১৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিশুপার্ক চিড়িয়াখানা জাদুঘরে বিপুল দর্শনার্থী, উদ্দীপনা

শিশুপার্ক চিড়িয়াখানা জাদুঘরে বিপুল দর্শনার্থী, উদ্দীপনা
  • এখনও ঈদের আমেজ

মোরসালিন মিজান ॥ ঈদের আনন্দে এখনও মুখর রাজধানী। নগরীর উল্লেখযোগ্য পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। ঈদের দিন থেকেই উৎসবের আমেজ। এখনও পরিবার পরিজনসহ শহর ঘুরে বেড়াচ্ছেন অধিকাংশ মানুষ। শিশু পার্ক, চিড়িয়াখানা, জাতীয় জাদুঘর, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্কসহ সকল বিনোদন কেন্দ্রে উৎসব প্রিয় বাঙালী। আতঙ্ক কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি সকলেই যেন প্রাণের সন্ধান করছেন। কবিগুরুর ভাষায়- মোরে আরও আরও আরও দাও প্রাণ...।

শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শিশু পার্ক। এখানে খরচও কম। ঈদের প্রথম দিন থেকেই ভিড় করে আছে শিশু কিশোররা। মাত্র ১০টি রাইড চড়তে আসছে শত শত শিশু। বাবা-মায়ের হাত ধরে খোলা চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকছে পার্ক। শনিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দারুণ আনন্দঘন পরিবেশ। বিভিন্ন বয়সী শিশু-কিশোরদের মিলনমেলা জমে উঠেছে। রোমাঞ্চ চক্র, আনন্দ ঘূর্ণি, উড়ন্ত বিমান, উড়ন্ত নভোযান, ঝুলন্ত চেয়ার, লম্ফঝম্ফ, ব্যাটারি কার, এফ সিক্স জঙ্গী বিমান, রেলগাড়ি ও বিস্ময় চক্র নামের রাইডগুলো নিয়ে সেকি আগ্রহ বাচ্চাদের। একটি রাইড শেষ করেই অন্যটির জন্য লাইন দিতে দেখা যাচ্ছিল তাদের। জিসান নামের এক শিশু তো লাইনে দাঁড়াতে একদমই রাজি নয়। অন্যরা রাইডে চড়ছে। সেদিকে আঙুল দেখিয়ে বলছে- ওরা তো চড়ছে। আমি তাহলে কখন চড়ব? বলেই এক রকম কান্না জুড়ে দিচ্ছে। তাকে শান্ত করার এক ফাঁকে মা শারমীন বললেন, ওর বাবা গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে। আমি একাই নিয়ে এসেছি শিশু পার্কে। প্রথম এসেছে তো। যা দেখছে তাতেই আগ্রহ। ওকে সামলাতে তাই কষ্ট হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এখানে রয়েছে বিশেষ সুযোগ। বিনা টিকেটেই রাইড চড়তে পারছে তারা। সীমা নামের এক কিশোরী একটি ছোট দলের মোটামুটি নেতৃত্ব দিচ্ছিল। সে বলল, ‘আমরা তো ফুল বেচি। সবাই চিনে। এর লাইগ্যা ঢুকতে দিছে। ফিরি। ঈদের ফিরি।’ শিশু পার্ক পরিচালনার দায়িত্বে আছেন সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। তিনি জানান, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার এখানে ৪৩ হাজার দর্শনার্থী প্রবেশ করেছে। দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার ছিল ৪৮ হাজার দর্শনার্থী।

