১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গুলশান হামলায় আটক শাওন মারা গেছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জঙ্গী হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আহত অবস্থায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক জাকির হোসেন শাওনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি রেস্তরাঁর কর্মী ছিলেন। জঙ্গীরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে বিদেশীদের। নিহত বিদেশীদের গায়ে নৃশংস আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিরাপত্তাও আগের চেয়ে অনেক জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শাওনের (২২) মৃত্যু হয়। নিহতের পিতা আব্দুস সাত্তার জানান, শাওন প্রায় একবছর ধরে রেস্তরাঁটিতে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করছিল। তার ছেলে কোন অপরাধে জড়িত ছিল না।

গত ১ জুলাই ওই ক্যাফেতে হামলা চালিয়ে দেশী-বিদেশী ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গীরা। পরদিন কমান্ডো অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় সশস্ত্র বাহিনী। অভিযানে ছয় সন্দেহভাজন অস্ত্রধারী নিহত হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় শাওনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছিল পুলিশ। পুলিশ পাহারায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। অভিযানকালে সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডোরা দেশী-বিদেশী ১৩ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

শাওনের খোঁজখবর না পেয়ে ৩ জুলাই বিকেলে রেস্তরাঁটির সামনে যান তার মা মাসুদা বেগম। মোবাইলে ছেলের পাসপোর্ট সাইজের একটি ছবিও দেখান। শাওনের ছোট তিন ভাই আছে।

এদিকে জঙ্গী হামলায় নিহত সাত জাপানীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গ্র্যাজুয়েট ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির নানা খবর প্রকাশকারী হাব-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় নিহত কোয়ো ওগাসাওয়ারা ১৯৯৭ সালে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশ প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর করেন। জাপান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী ওগাসাওয়ারা টোকিওভিত্তিক নির্মাণ পরামর্শক কোম্পানি কাটাহিরা এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্টারন্যাশনালে কর্মরত ছিলেন। ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি।

অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মী হিসেবে মূল্যায়িত হতেন ৫৬ বছর বয়সী ওগাসাওয়ারা। পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণে বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাইকার অনেক প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন ওগাসাওয়ারা। তিনি সহকর্মীদের শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন। তার প্রকল্পগুলোতে ভিয়েতনাম ও ফিলিপিন্সের মতো এশীয় দেশ গুরুত্ব পেত। ওগাসাওয়ারা বাংলাদেশে এসেছিলেন গত ২০ জুন। মঙ্গলবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল।

গুলশানে হলি আর্টিজান থেকে ২০ জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তার মধ্যে ১৭ জনই বিদেশী । নিহতদের মধ্যে জাপানের সাত, ইতালির নয় ও ভারতের এক নাগরিক ছিলেন।

নিহত বিদেশীদের শরীরে নির্মম আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের কুপিয়ে, গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে ইতালীয়দের। কারও কারও লাশ ক্ষত-বিক্ষত করেছে হত্যাকারীরা। নিহত নয় ইতালীয়র মধ্যে সাত জনই বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

লাশগুলোর ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সোহেল মাহমুদ জানান, নিহত বিদেশীদের মধ্যে সাত জনের শরীরে আটটি বুলেট পাওয়া গেছে। নিহতদের মাথা ও ঘাড়ে কোপের চিহ্ন রয়েছে।