১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিরোপা কার ফ্রান্স, না পর্তুগালের ?

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আজই পর্দা নামবে মাসব্যাপী চলমান ইউরো ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের। বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় স্টেড ডি ফ্রান্স স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক ফ্রান্স ও পর্তুগাল। ১৯৮৪ ও ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ফেবারিট মনে করা হলেও সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল প্রথমবার ইউরো সেরা হওয়ার মুকুট ছিনিয়ে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

সেমিফাইনালে একই ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে ফ্রান্স ও পর্তুগাল। প্রথম সেমিতে বুধবার রাতে ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে পর্তুগাল। ওই ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে পর্তুগীজ ফরোয়ার্ড রোনাল্ডো একটি গোল করেন এবং আরেকটি করিয়েছেন। রোনাল্ডো সেই গোলের মাধ্যমে ইউরো ফুটবলের ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন। মিশেল প্লাতিনি ১৯৮৪ সালে ৫ ম্যাচে ৯ গোল করে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন ফ্রান্সকে। এখন রোনাল্ডোর নামের সঙ্গেও আছে ৯ গোল। আরেকটি গোল করতে পারলেই তিনি ইউরোর ইতিহাসে হয়ে যাবেন সর্বকালের সেরা গোলদাতা। তবে রোনাল্ডো এর আগে খেলেছেন ২০০৪, ২০০৮ ও ২০১২ সালের ইউরো। ১৯৭৫ সালের পর কোন পর্যায়ের প্রতিযোগিতাতেই ফ্রান্সকে হারাতে পারেনি পর্তুগাল। তাই এবার স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে রোনাল্ডোবাহিনীর জয় পাওয়াটাও বেশ দুরূহই মনে করছেন সবাই। কিন্তু রোনাল্ডো আত্মবিশ্বাসী এবার দলকে চ্যাম্পিয়ন করার ব্যাপারে। তিনি বলেন, অবশ্যই কিছুটা বেশি ফেবারিট ফ্রান্স। কিন্তু আমরাই চ্যাম্পিয়ন হবো। আমি ক্লাব ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবকিছুই জিতেছি। পর্তুগীজ দলের হয়ে কিছু জিততে পারলে সেটা হবে সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি বিশ্বাস করি সেটা সম্ভব। সেটা আমার সতীর্থ এবং পুরো দেশই বিশ্বাস করে। ২০০৪ সালে রোনাল্ডোর প্রথম ইউরো মিশন ছিল। সেবার ফাইনালে গ্রীসের কাছে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ১৯ বছরের তরুণ রোনাল্ডোর। এবার অধিনায়ক হিসেবে দেশবাসীকে সেই দুঃখ ভুলিয়ে দিতে আত্মপ্রত্যয়ী সিআর সেভেন।

রোনাল্ডোর বড় প্রতিপক্ষ শুধু শক্তিশালী স্বাগতিক ফ্রান্স ও স্থানীয় দর্শকরাই নয়, ফরাসী ফরোয়ার্ড এ্যান্টোইন গ্রিজম্যানও পর্তুগালের জন্য বড় হুমকি। চলতি আসরে তিনি ৬ গোল করেছেন। এর মধ্যে দুই ম্যাচে জোড়া গোল করে এককভাবেই জিতিয়েছেন তিনি ফরাসীদের। প্লাতিনির পর আর কোন ফুটবলার ইউরোর এক আসরে এত গোল করতে পারেননি। তাই সিআর সেভেনের যোগ্য জবাব হবেন ৭ নম্বর জার্সিধারী ২৫ বছর বয়সী এ তরুন ফরোয়ার্ড। তার জোড়া গোলেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সেমিতে ২-০ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ১৯৮৪ ও ২০০০ সালে দুইবার ফাইনাল খেলে দু’বারই শিরোপা জেতা ফ্রান্স একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে আত্মবিশ্বাসী এবার নিজেদের মাটিতে। এ বিষয়ে দলের অধিনায়ক হুগো লরিস বলেন, আমাদের আরেকটি পদক্ষেপ নিতে হবে যেটা কঠিনতম। কিন্তু সেটা আমরা পাওয়ার যোগ্য। আমার মনে হয় ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাধ্যমেই গত বছর প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শোক থেকে জাতি পালিয়ে বাঁচতে পারবে। সেটা হতেই পারে ফরাসীদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। পুরো দেশই আমাদের পেছনে আছে। আমরাও তাদের জন্য নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। যে দু’বার ফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফরাসিরা সে দু’বারই সেমিতে পর্তুগালকে (১৯৮৪ সালে ৩-২ এবং ২০০০ সালে ২-১) হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। এবার ফাইনালেও প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দিতে আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স। আর ৪১ বছর ধরে পর্তুগীজদের বিরুদ্ধে অপরাজেয় থাকার মধুর পরিসংখ্যানটাও বাড়তি অনুপ্রেরণা স্বাগতিকদের জন্য। দু’দল পরস্পরের বিরুদ্ধে ২৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে পর্তুগালের জয় মাত্র ৫ এবং ফ্রান্সের জয় ১৮! একটি মাত্র ম্যাচ হয়েছে ড্র।