২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গী প্রতিরোধে পাশে থাকবেন বলে জানালেন কূটনীতিকরা

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছে সরকার। দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশী কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। এদিকে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন কূটনীতিকরা।

গুলশানে জঙ্গী হামলায় ১৭ বিদেশী নাগরিকসহ ২০ জন নিহতের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী কূটনীতিকদের ব্রিফ করেন। সেখানে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন মিশনের প্রায় ৫০ জন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনীতিকদের বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ এখন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। আর বাংলাদেশ এ বিষয়ে অন্যান্য দেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যেতে চায়। সরকার জঙ্গীবাদের শিকড় খুঁজে বের করবে বলেও ঢাকায় দায়িত্বরত বিদেশী কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও কূটনীতিকদের জানান মন্ত্রী।

গুলশানে হামলার প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সরকারের অবস্থান ও চিন্তা-ভাবনা কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরেন। যেসব দেশের নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা তাকে ফোন করেছিলেন বা বাংলাদেশের সঙ্গে সহমর্মিতা ও একাত্মতা ঘোষণা করে প্রেস স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতদের কাছ থেকে সন্ত্রাসবাদ দমনে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় সে বিষয়েও পরামর্শ চান।

ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জাত ঢাকায় বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান। এছাড়া জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিন্স ঢাকা শহরে কয়েকটি জায়গা যেমন কয়েকটি রেস্টুরেন্ট বা সুপার মার্কেট যেখানে তার দেশের নাগরিকরা যাতায়াত করেন, সেগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। জার্মানির রাষ্ট্রদূত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সেখানে তাদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ঝুঁকি তৈরি হয় বলে জানান।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, এখন সময় এসেছে সন্ত্রাসবাদ দমনে একসঙ্গে সবাইকে কাজ করার। এজন্য তারা সরকারকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। দুই থেকে তিন মাস আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে বাংলাদেশকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, সে বিষয়টি পুনরায় ব্যক্ত করেন মার্শা বার্নিকাট।

ব্রিফিংয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত মাশাতো ওয়াতানাবে গুলশানের ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে দুই দিনের শোক দিবস ঘোষণার জন্য ধন্যবাদ দেন তিনি। বৈঠকে ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, কানাডা ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতরা বক্তব্য রাখেন।

সূত্র জানায় গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে ব্রিফিংয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। গত পহেলা জুলাই রাতে গুলশান দুই নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কে ওই বেকারিতে হামলা চালায় একদল অস্ত্রধারী জঙ্গী। দেশী-বিদেশী অন্তত ৩৩ জন সেখানে জিম্মি হন। হামলাকারীদের ঠেকাতে গিয়ে বোমায় নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই রেস্তরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্রবাহিনী। ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ২০ জনের লাশ পাওয়া যায় জবাই করা অবস্থায়।

নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানী ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশী, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব ছিল। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গী দল আইএস ওই হামলার দায় স্বীকার করে বার্তা দেয়, সেই সঙ্গে নিহতদের রক্তাক্ত লাশের ছবি তারা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়।