হয় বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে। সাংবাদিকদের উপর্যুপরি প্রশ্নে বিব্রত না হয়ে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জন কিরবি নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। চলমান সন্ত্রাস দমনের অভিযানে বাংলাদেশ কী ধরনের সহায়তা চেয়েছে কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কোন্ পর্যায়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে কিরবি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহায়তার প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাংলাদেশ কোন সহায়তা নিতে চেয়েছে কিনা আমার কাছে সে ব্যাপারে সর্বশেষ কোন তথ্য নেই। আমি জানাতে চাই যে, বাংলাদেশ এখনও তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এবং আমরা অবশ্যই, জাতিগতভাবে, বাংলাদেশ এবং সারাবিশ্বে আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। অবশ্যই, এটি এমন একটি হুমকি যার কোন সীমানা নেই এবং এই সন্ত্রাসী চক্র চেষ্টা করছে ইরাক ও সিরিয়ার বাইরেও সন্ত্রাস চালিয়ে জনমনে ভীতির সঞ্চার করতে এবং সে কারণেই ৬ দেশের জোট এই চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছি।

গত ৭ জুলাই বৃহস্পতিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়েও একইভাবে জন কিরবি বলেন, ঢাকায় জঙ্গী হামলার ঘটনার সঙ্গে আইএস, না অভ্যন্তরীণ জঙ্গীরা জড়িত, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার তদন্ত করছে। তদন্ত কাজ শেষ হোক, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানাক তদন্তে কী পাওয়া গেছে। তারপরই এ ব্যাপারে মন্তব্য করা যাবে।

পর্যাপ্ত তথ্য না পেয়ে কোন মন্তব্য করা সমীঈন নয় বলেও উল্লেখ করেন কিবরি।

মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতা সংক্রান্ত প্রশ্নেরও জবাব দেন মুখপাত্র। তিনি বলেন, বাংলাদেশে চলমান জঙ্গী হামলা এবং চরমপন্থী সহিংসতার প্রেক্ষাপটে মার্কিন নাগরিকদের সে দেশে ভ্রমণে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একই ধরনের ট্রাভেল এ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। তিনি জানান, ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচলের ব্যাপারে বিধিনিষেধ ও বিশেষ সতর্কতা আরোপ করেছে।

জন কিরবি বলেন, বাংলাদেশে ভ্রমণে ইচ্ছুক মার্কিন নাগরিকরাও যেন দূতাবাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো সতর্কতা অবলম্বন করেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং নিরাপদে থাকার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের নাগরিকদের যতটা সম্ভব তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছি, যাতে তারা ভ্রমণের আগে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এর আগেরদিন ৬ জুলাই বুধবার স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করার কথা জানিয়েছে।