ঈদে ঢাকাবাসীর একটি বড় শ্রোত নেমে যায় চিড়িয়াখানার দিকে। মিরপুরের এই বিশাল এলাকাজুড়ে পশু পাখির রাজ্য। আয়তন প্রায় ৭৫ হেক্টর। এখানে প্রায় ১৩৮ প্রজাতির ২ হাজার ৬২২টি প্রাণী ও পাখি রয়েছে। ঈদের ছুটিতে বহু মানুষ কৌতূহল নিয়ে এসব পশু পাখি দেখছেন। প্রতিদিনের মতোই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকছে চিড়িয়াখানা। ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর দর্শনার্থী। নতুন জামা কাপড় পরে সপরিবারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মোবারক হোসেন নামের এক পুলিশ কনস্টেবল এসেছিলেন স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে। বললেন, ঈদে এবার ছুটি পাইনি। তাই গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয়নি। বাচ্চা দুটোর শখ চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখবে। শুক্রবার হওয়ায় নিয়ে আসতে পেরেছি। এসে মনে হচ্ছে খুব ভাল হয়েছে। বাঘ, সিংহ, জেব্রা, জিরাফ থেকে শুরু করে বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখে ওরা দারুণ খুশি। চিড়িয়াখানার কিউরেটর এস এম নজরুল ইসলাম জানান, ঈদের দিন শুক্রবার দর্শনার্থী ছিল ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ছিল রেকর্ডসংখ্যক ১ লাখ ২০ হাজার দর্শনার্থী। শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১ লক্ষ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে এখন লম্বা লাইন। এতো লম্বা যে, মনে হয় কোন স্কুল কলেজ! আদতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা লাইন দিয়ে টিকেট কাটায় ব্যস্ত। ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার শিশু-কিশোর ও প্রতিবন্ধীরা বিনামূল্যে জাদুঘর ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছে। জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বেলা সাড়ে ১১টা, দুপুর আড়াইটা ও বিকেল সাড়ে ৪টায় দেখানো হচ্ছে চলচ্চিত্র। ঈদের ছুটিতে আশপাশের এলাকা থেকেও প্রচুর দর্শনার্থীরা আসছেন। মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা একটি বাসে ছিল শতাধিক যাত্রী। জাদুঘরের সামনে বাস দাঁড় করিয়ে রেখে শুক্রবার সবাই জাদুঘরে প্রবেশ করেন। একটি স্কুলের পক্ষ থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল এই শিক্ষার্থীদের। শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বললেন, ঈদও হলো। কিছু ইতিহাসও জানা গেল। এ কারণেই ঈদে জাদুঘর পরিদর্শনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী জানান, সারাবছরই প্রচুর মানুষ জাদুঘর দেখতে আসেন। ঈদে সেটা বেড়ে কয়েকগুণ হয়ে গিয়েছে। এ জন্য কর্র্র্মীদের খাটুনি বাড়লেও, তারা খুশি বলে জানান তিনি।

ঢাকার একটু বাইরে হলেও, থিমপার্কগুলো নিয়ে আগ্রহ এখন তুঙ্গে। বিশেষ জনপ্রিয় আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম। আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে ঢল নেমেছে দর্শনার্থীদের। পার্কের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে ফ্যান্টাসি কিংডম। এখানে আছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় রাইড। আছে ওয়েভপুল, লেজি রিভার, টিউব সøাইড, ওয়াটারপুল। সবখানেই ভিড়। হৈ হুল্লোড়।

ঈদের ছুটিতে অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন সাভারের নন্দন পার্কে। পার্কের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জুবায়েদ জানান, ঈদের দিন সকাল থেকেই খোলা আছে পার্ক। এখানে একটি অংশ ওয়াটার ওয়ার্ল্ড। অন্যটি ড্রাই পার্ক। সর্বত্রই ঈদের আনন্দ। এখানেই শেষ নয়, ঈদের পরবর্তি দিনগুলোতে পার্কে লাইভ মিউজিক, ডিজে, ড্যান্স শো ইত্যাদিরও আয়োজন থাকছে।

ফ্যান্টাসি কিংডমের পাশেই হেরিটেজ পার্ক। এখানে বেশি কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা। রেপ্লিকা ধরনের হলেও নিদর্শনগুলো আগ্রহ নিয়ে দেখছেন দর্শনার্থীরা। অনেকেই আবার জায়ান্ট ফেরিস হুইল, পাইরেট শিপ, ড্রাই সøাইড, কফি কাপ, ব্যাটারি কার, ফ্যামিলি ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইডে চড়ছেন।

শ্যামলীর শিশু মেলায়ও চলছে শিশু কিশোরদের হৈ-হুল্লোড়। এখানে প্যারাট্রুপার, ভাইকিং বোট, রেসিং বাইকসহ বেশ কয়েকটা রাইড। মজা করে চড়ছে বাচ্চারা।

পুরনো ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা লালবাগ কেল্লায়ও উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে আশপাশ এলাকার মানুষ এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

সব মিলিয়ে বেশ আনন্দঘন ঈদ উদযাপন। আরও কয়েকদিন এই রেশ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।